সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে কেন্দ্রীয় চুক্তিভুক্ত ক্রিকেটারদের জন্য কঠোর বার্তা দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)। চুক্তির শর্ত ভঙ্গ, বিতর্কিত পোস্ট এবং অনিয়ন্ত্রিত অনলাইন কর্মকাণ্ড ঠেকাতে বোর্ড এখন কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী পিসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তিভুক্ত কোনো ক্রিকেটার বোর্ডের মিডিয়া বিভাগের পূর্বানুমতি ছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কোনো পোস্ট করতে পারবেন না। শুধু ক্রিকেটারই নন, তাদের ব্যক্তিগত ম্যানেজারদেরও এ বিষয়ে সতর্ক করা হয়েছে।
পিসিবি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, খেলোয়াড়দের সব ধরনের জনসম্মুখে বক্তব্য এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে। বিশেষ করে রাজনৈতিক কোনো পোস্ট বা ইঙ্গিতপূর্ণ মন্তব্য কোনো অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য হবে না। বোর্ডের মতে, এমন কোনো পোস্ট শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হলে বড় অঙ্কের জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে।
সম্প্রতি পাকিস্তান জাতীয় দলের পেসার নাসিম শাহর বিরুদ্ধে ২ কোটি পাকিস্তানি রুপি জরিমানা আরোপের পরই পিসিবির এই কঠোর অবস্থান সামনে আসে। ২৩ বছর বয়সী এই পেসার পাঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী মরিয়ম নেওয়াজকে ঘিরে বিতর্কিত একটি পোস্টের কারণে শাস্তির মুখে পড়েন।
পিসিবির তদন্তে দেখা যায়, তিন সদস্যের শৃঙ্খলা কমিটির শুনানির পর নাসিম শাহ তার কেন্দ্রীয় চুক্তির একাধিক ধারা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নীতিমালা লঙ্ঘন করেছেন। যদিও তিনি নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং তার সোশ্যাল মিডিয়া উপদেষ্টার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করেন, তবুও বড় অঙ্কের জরিমানা থেকে রেহাই পাননি।
ঘটনার সূত্রপাত চলমান পাকিস্তান সুপার লিগ (পিএসএল) ১১তম আসরের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে। লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মরিয়ম নেওয়াজ।
অনুষ্ঠানে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নাকভি মরিয়ম নেওয়াজকে স্বাগত জানাতে এবং ফ্র্যাঞ্চাইজি মালিক ও খেলোয়াড়দের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিতে দেখা যায়। এর কিছুক্ষণ পরই নাসিম শাহর এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে একটি পোস্ট করা হয়। সেখানে লেখা ছিল, তাকে কেন লর্ডসে রানির মতো আচরণ করা হচ্ছে? যা দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দেয়।
পরবর্তী সময়ে নাসিম শাহ দাবি করেন, তার অ্যাকাউন্টটি হ্যাক হয়েছিল। তিনি জানান, তার এক্স অ্যাকাউন্টে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করা হয়েছিল, যদিও পরে সেটি পুনরুদ্ধার করা হয়েছে।
তবে পিসিবি বিষয়টিকে হালকাভাবে নেয়নি। বোর্ডের অবস্থান স্পষ্ট চুক্তিভুক্ত ক্রিকেটারদের অনলাইন আচরণ এখন থেকে আরও নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। প্রয়োজনে কঠোর শাস্তিও দেওয়া হবে।
সব মিলিয়ে ক্রিকেটারদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারে শৃঙ্খলা ফেরাতেই এই নতুন কড়াকড়ি আরোপ করেছে পিসিবি। বোর্ডের বার্তা পরিষ্কার জাতীয় দলের প্রতিনিধিত্ব করা ক্রিকেটারদের মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি অনলাইন উপস্থিতিতেও পেশাদার ও দায়িত্বশীল হতে হবে।
আরটিভি/এসকে



