ফুটবল ম্যাচে ফাউল করলে লাল কার্ড হরহামেশাই দেখা যায়। ম্যাচে একের অধিক লাল কার্ড হলে সেটি অস্বাভাবিক মনে হয়। কিন্তু এবার সব রেকর্ড ভেঙে গেছে। দক্ষিণ আমেরিকার দেশ দক্ষিণ বলিভিয়ার ক্লাব ফুটবলের টুর্নামেন্ট কোপা বলিভিয়ার একটি ম্যাচে দুই দল মিলিয়ে মোট ১৭টি লাল কার্ড দেখেছে।
প্রতিযোগিতার কোয়ার্টার ফাইনালে রেফারির শেষ বাঁশি বাজার পরই রীতিমতো রণক্ষেত্রে রূপ নেয় মাঠ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে টিয়ার গ্যাস পর্যন্ত ব্যবহার করতে হয়েছে।
গত মঙ্গলবার কোপা বলিভিয়ায় প্রতিযোগিতায় মুখোমুখি হয় ব্লুমিং ও রিয়াল অরুরো। ২-২ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচ শেষ হতেই ভয়াবহ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন দুই দলের ফুটবলার ও স্টাফরা। কোনোভাবেই তাদের থামাতে না পেরে পুলিশ টিয়ার শেল ছুড়তে বাধ্য হয়। গুরুতর আহত হয়েছে অনেকে।
এক কোচকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে, আর এক কর্মকর্তা মুখের হাড় ভেঙে গেছে। কোয়ার্টার ফাইনালের দ্বিতীয় লেগ ২-২ গোলে ড্র হলেও দুই লেগ মিলিয়ে এগিয়ে থেকে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে ব্লুমিং। তবে ম্যাচ জয়ের আনন্দ উদযাপন করতে না করতেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
বলিভিয়ার সংবাদমাধ্যম ‘এল পোতোসি’ প্রতিবেদন অনুযায়ী, অরুরোর ফুটবলার সেবাস্তিয়ান জেবালোস প্রথমে সংঘর্ষের সূত্রপাত ঘটান। ব্লুমিংয়ের খেলোয়াড়রা তাকে আটকানোর আপ্রাণ চেষ্টা করলেও মুক্ত করে অন্যদের ধাক্কা দেন তিনি।
এরপর জেবালোসের সতীর্থ হুলিও ভিলাও মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন এবং প্রতিপক্ষের এক ফুটবলারকে ঘুষি মেরে বসেন। আর তাতেই সঙ্গে সঙ্গে পুরো মাঠে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। ওরুরোর কোচ মার্সেলো রবলেদোও ক্ষিপ্ত হয়ে ব্লিভিয়ান জাতীয় দলের এক কোচের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান এবং ধাক্কা খেয়ে পিছনে পড়ে যান।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রবলেদো কাঁধের আঘাত এবং মাথায় আঘাত পেয়েছেন এবং হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রায় ২০ জন পুলিশ কর্মকর্তা হস্তক্ষেপ করেন। ব্লুমিং কোচ মাউরিসিও সোরিয়া তার খেলোয়াড়দের ড্রেসিং রুমে নিয়ে গিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করেন।
অফিসিয়াল ম্যাচ রিপোর্ট অনুযায়ী ব্লুমিং-এর সাত জন খেলোয়াড়, অরুরোর ৪ জন খেলোয়াড়কে লাল কার্ড দেখানো হয়েছে। উভয় দলের কোচ ও সহকারীও লাল কার্ড পেয়েছেন। মোট ১৭ জনকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
আরটিভি/এসআর



