ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

ট্রাম্পের সঙ্গে দ্বন্দ্বে বিপদের মুখে নেতানিয়াহু!   

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২০ জুন ২০২৬, ০১:৫৯ পিএম

একসময় তারা ছিলেন যেন একই মুদ্রার দুই পিঠ। ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু একসঙ্গে দেখেছিলেন মধ্যপ্রাচ্যের মানচিত্র বদলে দেওয়ার স্বপ্ন। ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার সময়ও তাদের বিশ্বাস ছিল, তেহরানের শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়বে এবং সেই বিজয়ের ঢেউ ইসরায়েলের রাজনীতিতেও এনে দেবে নতুন শক্তি। কিন্তু কয়েক মাসের রক্তক্ষয়ী সংঘাতের পর এখন যেন উল্টো হয়ে গেছে দৃশ্যপট।

যে যুদ্ধ নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎকে আরও শক্তিশালী করার কথা ছিল, সেটিই এখন তাঁর জন্য নতুন সংকটের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ, যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। অন্যদিকে ইসরায়েল মনে করছে, যুদ্ধের ঘোষিত লক্ষ্যগুলোর কোনোটিই অর্জিত হয়নি পুরোপুরি। বার্তাসংস্থা রয়টার্স এর প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে এই তথ্য।

ইসরায়েলি কর্মকর্তারা অবশ্য প্রকাশ্যে খুব সতর্ক ভাষায় কথা বলছেন। কারণ, ট্রাম্পের সঙ্গে প্রকাশ্য বিরোধে জড়াতে তারা চান না। তবে আড়ালের আলোচনা একেবারেই ভিন্ন। কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা মনে করছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের এই প্রাথমিক সমঝোতা ইসরায়েলের জন্য অত্যন্ত হতাশাজনক।

আরও পড়ুন

মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের তথ্য অনুযায়ী, এই সমঝোতায় লেবাননসহ সব ফ্রন্টে সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয়টি ছিলো যুক্ত। আর এই জায়গাটিই সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি করেছে তেল আবিবে। কারণ, হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান থামাতে ইসরায়েলের নেই কোনো আগ্রহ। বরং দক্ষিণ লেবাননে নিজেদের সামরিক উপস্থিতি ধরে রাখতে চায় দেশটি। এ নিয়েই ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে হয়েছে কয়েক দফা মতবিরোধ। এক পর্যায়ে বৈরুতে হামলা ঠেকাতে গিয়ে ট্রাম্প নাকি এক ক্ষুব্ধ ফোনালাপে নেতানিয়াহুকে ‘পুরোপুরি পাগল’ বলেছিলেন। যদিও পরে নেতানিয়াহু আবার লেবাননে হামলার নির্দেশ দেন। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা পরিস্থিতিকে করে তোলে আরও উত্তপ্ত।

অবশেষে নেতানিয়াহু নিজেও স্বীকার করেছেন, তাঁর ও ট্রাম্পের মধ্যে সব সময় মতের মিল হয় না। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অনেক বিষয়ে দুই নেতা একমত হলেও এমন সময় আসে, যখন মতপার্থক্য তৈরি হয়। আর তাঁর প্রথম দায়িত্ব হলো ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

এরই মধ্যে আগামী অক্টোবরে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচন চলে এসেছে সামনে। জনমত জরিপগুলো নেতানিয়াহুর জন্য দিচ্ছে না সুখবর। আরও বড় বিষয় হলো, ইসরায়েলিদের একাংশের মধ্যেও আস্থা কমতে শুরু করেছে ট্রাম্পের প্রতি। একসময় ট্রাম্পের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককে নিজের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে তুলে ধরতেন নেতানিয়াহু। কিন্তু আজ সেই সম্পর্কই যেন নতুন প্রশ্নের মুখে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, নেতানিয়াহুর সবচেয়ে বড় আশা এখন হয়তো একটাই। সেটি হলো, এই সমঝোতা ব্যর্থ হবে এবং কয়েক মাসের মধ্যে আবার পাল্টে যাবে পরিস্থিতি। কারণ, বর্তমান পরিস্থিতিতে ট্রাম্প ও তেহরানের কাছাকাছি চলে আসা ইসরায়েলের জন্য জন্ম দিয়েছে এক নতুন বাস্তবতার।

আরটিভি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
পূজায় নতুন জামা নয়, বাবাকে খুঁজছে এই শিশুরা!
বাবা, এক বটবৃক্ষের নাম। সন্তানের সবরকম ভাল থাকার উৎস, সেটিই যেন আবারও প্রমাণিত এই বাচ্চাদের কণ্ঠে। চারদিকে যখন বিরাজ করছে পূজার আমেজ তখন এই কোমলমতি শিশুদের চোখে পানি, আর কণ্ঠে আক্ষেপ। এ বছর যেন উৎসবের দিনগুলোতে নতুন জামার চেয়েও বড় অভাব হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের বাবা। তাই আনন্দের সময়ও যেন থামছেই না তাদের কান্না।
পূজায় নতুন জামা নয়, বাবাকে খুঁজছে এই শিশুরা!
স্কুলমাঠে শিশুদের খেলার বদলে সাঁতার কাটছে হাঁস
ভিডিওর এই শিশুরা সবাই প্রাথমিকের শিক্ষার্থী। যাদের এখন সহপাঠীদের সাথে ছুটোছুটি করার কথা বিদ্যালয়ের মাঠে। অথচ পানি জমে থাকায় তারা পারছে না খেলতে, কেউ আবার যেতে পারে না টয়লেটেও। আবার পানি পেরিয়ে ক্লাসে যেতে গিয়ে ভিজে যায় কারও পোশাক। বই-খাতায় লেগে যায় কাদা। অভিযোগের যেন শেষ নেই কোমলমতি এই শিশুদের। 
স্কুলমাঠে শিশুদের খেলার বদলে সাঁতার কাটছে হাঁস
সৌদি রক্ষায় নামছে ফরাসি সেনারা!
হরমুজ সংকটে সৌদি আরবের তেল রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হয়ে উঠেছিল লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর। কিন্তু সেই পথও এখন রয়েছে হামলার ঝুঁকিতে। হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই তেলবন্দর রক্ষায় এবার সৌদি আরবে সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স। শুধু সেনা নয়, সঙ্গে যাচ্ছে রাডার ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থাও।  বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই ঘোষণা দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এর প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে এই তথ্য।  মাখোঁ জানান, ইয়ানবু রক্ষায় সৌদি আরবের সঙ্গে একটি চুক্তি চূড়ান্ত করেছে ফ্রান্স। সেই চুক্তির আওতায় সেখানে পাঠানো হবে ফরাসি সেনাসদস্য, রাডার ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। তবে মাখোঁ একটি বিষয় স্পষ্ট করেছেন। ফরাসি সেনাদের পাঠানো হচ্ছে ইয়ানবু রক্ষার জন্য, চলমান সংঘাতে সরাসরি অংশ নেওয়ার জন্য নয়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে সৌদি আরবের একটি বন্দর রক্ষায়  কেন সেনা পাঠাতে হচ্ছে ফ্রান্সকে? এর পেছনে বড় কারণ হরমুজ প্রণালির চলমান সংকট। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে হরমুজ দিয়ে জ্বালানি পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার পর বিকল্প পথ হিসেবে ইয়ানবুর গুরুত্ব অনেক বেড়ে যায়। সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল থেকে ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল নিয়ে যাওয়া হয় লোহিত সাগরের এই বন্দরে। সেখান থেকে হরমুজ এড়িয়ে সরাসরি তেল পাঠানো সম্ভব আন্তর্জাতিক বাজারে। কিন্তু সম্প্রতি সেই ব্যবস্থাও খেয়েছে বড় ধাক্কা। ইয়েমেনের হুতিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুর পাশাপাশি ইয়ানবুতে আরামকোর স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষও ইয়ানবুসহ বিভিন্ন এলাকার দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে। এর আগে ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের তিনটি পাম্পিং স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এতে ইয়ানবু দিয়ে তেল রপ্তানিও বন্ধ হয়ে যায়। পরে পাইপলাইনটি আবার চালু করা হয়েছে সীমিত পরিসরে।  ফলে ইয়ানবুর নিরাপত্তা এখন শুধু সৌদি আরবের বিষয় নয়। বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রেও বন্দরটির গুরুত্ব বেড়েছে বন্দরটির। আর ফ্রান্সও অনুভব করছে জ্বালানি সংকটের চাপ। মাখোঁ বলেন, আগামী শীতের জন্য ফ্রান্সে পর্যাপ্ত তেল ও গ্যাসের মজুত রয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ করছে তাঁর সরকার। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করার কথা বিবেচনা করছে। এমন খবর সত্য হলে তার ফল বিশ্ব ও মার্কিন অর্থনীতির জন্য বিপর্যয়কর হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। যদিও হোয়াইট হাউস অস্বীকার করেছে এমন কোনো পরিকল্পনার কথা। আরটিভি/এআর 
সৌদি রক্ষায় নামছে ফরাসি সেনারা!
শতবর্ষী এই মুসাফিরখানায় আজও মিলে বিনামূল্যে আশ্রয় ও খাবার
আধুনিকতার ছোঁয়া লাগার আগে বরেন্দ্রভূমির মেঠোপথগুলো কেমন ছিল? সন্ধ্যা নামলেই চারপাশের খাঁ-খাঁ নীরবতা, বন্যপ্রাণীর ভয় আর ডাকাতের উপদ্রব— এমন এক অনিশ্চিত সময়ে ক্লান্ত পথিকের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছিল একটি অনন্য মানবিক উদ্যোগ। প্রায় ১২ যুগ বা ১১৮ বছর ধরে নওগাঁর পোরশার ঐতিহাসিক ‘মুসাফিরখানা’ সেই মানবতার ঐতিহ্যকে পরম যত্নে টিকিয়ে রেখেছে। নিজ সম্পত্তির উপার্জনে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আশ্রয় ও খাবারের এমন দৃষ্টান্ত আধুনিক সমাজেও এক বিরল মানবসেবার বার্তা দেয়।
শতবর্ষী এই মুসাফিরখানায় আজও মিলে বিনামূল্যে আশ্রয় ও খাবার
বুড়িয়ে যাচ্ছে জাপান, প্রবীণদের ভিড়ে কমছে শিশু জন্মহার!
দেশটিতে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সি মানুষের সংখ্যা প্রথমবারের মতো ১ লাখ ছাড়িয়েছে।
বুড়িয়ে যাচ্ছে জাপান, প্রবীণদের ভিড়ে কমছে শিশু জন্মহার!
আরও পড়ুন
নির্বাচনি সমাবেশে ট্রাম্প: ইরানের নেতাদের হত্যা করে ‘বেশি বাড়াবাড়ি’ করে ফেলেছি
জেলেনস্কিকে সরাতে চান ট্রাম্প, রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তিতে তোলপাড় 
সৌদির বিমানবন্দরে হামলার ঘটনায় যুদ্ধে যোগ দেওয়ার ইঙ্গিত ট্রাম্পের
ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞার পর সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে তদন্ত