বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য সাকিব আল হাসান জানিয়েছেন, আইনি প্রক্রিয়ায় হয়রানি না করার নিশ্চয়তা পেলে তিনি দ্রুতই দেশে ফিরতে প্রস্তুত।
সম্প্রতি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমি আইনের মুখোমুখি হতে চাই, কিন্তু আমার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। বিশেষ কোনো প্রটোকল চাই না, শুধু সাধারণ নাগরিক হিসেবে আইনি প্রক্রিয়ার সময় হয়রানি না করার নিশ্চয়তা চাই। এই নিশ্চয়তা কাল দেওয়া হলে আমি পরশুই দেশে ফিরব।
রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়েও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন এই অলরাউন্ডার। তিনি জানান, ক্রিকেট ক্যারিয়ার শেষে পুরোপুরি রাজনীতিতে সময় দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে তার। দল পরিবর্তনের বিষয়ে তিনি বলেন, আমার পল্টি দেওয়ার অভ্যাস নেই। ছোট দলেও খেলেছি, সেখানেও অনুগত ছিলাম।
বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করে তিনি বলেন, কোনো দলকে দীর্ঘ সময় নিষিদ্ধ করে রাখা গণতান্ত্রিক চর্চার পরিপন্থী। তার মতে, জোর করে দমন করে রাখলে দেশের বা রাজনীতির উন্নতি হয় না।
রাজনীতিতে প্রতিহিংসার সংস্কৃতি বন্ধ করার আহ্বান জানিয়ে সাকিব বলেন, একই ভুলের পুনরাবৃত্তি হলে এই চক্র চলতেই থাকবে। কাউকে না কাউকে এই ধারা শেষ করতে হবে।
নিজ নির্বাচনী এলাকা মাগুরা নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। সুষ্ঠু নির্বাচন হলে জনগণ তাকে আবারও সমর্থন দেবে বলে বিশ্বাস তার। তবে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি ও দলের সিদ্ধান্তের কারণে নির্বাচনে অংশ নেওয়া সম্ভব হয়নি বলে জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে মাগুরা-১ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন সাকিব আল হাসান। তবে আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে হত্যা মামলা, চেক জালিয়াতি ও শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।
এসব মামলার আইনগত মোকাবিলা করতে আগ্রহী হলেও দেশে ফেরার ক্ষেত্রে প্রধান বাধা হিসেবে তিনি নিরাপত্তাহীনতা ও হয়রানি’র আশঙ্কার কথা উল্লেখ করেছেন।
আরটিভি/এসকে



