ঢাকা মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩

আমেরিকার বিরুদ্ধে যে নতুন যুদ্ধপ্রযুক্তি গড়ছে ইরান!

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১২ জুলাই ২০২৬, ০২:৪৭ পিএম

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত যখন বাড়ছে নতুন মাত্রায়। হামলা-পাল্টা হামলায় অস্থির মধ্যপ্রাচ্য। তখন ভবিষ্যতের প্রযুক্তি শক্তি গড়ে তুলতে ব্যস্ত ইরান। ঠিক যেন যুক্তরাষ্ট্রকে টেক্কা দিতে তৈরি করা হচ্ছে এমন ক্ষুদে যোদ্ধা। সেখানে শিক্ষার্থীদের তৈরি ছোট ছোট যুদ্ধ রোবটকে নামানো হচ্ছে মুখোমুখি লড়াইয়ে। আর প্রতিযোগীরা দূর থেকে রিমোটের মাধ্যমে রোবট পরিচালনা করে প্রতিপক্ষের রোবটকে অচল করে দিচ্ছে। তবে এই ছোট্ট প্রতিযোগীতা দেখে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা কম মনে হলেও, অনেক বিশ্লেষকের মতে এমন আয়োজন ভবিষ্যতের প্রযুক্তিগত দক্ষতা গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। আর সেই দক্ষতাই পারে ইরানের শিল্প, গবেষণা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ড্রোন প্রযুক্তি এবং কৌশলগত সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে।

এই দৃশ্য ইরানের রাজধানী তেহরানে চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত টেক অলিম্পিস্কের। দেশটির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এখানে রোবট যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, ড্রোন ও স্মার্ট ডিভাইস তৈরির প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। কারও হাতে রোবটের নকশা, কেউ তৈরি করছে স্বয়ংক্রিয় ড্রোন, আবার কেউ কাজ করছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে। তবে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে রোবটের সঙ্গে রোবটের মুখোমুখি লড়াই। যেখানে শিক্ষার্থীদের তৈরি যুদ্ধধর্মী রোবটগুলো কতটা কার্যকর তা প্রমাণ হয়ে যায়।

আরও পড়ুন

আর প্রতিযোগীরাও জানান, রোবটের নকশার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো যিনি সেটিকে পরিচালনা করেন। কারণ আক্রমণ কখন, কোথায় ও কীভাবে হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেন অপারেটরই।

অন্যদিকে আরেক প্রতিযোগী জানান, এই প্রযুক্তি শেখার পথে সবচেয়ে বড় বাধা ছিল শিক্ষাসামগ্রীর অভাব। ফারসি ভাষায় প্রায় কোনো উপকরণই ছিল না। এমনকি ইংরেজিতেও প্রয়োজনীয় তথ্য ছিল খুব সীমিত। তাই অনেক কিছুই নিজেদের গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে শিখতে হয়েছে। পরে তাদের ড্রোনকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে উড্ডয়ন, নির্ধারিত পথে উড়ে আবার নিরাপদে অবতরণ করানোর চ্যালেঞ্জেও সফল হয়েছেন তারা।

এদিকে দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ইরানের প্রযুক্তি খাতকে নানা সীমাবদ্ধতার মুখে ফেললেও দেশটি এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স, ড্রোন ও সাইবার প্রযুক্তিতে আঞ্চলিক শক্তি হয়ে ওঠার লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে। আর সেই লক্ষ্য পূরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এমন প্রতিযোগিতাকে ভবিষ্যতের প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পরীক্ষাগার হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আরটিভি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বুড়িয়ে যাচ্ছে জাপান, প্রবীণদের ভিড়ে কমছে শিশু জন্মহার!
দেশটিতে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সি মানুষের সংখ্যা প্রথমবারের মতো ১ লাখ ছাড়িয়েছে।
বুড়িয়ে যাচ্ছে জাপান, প্রবীণদের ভিড়ে কমছে শিশু জন্মহার!
আলো আর সুরের মায়াজালে জীবন্ত হয়ে উঠল প্রাচীন সমাধি
একটি পাহাড়ি টিলা, যেখানে ভেসে উঠে নানা নকশা, ছুটে চলা হরিণের অবয়ব আর রঙ্গিন আলোর খেলা। আর তা দেখেই অবাক দর্শকরা, অনেকেই আবার ব্যস্ত হয়ে পড়লেন ছবি তুলতে।
আলো আর সুরের মায়াজালে জীবন্ত হয়ে উঠল প্রাচীন সমাধি
যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দামে রেকর্ড; স্টেশনের ডিসপ্লেতেই জায়গা হচ্ছে না সংখ্যার! 
ডিজেলের দাম এতটাই বেড়েছে যে, পাম্পের ডিজিটাল ডিসপ্লেতেই আর বাড়তি দাম দেখানোর জায়গা নেই কোনো! ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রেও হু হু করে বাড়ছে জ্বালানির দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দামে রেকর্ড; স্টেশনের ডিসপ্লেতেই জায়গা হচ্ছে না সংখ্যার! 
তেল নয়, এবার মদিনার মাটির নিচে মিলল মূল্যবান খনিজ
তেলের দেশ হিসেবেই বিশ্বজুড়ে পরিচিত সৌদি আরব। কিন্তু এবার সেই সৌদির মাটির নিচে মিলেছে আরেক বিশাল সম্পদ। আর জায়গাটিও বেশ পরিচিত—পবিত্র দিনা অঞ্চল। সেখানে প্রায় ১১০ মিলিয়ন টন আকরিক সম্পদের সন্ধান পাওয়ার কথা জানিয়েছে দেশটি। যার মধ্যে রয়েছে মূল্যবান বিরল মৃত্তিকা খনিজ, সঙ্গে ইউরেনিয়ামের আশাব্যঞ্জক উপস্থিতি। সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান জানিয়েছেন, মদিনা অঞ্চলের জাবাল সাইদ প্রকল্পে অনুসন্ধান ও ভূতাত্ত্বিক গবেষণায় এই খনিজ সম্পদের সন্ধান মিলেছে। ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সাধারণ সম্মেলনে তিনি জানান, এখানে উচ্চ ঘনত্বের বিরল মৃত্তিকা খনিজের পাশাপাশি রয়েছে আশাব্যঞ্জক মাত্রায় ইউরেনিয়াম। নামটা ‘বিরল মৃত্তিকা’ হলেও আধুনিক বিশ্বে এসব খনিজের গুরুত্ব অনেক। বৈদ্যুতিক গাড়ি, স্মার্টফোন, শক্তিশালী চুম্বক, বায়ু বিদ্যুৎ থেকে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই প্রয়োজন হয় এসব উপাদানের। আর ইউরেনিয়াম ব্যবহৃত হয় পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের জ্বালানি হিসেবে। জাবাল সাইদে ডিসপ্রোসিয়াম ও টারবিয়ামের মতো প্রায় ৫ লাখ ৫২ হাজার টন ভারী বিরল মৃত্তিকা খনিজ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি নিওডিমিয়াম ও প্রেসিওডিমিয়ামের মতো হালকা বিরল মৃত্তিকা খনিজের পরিমাণ প্রায় ৩ লাখ ৫৫ হাজার টন। একই এলাকায় প্রায় ৩১ হাজার টন ইউরেনিয়ামের মজুত থাকার কথাও উঠে এসেছে বিশ্লেষণে। এই আবিষ্কার সামনে এলো এমন সময়ে, যখন তেলের বাইরেও অর্থনীতির নতুন ক্ষেত্র তৈরিতে খনিজ সম্পদের দিকে নজর বাড়াচ্ছে সৌদি আরব। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত খনি কোম্পানি মা'আদেন গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উত্তোলন ও প্রক্রিয়াকরণে বাড়াচ্ছে আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতাও এগিয়েছে। সৌদি ও মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রীর মধ্যে হওয়া চুক্তি দীর্ঘমেয়াদি পারমাণবিক সহযোগিতার ভিত্তি তৈরি করেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন জ্বালানি দপ্তর। তেল এতদিন সৌদি আরবের সম্পদের সবচেয়ে বড় পরিচয়। এবার মদিনার জাবাল সাইদের মাটির নিচে পাওয়া বিরল খনিজ ও ইউরেনিয়ামের সম্ভাবনা সেই পরিচয়ে যোগ করতে পারে নতুন এক অধ্যায়।  আরটিভি/ এসকেডি  
তেল নয়, এবার মদিনার মাটির নিচে মিলল মূল্যবান খনিজ
প্রায় ২শ’ বছর পরও দাঁড়িয়ে জমিদারদের মসজিদ-পুকুরঘাট
ভাঙা দেয়াল, খসে পড়া পলেস্তারা আর সময়ের ক্ষয়ে জীর্ণ হয়ে যাওয়া ভবন। দেখে এখন হয়তো বোঝার উপায় নেই, একসময় এখানেই ছিল জমিদারদের প্রভাব আর জৌলুশ। সেই সময় পেরিয়েছে বহু আগেই। তবে প্রাসাদের ধ্বংসাবশেষ, পুরোনো মসজিদ, বাঁধানো পুকুরঘাট আর পারিবারিক কবরস্থান এখনো ধরে রেখেছে সেই ইতিহাসের কিছু চিহ্ন। চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরের রূপসা গ্রাম। এখানেই রয়েছে ঐতিহ্যবাহী রূপসা জমিদারবাড়ি। মূল প্রাসাদের অনেক অংশ এখন আর অক্ষত নেই। তবে টিকে থাকা বিভিন্ন স্থাপনা দেখতে এখনো এখানে আসেন দর্শনার্থীরা। জমিদারবাড়ির ইতিহাস নিয়েও রয়েছে আগ্রহ। ফরিদগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের তথ্যে মোহাম্মদ গাজী ও তাঁর উত্তরসূরি আহমেদ গাজী চৌধুরীর নাম পাওয়া যায়। তবে স্থানীয় ইতিহাসভিত্তিক বিভিন্ন সূত্রে প্রতিষ্ঠার ইতিহাস ও নাম নিয়ে কিছুটা ভিন্ন তথ্যও রয়েছে। এখানকার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পুরোনো মসজিদ। স্থানীয় সংবাদসূত্রে এটি ‘মসজিদে নূর’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সূত্রের দাবি, মসজিদটি প্রায় দুই শতাব্দীর পুরোনো এবং ১২৮৪ বঙ্গাব্দে জমিদার মোহাম্মদ গাজী চৌধুরী এটি নির্মাণ করেন।  মসজিদের পাশেই রয়েছে জমিদার পরিবারের কবরস্থান। পুরোনো কবর ও ফলকে এখনো পাওয়া যায় পরিবারের কয়েক প্রজন্মের স্মৃতি। কাছেই রয়েছে বাঁধানো পুকুরঘাট, যা জমিদারি আমলের জীবনযাত্রার আরেকটি চিহ্ন। সময়ের সঙ্গে রূপসা জমিদারবাড়ির অনেক স্থাপনাই ক্ষয়ে যাচ্ছে। কোথাও দেয়াল ভেঙেছে, কোথাও হারিয়ে যাচ্ছে পুরোনো কাঠামোর চিহ্ন। ফলে ঐতিহাসিক এই স্থাপনা সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তাও সামনে আসছে। জমিদার নেই, নেই সেই সময়ের জৌলুশও। পড়ে আছে শুধু কিছু ভবন, মসজিদ, পুকুরঘাট আর কবরস্থান। সময়ের সঙ্গে এগুলোও হারিয়ে গেলে হারিয়ে যাবে রূপসার ইতিহাসের দৃশ্যমান একটি অধ্যায়।  আরটিভি/ এসিকেডি  
প্রায় ২শ’ বছর পরও দাঁড়িয়ে জমিদারদের মসজিদ-পুকুরঘাট
আরও পড়ুন
হোয়াইট হাউসে প্রবেশাধিকার ফিরে পেতে সিএনএনসহ তিন সংবাদমাধ্যমের মামলা
ফ্লোরিডায় ছুরিকাঘাত, গ্রেপ্তার ৪১ বছরের যুবক
জর্জিয়ায় হাই স্কুলের ফুটবল ম্যাচে বর্ণবাদী আচরণের অভিযোগ, তদন্তে যা মিলল
টেক্সাসের গভর্নর নির্বাচনে নতুন মোড়, জরিপে এগিয়ে হিনোজোসা