দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে বাংলাদেশ সফর বাতিল করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। যার ফলে আসন্ন এশিয়া কাপের প্রস্তুতি সারতে নেদারল্যান্ডসকে আমন্ত্রণ জানায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। ধারণা করা হচ্ছিল, এই সিরিজ দিয়ে এশিয়া কাপের স্কোয়াডে থাকা ক্রিকেটারদের সমর্থের পরীক্ষা নেবে টাইগার ম্যানেজমেন্ট।
সংবাদ সম্মেলনেও এমনই বলেছিলেন টাইগার অধিনায়ক লিটন কুমার দাস। সিরিজ শুরুর আগে তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা জানি আবুধাবি ব্যাটিং সহায়ক উইকেট, সিলেটও অনেকটাই ব্যাটিং সহায়ক। এখানে মিল থাকবে। ২০০-২৫০ রান করতে পারলে খুবই ভালো, না পারলেও চেষ্টা করব সেখানে কিভাবে পৌঁছানো যায়।’
লিটনের এই কথায় বোঝা যায়, এশিয়া কাপকে সামনে রেখে বড় স্কোর করার প্র্যাকটিসটা নেদারল্যান্ডস সিরিজ থেকে শুরু করতে চান তারা। কিন্তু সিরিজ মাঠে গড়াতেই দেখ গেল ভিন্ন চিত্র। প্রথম দুই ম্যাচেই টস জিতে আগে ফিল্ডিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন লিটন।
নিজের বলা ২০০-২৫০ স্কোর করার সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাননি তিনি। বরং বেছে নিয়েছেন আত্মরক্ষার পথ। গত এক দশক ধরেই বাংলাদেশের ক্রিকেটে প্রভাব বিস্তার করে আসছে টাইগার বোলাররা। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তারা আরও ভয়ংকর রূপ ধারণ করেছে। সেই হিসেবে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে তাসকিন-মোস্তাফিজরা ফেভারিটই ছিল।
কিন্তু সবশেষ ওয়ানডে বিশ্বকাপ থেকে প্রতিটি টুর্নামেন্টেই বাংলাদেশের ব্যর্থতার মূল কারণ ছিল ব্যাটিংয়ে ভালো না করা। তাই এশিয়া কাপের আগে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে হৃদয়-জাকেরদের ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ ছিল। অথচ সেই সুযোগ কাজে না লাগিয়ে সিরিজ জয়কে প্রধান লক্ষ্য করে পরিকল্পনা সাজিয়েছে টাইগার টিম ম্যানেজমেন্ট।
তাই প্রথম ম্যাচে টস জিতে আগে বল করতে নেমে ডাচদের ১৩৬ রানেই গুটিয়ে দেন তাসকিন-মোস্তিফজরা। জবাব দিতে নেমে ৩৯ বল এবং ৮ উইকেট হাতে থাকতেই জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ।
দ্বিতীয় ম্যাচেও টস জিতে আগে বল করার সিদ্ধান্ত নেই টাইগাররা। সেখানেও স্বাগতিক বোলারদের দাপট, মাত্র ১০৩ রানেই গুঁটিয়ে যায় সফরকারীরা। দ্বিতীয় ম্যাচে মাত্র ১০৩ রান করে ডাচরা। এই ম্যাচেও ৯ উইকেটের সহজ জয় পায় টাইগাররা।
অথচ এই দুই ম্যাচে আগে ব্যাট করে বড় স্কোর করতে পারত বাংলাদেশ। এতে এশিয়া কাপের আগে ব্যাটে রান আসলে আত্মবিশ্বাস নিয়ে আরব আমিরাতে যাওয়ার সুযোগ ছিল। তবে প্রস্তুতির সিরিজকে এশিয়া কাপের বাছাই পর্বের মতো গুরুত্ব দিয়েছে লিটন বাহিনী।
আরটিভি/এসআর





