মুসলিম ফুটবলারদের সম্মানে বিশ্বকাপে ম্যাচসেরার পুরস্কারের নিয়ম পরিবর্তন ফিফার

স্পোর্টস ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন ২০২৬ , ০৪:৪৪ পিএম


মুসলিম ফুটবলারদের সম্মানে বিশ্বকাপে ম্যাচসেরার পুরস্কার নিয়ম পরিবর্তন ফিফার
মুসলিম ফুটবলারদের জন্য ম্যাচসেরার পুরস্কারে পরিবর্তন আনল ফিফা। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্ব ফুটবলে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মান জানিয়ে ম্যাচসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার প্রদানের নিয়মে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে ফিফা। ২০২৬ বিশ্বকাপে মুসলিম ফুটবলার, অপ্রাপ্তবয়স্ক খেলোয়াড় কিংবা অ্যালকোহল ব্র্যান্ডের সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ত করতে অনিচ্ছুক ফুটবলারদের জন্য স্পনসরের লোগোবিহীন বিশেষ ট্রফি ও আনুষ্ঠানিক মঞ্চ ব্যবহারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বিশ্বকাপের ‘সুপিরিয়র প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’ পুরস্কারের পৃষ্ঠপোষকতা করছে বিয়ার ব্র্যান্ড মাইকেলব আল্ট্রা। সাধারণত এই পুরস্কারের ট্রফি এবং ফটোসেশনের ব্যাকড্রপে স্পনসর প্রতিষ্ঠানের লোগো সুস্পষ্টভাবে প্রদর্শিত হয়। তবে নতুন ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট খেলোয়াড়দের জন্য স্পনসরের লোগোর পরিবর্তে বিশ্বকাপের নিজস্ব ব্র্যান্ডিং ও ‘দ্য সুপিরিয়র প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ’ শিরোনাম ব্যবহার করা হচ্ছে।

বিষয়টি আলোচনায় আসে মরক্কোর মিডফিল্ডার ইসমাইল সাইবারিকে ঘিরে। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে টুর্নামেন্টের দ্রুততম গোল করে ম্যাচসেরা নির্বাচিত হওয়ার পর তার হাতে থাকা ট্রফিতে কোনো স্পনসর লোগো দেখা যায়নি। পরে জানা যায়, একই ধরনের লোগোবিহীন ট্রফি পেয়েছেন মিসরের ইমাম আশুর, জর্ডানের আলি অলওয়ান, ইরানের রামিন রেজাইয়ান, কাতারের গোলরক্ষক মাহমুদ আবুনাদা এবং আইভরি কোস্টের ইয়ান দিয়োমান্দেও।

ব্রাজিলের সংবাদমাধ্যম গ্লোবোর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সংবেদনশীলতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে ফিফা। ইসলাম ধর্মে মদ্যপ পানীয় গ্রহণ নিষিদ্ধ হওয়ায় অনেক মুসলিম খেলোয়াড় অ্যালকোহল-সংশ্লিষ্ট ব্র্যান্ডের প্রচারণার সঙ্গে নিজেদের যুক্ত করতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। সেই বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিয়েই বিকল্প ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

স্পোর্টসবাইবেলকে দেওয়া এক বক্তব্যে ফিফার এক মুখপাত্র জানান, নির্বাচিত খেলোয়াড়ের অনুরোধের ভিত্তিতে স্পনসরবিহীন ট্রফি ও ব্যাকড্রপ ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হয়। শুধু মুসলিম খেলোয়াড়ই নন, অন্য ধর্মাবলম্বী কিংবা ব্যক্তিগত কারণে অ্যালকোহল ব্র্যান্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত হতে না চাওয়া ফুটবলাররাও এই সুবিধা নিতে পারবেন।

এটি ফিফার জন্য নতুন কোনো উদ্যোগ নয়। এর আগে ২০২৫ সালের ক্লাব বিশ্বকাপেও একই ধরনের নীতি অনুসরণ করা হয়েছিল। সে সময় আশরাফ হাকিমি ধর্মীয় কারণে স্পনসরবিহীন ট্রফি গ্রহণ করেছিলেন। অন্যদিকে, তখন পালমেইরাসের হয়ে খেলা এবং বর্তমানে চেলসির ফুটবলার ফুটবলার এস্তেভাও অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় একই সুবিধা পেয়েছিলেন।

অ্যালকোহল স্পনসরশিপ নিয়ে ফুটবলে বিতর্ক নতুন নয়। ২০১৮ সালে ফিফা বিশ্বকাপে মিসরের গোলরক্ষক মোহাম্মদ এল-শেনাওয়ি ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে প্রচলিত ম্যাচসেরার পুরস্কার গ্রহণে আপত্তি জানিয়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছিলেন। সেই ঘটনার পর থেকেই আন্তর্জাতিক ফুটবলে ধর্মীয় বিশ্বাস ও বাণিজ্যিক স্পনসরশিপের মধ্যে ভারসাম্য নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়।

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন লিগ ও আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় মুসলিম খেলোয়াড়দের ধর্মীয় অনুভূতির প্রতি সম্মান জানিয়ে উদযাপন ও পুরস্কার প্রদানের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হয়েছে। কোথাও অ্যালকোহলযুক্ত পানীয়ের পরিবর্তে বিকল্প ব্যবহার করা হয়েছে, আবার কোথাও ব্র্যান্ডিংয়ে আনা হয়েছে নমনীয়তা।

আরও পড়ুন

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৬ বিশ্বকাপে ফিফার এই পদক্ষেপ বিশ্ব ফুটবলের অন্তর্ভুক্তিমূলক চরিত্রকে আরও শক্তিশালী করবে। পুরস্কারের মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখেই খেলোয়াড়দের ব্যক্তিগত বিশ্বাস, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং সাংস্কৃতিক পরিচয়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে বৈচিত্র্যময় বিশ্ব ফুটবলে ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে সংস্থাটি।


আরটিভি/এসকে

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission