ফুটবল বিশ্বকাপের ফাইনাল মানেই ইতিহাসের সাক্ষী হওয়া। আর সেই ইতিহাসেরই একটি অংশ এবার নিজেদের সংগ্রহে রাখার সুযোগ করে দিয়েছে বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে। সেই ম্যাচের মাঠের ছোট ছোট ঘাসের টুকরো সীমিত সংস্করণে বিক্রি শুরু করেছে সংস্থাটি।
ক্রীড়া সংবাদমাধ্যম দ্য অ্যাথলেটিকের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বিশেষভাবে সংরক্ষিত প্রতিটি ঘাসের টুকরোর দাম রাখা হয়েছে ৪৫০ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫৫ হাজার টাকার বেশি। তবে ফাইনাল ম্যাচ শেষ হওয়ার পরই ক্রেতাদের কাছে এসব স্মারক পাঠানো হবে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের ক্রেতারাই এটি কেনার সুযোগ পাচ্ছেন।
ফিফার তথ্য অনুযায়ী, ঘাসগুলোকে স্বচ্ছ রেজিনের আবরণে সংরক্ষণ করা হয়েছে। অ্যাক্রিলিকের তৈরি এই বিশেষ স্মারকে খোদাই করা থাকবে ২০২৬ বিশ্বকাপের লোগো, ফাইনালের ভেন্যু, ম্যাচের তারিখ এবং চূড়ান্ত ফলাফল। পাশাপাশি একটি ইউএসবি ড্রাইভ দেওয়া হবে, যাতে থাকবে স্মারকটির সত্যতা নিশ্চিতকারী ‘অথেনটিসিটি ফিল্ম’।
এই স্মারক তৈরি করছে যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান কিপ স্টাব। ৪৫০ ডলারের মূল সংস্করণের পাশাপাশি ৯০০, ১,২০০ এবং ৩,০০০ ডলারের আরও তিনটি সংস্করণও বাজারে আনা হয়েছে। প্রতিটি সংস্করণের জন্য মাত্র ২,০২৬টি করে ইউনিট বরাদ্দ রাখা হয়েছে। সবগুলো বিক্রি হলে ফিফার আয় ১ কোটি ১২ লাখ মার্কিন ডলারেরও বেশি হতে পারে।
সবচেয়ে দামি ৩,০০০ ডলারের ‘হিরো এডিশন’-এ থাকছে ৩ ইঞ্চি বাই ৩ ইঞ্চির একটি ঘাসের টুকরো। এর সঙ্গে দেওয়া হবে স্বর্ণখচিত একটি ধাতব টিকিট, ফাইনাল ম্যাচের বলের একটি মিনি রেপ্লিকা এবং ক্রিস্টাল কাট কাচে তৈরি বিশ্বকাপ ট্রফির প্রতিরূপ।
তবে যে মাঠের ঘাস নিয়ে এত আগ্রহ, সেই মাঠের মান নিয়েই আগে প্রশ্ন তুলেছিলেন বেশ কয়েকজন তারকা ফুটবলার। দ্য অ্যাথলেটিকের আরেক প্রতিবেদনে জানানো হয়, উত্তর ক্যারোলাইনার একটি ফার্ম থেকে আনা ঘাস মে মাসের শুরুতে মাঠে বসানো হয়েছিল। টুর্নামেন্ট চলাকালে ব্রাজিল ও ফ্রান্সের কয়েকজন খেলোয়াড় মাঠটিকে অতিরিক্ত শুষ্ক উল্লেখ করে সমালোচনা করেন। তাদের দাবি, এমন ঘাসে স্বাভাবিক গতিতে ফুটবল খেলা কঠিন।
এর আগে চলতি বিশ্বকাপ উপলক্ষে সীমিত সংস্করণের বিশেষ জার্সিও বাজারে এনেছিল ফিফা। প্রতিটি আয়োজক শহরের জন্য ৯৯৯টি করে জার্সি তৈরি করা হলেও, ৩৭৫ ডলার মূল্যের সেই জার্সিগুলোর অনেকগুলো এখনও বিক্রি হয়নি।
আরটিভি/এসকে



