বিপিএলের দ্বাদশ আসরের নিলাম তালিকা প্রকাশ হতেই সবচেয়ে বড় আলোচনার জন্ম দেয় অভিজ্ঞ দুই ক্রিকেটার এনামুল হক বিজয় ও মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের অনুপস্থিতি। শুধু সমর্থকরাই নয়, ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর ভেতরেও প্রশ্ন উঠতে থাকে এদের নাম রাখা হয়নি কেন?
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে সেই প্রশ্নের উত্তর দিলেন বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্য সচিব ইফতেখার রহমান মিঠু। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন বিসিবি নিয়মে কোনো ছাড় নেই, সন্দেহ থাকলে কাউকে নিলামে রাখা হবে না।
মিঠু জানান, ফিক্সিং সন্দেহে কয়েকজন ক্রিকেটারের নাম লাল তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। তিনি বলেন, যতক্ষণ দায় প্রমাণিত না হয়, কাউকে দোষী বলা যাবে না। তবে লাল তালিকায় যারা আছে, তারা নিলামে থাকতে পারবে না। আমরা জিরো টলারেন্স নীতি মেনেই এগোচ্ছি।
ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকেও দেওয়া হয়েছে কড়া নির্দেশনা। হোটেল, ড্রেসিংরুম ও দলের আশপাশে যাদের থাকা লাগবে, সবার পূর্ণাঙ্গ তালিকা আগেভাগে জমা দিতে হবে। সেই তালিকারও ছাড়পত্র দিতে হবে বিসিবির দুর্নীতি দমন ইউনিটকে।
নিলামে নাম না থাকায় বিজয় ও মোসাদ্দেকদের অসন্তোষ প্রকাশ নিয়ে প্রশ্ন উঠলে মিঠুর সুর ছিল কঠোর। তিনি বলেন, তারা প্রতিক্রিয়া দেখাতেই পারে। কিন্তু কাকে নিলামে নেব, কাকে নেব না এটা গভর্নিং কাউন্সিলের এখতিয়ার। লাল তালিকায় থাকলে আমরা রাখব না।
তার মতে, নিলামে স্থান পাওয়া কোনো স্বয়ংক্রিয় অধিকার নয়। বিদেশি হিসেবে ৫০০ জন আবেদন করলেও নেওয়া হয়েছে মাত্র ২৬০ জন একই নীতি স্থানীয়দের ক্ষেত্রেও প্রয়োগ করা হচ্ছে।
বিসিবির অবস্থান, কাউকে আগে থেকেই দোষী ভাবা হচ্ছে না। তবে অ্যালেক্স মার্শালের নেতৃত্বে শীর্ষ বিশেষজ্ঞদের হাতে থাকা তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকি নিতে রাজি নয় বোর্ড।
মিঠুর ভাষায়, আমরা বলছি না তারা দোষী। কিন্তু তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাদের খেলতে দিলে ভুল বার্তা যাবে।
বিপিএলের মতো জনপ্রিয় টুর্নামেন্ট ঘিরে এমন কঠোর সিদ্ধান্ত স্বাভাবিকভাবেই আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে বিসিবির বার্তা পরিষ্কার বিশ্বাসযোগ্যতা ও স্বচ্ছতার জায়গায় কোনো আপস নেই।
বিজয়–সৈকতদের ভবিষ্যৎ এখন পুরোপুরি নির্ভর করছে চলমান তদন্তের ওপর। বিসিবি চাইছে মাঠের ক্রিকেট থাকুক সন্দেহমুক্ত, প্রতিযোগিতামূলক ও বিশ্বাসযোগ্য।
আরটিভি/এসকে




