ব্রাজিলের বিশ্বকাপ ব্যর্থতার দায়ে প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে বরখাস্ত করার দাবি তুলেছেন দেশটির বিশ্বকাপজয়ী কিংবদন্তি ফুটবলার রোমারিও। তার মতে, এমন হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর আনচেলত্তির ব্রাজিল দলের দায়িত্বে থাকার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
২৩তম ফিফা বিশ্বকাপে প্রত্যাশার অনেক আগেই বিদায় নেয় পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। শেষ ষোলোতেই থেমে যায় সেলেসাওদের যাত্রা। ২০০২ সালের পর বিশ্বকাপের শিরোপা জয়ের স্বপ্ন এবারও অধরাই থেকে যায়।
বিশ্বকাপকে সামনে রেখে দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তিকে দায়িত্ব দেয় ব্রাজিল ফুটবল কনফেডারেশন (সিবিএফ)। দেশটির প্রচলিত ধারা ভেঙে বিদেশি কোচ নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল শিরোপাখরা কাটানোর আশায়। তবে সেই লক্ষ্য পূরণ তো দূরের কথা, আগেভাগেই বিদায় নেওয়ায় শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা।
এবার সেই সমালোচনায় যোগ দিয়েছেন ব্রাজিলের কিংবদন্তি স্ট্রাইকার রোমারিও। ২০৩০ সাল পর্যন্ত আনচেলত্তির সঙ্গে চুক্তি থাকলেও, তাকে অবিলম্বে বিদায় করার পক্ষে মত দিয়েছেন তিনি।
রোমারিও বলেন, আমি যদি ফেডারেশনে থাকতাম, তাহলে তার চুক্তি ছিঁড়ে ফেলে বলতাম, এখনই বিদায় হন। প্রয়োজনে আদালতে যান, সেখানেই বিষয়টির সমাধান হবে। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দুঙ্গা ব্যর্থ হয়েছিল, সে চলে গেছে। ফেলিপে স্কলারি বিশ্বকাপ জিতেছিল, তাই থেকেছে। তিতেও ব্যর্থ হওয়ার পর বিদায় নিয়েছে। অথচ আনচেলত্তি ব্যর্থ হওয়ার পরও দায়িত্বে রয়ে গেছে। ব্রাজিলে পরিবর্তন আনতে হলে এই কোচকে বিদায় করতেই হবে।
দলের একাদশ নির্বাচন ও কৌশল নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন রোমারিও। তার ভাষায়, গিমারেসকে তুলে নিয়ে এদেরসনকে রাইটব্যাকে খেলানো হয়েছে। একজন ফুলব্যাক চোট পাওয়ার পর সেখানে একজন সেন্টারব্যাককে নামানো হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই তার সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল না। বিশ্বকাপ থেকে ব্রাজিলের বিদায়ের জন্য তার যথেষ্ট দায় রয়েছে।
বিশ্বকাপে ব্রাজিলের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর দেশটির ফুটবল অঙ্গনে কোচ আনচেলত্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা আরও জোরালো হয়ে উঠেছে। এখন সিবিএফ কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই নজর ফুটবলপ্রেমীদের।
আরটিভি/এসকে



