ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত যখন বাড়ছে নতুন মাত্রায়। হামলা-পাল্টা হামলায় অস্থির মধ্যপ্রাচ্য। তখন ভবিষ্যতের প্রযুক্তি শক্তি গড়ে তুলতে ব্যস্ত ইরান। ঠিক যেন যুক্তরাষ্ট্রকে টেক্কা দিতে তৈরি করা হচ্ছে এমন ক্ষুদে যোদ্ধা। সেখানে শিক্ষার্থীদের তৈরি ছোট ছোট যুদ্ধ রোবটকে নামানো হচ্ছে মুখোমুখি লড়াইয়ে। আর প্রতিযোগীরা দূর থেকে রিমোটের মাধ্যমে রোবট পরিচালনা করে প্রতিপক্ষের রোবটকে অচল করে দিচ্ছে। তবে এই ছোট্ট প্রতিযোগীতা দেখে শিক্ষার্থীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা কম মনে হলেও, অনেক বিশ্লেষকের মতে এমন আয়োজন ভবিষ্যতের প্রযুক্তিগত দক্ষতা গড়ে তোলার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। আর সেই দক্ষতাই পারে ইরানের শিল্প, গবেষণা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ড্রোন প্রযুক্তি এবং কৌশলগত সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করতে।
এই দৃশ্য ইরানের রাজধানী তেহরানে চার দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত টেক অলিম্পিস্কের। দেশটির বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এখানে রোবট যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, ড্রোন ও স্মার্ট ডিভাইস তৈরির প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। কারও হাতে রোবটের নকশা, কেউ তৈরি করছে স্বয়ংক্রিয় ড্রোন, আবার কেউ কাজ করছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে। তবে সবচেয়ে বেশি নজর কাড়ে রোবটের সঙ্গে রোবটের মুখোমুখি লড়াই। যেখানে শিক্ষার্থীদের তৈরি যুদ্ধধর্মী রোবটগুলো কতটা কার্যকর তা প্রমাণ হয়ে যায়।
আর প্রতিযোগীরাও জানান, রোবটের নকশার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো যিনি সেটিকে পরিচালনা করেন। কারণ আক্রমণ কখন, কোথায় ও কীভাবে হবে, সেই সিদ্ধান্ত নেন অপারেটরই।
অন্যদিকে আরেক প্রতিযোগী জানান, এই প্রযুক্তি শেখার পথে সবচেয়ে বড় বাধা ছিল শিক্ষাসামগ্রীর অভাব। ফারসি ভাষায় প্রায় কোনো উপকরণই ছিল না। এমনকি ইংরেজিতেও প্রয়োজনীয় তথ্য ছিল খুব সীমিত। তাই অনেক কিছুই নিজেদের গবেষণা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে শিখতে হয়েছে। পরে তাদের ড্রোনকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে উড্ডয়ন, নির্ধারিত পথে উড়ে আবার নিরাপদে অবতরণ করানোর চ্যালেঞ্জেও সফল হয়েছেন তারা।
এদিকে দীর্ঘদিনের আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা ইরানের প্রযুক্তি খাতকে নানা সীমাবদ্ধতার মুখে ফেললেও দেশটি এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স, ড্রোন ও সাইবার প্রযুক্তিতে আঞ্চলিক শক্তি হয়ে ওঠার লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে। আর সেই লক্ষ্য পূরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের এমন প্রতিযোগিতাকে ভবিষ্যতের প্রযুক্তি উদ্ভাবনের পরীক্ষাগার হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আরটিভি/এআর



