বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম মহাতারকা লিওনেল মেসি ৩৯ বছরে পা দিলেও মাঠের পারফরম্যান্সে বয়স যেন কেবলই একটি সংখ্যা। চলমান বিশ্বকাপেও দুর্দান্ত ছন্দে থাকা এই আর্জেন্টাইন অধিনায়ককে ঘিরে এবার নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে ২০৩০ বিশ্বকাপে তার অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে।
কাতার বিশ্বকাপে যেখানে শেষ করেছিলেন, চলমান আসরে যেন সেখান থেকেই শুরু করেছেন মেসি। আলজেরিয়ার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করার পর অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে আরও দুই গোল করে টুর্নামেন্টে নিজের গোলসংখ্যা বাড়িয়েছেন। বিশ্বকাপ ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায়ও তিনি নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছেন। পাশাপাশি চলতি আসরের সর্বোচ্চ গোলদাতাদের মধ্যেও রয়েছেন তিনি।
অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ম্যাচ শেষে মেসির কাছে জানতে চাওয়া হয়, দীর্ঘ ক্যারিয়ারে এত অর্জনের পর তার অনুভূতি কী। জবাবে তিনি বলেন, সত্যি বলতে আমি এসব ভেবে খেলি না। আমি শুধু বর্তমান নিয়ে ভাবি এবং প্রতিটি ম্যাচে নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি।
তবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে আরেকটি প্রশ্ন ৪২ বছর বয়সে সপ্তম বিশ্বকাপ খেলার সম্ভাবনা আছে কি না। এর উত্তরে মেসি সরাসরি না বলে হেসে বলেন, পরে দেখা যাবে কী হয়।
মাত্র কয়েকটি শব্দই ভক্তদের মধ্যে নতুন করে আশার সঞ্চার করেছে। কারণ কিছুদিন আগেও ভবিষ্যৎ বিশ্বকাপে খেলার সম্ভাবনা নিয়ে মেসি স্পষ্টভাবে “অবশ্যই না” বলেছিলেন। সেই অবস্থান থেকে সরে এসে “দেখা যাবে” মন্তব্য করায় শুরু হয়েছে নতুন জল্পনা।
অবশ্য ভবিষ্যৎ নিয়ে সতর্ক অবস্থান নেওয়া মেসির জন্য নতুন কিছু নয়। ২০২২ বিশ্বকাপ জয়ের পরও তিনি নিশ্চিত ছিলেন না পরবর্তী বড় টুর্নামেন্টগুলোতে খেলবেন কি না। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মাঠে নেমে দলকে সাফল্য এনে দিয়েছেন এবং নিজের নামের পাশে যোগ করেছেন নতুন নতুন রেকর্ড।
ইতোমধ্যে বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম ফুটবলার হিসেবে ছয়টি বিশ্বকাপে খেলার কীর্তি গড়েছেন মেসি। এছাড়া বিশ্বকাপে সবচেয়ে বেশি গোল, সবচেয়ে বেশি জয়, সবচেয়ে বেশি ম্যাচ এবং সবচেয়ে বেশি মিনিট খেলার রেকর্ডও এখন তার দখলে।
তবে ২০৩০ বিশ্বকাপ এখনও অনেক দূরের পথ। তখন মেসির বয়স ৪২ বছর ছাড়িয়ে যাবে। তবুও বর্তমান ফর্ম, ফিটনেস এবং প্রভাব বিবেচনায় তাকে নিয়ে কোনো সম্ভাবনাই উড়িয়ে দিতে রাজি নন ফুটবলপ্রেমীরা। মেসি নিজেও দরজা পুরোপুরি বন্ধ করেননি। ফলে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই জল্পনা আরও জোরালো হবে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরটিভি/এসকে



