তপুর জোড়া গোলে ইউরোপের মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়

স্পোর্টস ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬ , ০৮:০৪ এএম


তপুর জোড়া গোলে ইউরোপের মাটিতে বাংলাদেশের ঐতিহাসিক জয়
গোলের পর তপু-হামজাদের উল্লাস ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপের মাটিতে ইউরোপের কোনো দেশের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলতে নেমেছিল বাংলাদেশ। ঐতিহাসিক এই ম্যাচের সব আলো নিজের দিকে কেড়ে নিয়েছেন অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার তপু বর্মণ। একটি নয়, ম্যাচজুড়ে দুর্দান্ত খেলে দুটি গোলই করেছেন তিনি। শেষ পর্যন্ত তার জোড়া গোলেই স্মরণীয় এক জয় দিয়ে নতুন অধ্যায় শুরু করল বাংলাদেশ দল।

শুক্রবার (৫ জুন) ফিফা প্রীতি ম্যাচে বাংলাদেশকে আতিথেয়তা দেয় সান মারিনো। স্তাদিও অলিম্পিকো সেরাভালে স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে স্বাগতিকদের ২-১ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ। প্রথমার্ধে ম্যাচটি ১-১ গোলে সমতায় থাকার পর দ্বিতীয়ার্ধে তপুর দ্বিতীয় গোলে জয় নিশ্চিত হয়। সান মারিনোর পক্ষে একমাত্র গোলটি শোধ দেন নিকোলাস জাকোপেত্তি।

এদিকে এই ম্যাচ দিয়েই বাংলাদেশের ডাগআউটে নতুন প্রধান কোচ হিসেবে অভিষেক হলো জার্মান থমাস ডুলিরের। শুরুর একাদশে তিনি সমিত সোম, ফাহামেদুল ইসলাম ও জায়ান আহমেদদের বসিয়ে রাখলেও বিরতির পর একাদশে একাধিক পরিবর্তন আনেন। নিজের প্রথম অ্যাসাইনমেন্টেই দারুণ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়লেন এই জার্মান মাস্টারমাইন্ড। 

ম্যাচের ১৭তম মিনিটে প্রথম ভালো আক্রমণ শানায় বাংলাদেশ, তবে বক্সে অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়ার শট আটকে যায় প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারদের বাধায়। এর দুই মিনিট পরই আসে কাঙ্ক্ষিত সেই মুহূর্ত। ১৯ মিনিটে এক গোছালো আক্রমণে ডান দিক থেকে মোরছালিনের চমৎকার ক্রসে মাথা ছুঁইয়ে তপু বর্মণ হেড করলে লিড নেয় বাংলাদেশ।

আরও পড়ুন

তবে ৩১ মিনিটে ম্যাচে সমতায় ফেরে সান মারিনো। ডান দিক দিয়ে বেরার্দি বক্সে ঢুকে তপুকে কাটিয়ে কাটব্যাক দেন। বক্সে বাংলাদেশের তিনজন ডিফেন্ডার উপস্থিত থাকলেও কেউ বল ক্লিয়ার করতে পারেননি। সেই সুযোগে নিখুঁত লক্ষ্যভেদে স্বাগতিকদের সমতায় ফেরান নিকোলাস জাকোপেত্তি। ৩৮ মিনিটে সাদ উদ্দিনের সামনে শুধু গোলকিপার থাকলেও তিনি বল পোস্টের ওপর দিয়ে উড়িয়ে মারলে লিড নেওয়া হয়নি বাংলাদেশের।

বিরতির পর জামালের সঙ্গে মোরছালিনকে তুলে নেন কোচ ডুলি। মাঠে নামানো হয় সমিত সোম ও জায়ান আহমেদকে। এ ছাড়া ইসা ফয়সালের পরিবর্তে মাঠে নামেন জায়ান। ৪৮ মিনিটে রফিকুলের ক্রস থেকে গোলমুখের সামনে বলে পা ছোঁয়াতে ব্যর্থ হন সোহেল রানা। এ সময় দারুণ পাসিং ফুটবলের প্রদর্শনী দেখায় বাংলাদেশ। ৫৩ মিনিটে সাদের ক্রসে ফাহিম লাফিয়ে উঠে শট নিলেও তা লক্ষ্যে ছিল না। ৮ মিনিট পর কাপিচ্ছিয়োনির দারুণ এক ফ্রি কিক কর্নারের বিনিময়ে ক্লিয়ার করে দলকে রক্ষা করেন বাংলাদেশের গোলকিপার মিতুল।

খানিক পর ফাহিম ও রফিকুলকে উঠিয়ে বিশ্বনাথ ঘোষ ও ফাহিমেদুল ইসলামকে মাঠে নামান ডুলি। মাঠে নামার খানিক পরই ভালো সুযোগ পেয়েছিলেন ডিফেন্ডার বিশ্বনাথ, কিন্তু সামনে কেবল প্রতিপক্ষের গোলকিপার থাকলেও তিনি শট লক্ষ্যে রাখতে পারেননি। প্রীতি ম্যাচ হওয়ায় দুই দলের সম্মতিতে বেশি খেলোয়াড় পরিবর্তনের সুযোগ ছিল। খেলার ৭৬ মিনিটে সোহেল রানা সিনিয়রকে তুলে কাজেম শাহ কিরমানিকে মাঠে নামানো হয়।

ম্যাচের অন্তিম মুহূর্তে, ৮৬ মিনিটে আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। বক্সের একটু সামনে থেকে হামজার নেওয়া ফ্রি কিকে কেউ পা ছোঁয়াতে না পারলে বিশ্বনাথের সাইড ভলি থেকে দুর্দান্ত এক হেডে বল জালে জড়ান তপু বর্মণ। গোলের পর জার্সি খুলে বুনো উল্লাসে ফেটে পড়েন এই অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার। গ্যালারিতে উপস্থিত প্রবাসী বাংলাদেশি দর্শকরাও মেতে ওঠেন ঐতিহাসিক জয়ের আনন্দে। শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ দল।

আরটিভি/এআর 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission