ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নাটকীয় জয়ে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপের ফাইনালে তোলার নায়ক লাউতারো মার্টিনেজ। সেমিফাইনালের শেষ মুহূর্তে জয়সূচক গোল করে দলকে ২-১ ব্যবধানে জয় এনে দেন এই ফরোয়ার্ড। তবে জীবনের এমন স্মরণীয় অর্জনের পরও লাউতারোর কাছে বিশ্বকাপ ফাইনালের চেয়েও বেশি মূল্যবান তার মায়ের ভালোবাসা।
ম্যাচ শেষে আবেগাপ্লুত লাউতারো বলেন, এই মুহূর্তের স্বপ্ন তিনি ছোটবেলা থেকেই দেখে এসেছেন। টিওয়াইসি স্পোর্টসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমি জানি না কী বলব। এটা সত্যিই অনেক বড় অনুভূতি। ছোটবেলায় বাবা যখন আমাকে প্রথম এক জোড়া বুট কিনে দিয়েছিলেন, তখন থেকেই আমি এমন একটি গোল করার স্বপ্ন দেখতাম।
তবে নিজের স্বপ্নপূরণের আনন্দের চেয়েও পরিবারের ত্যাগ ও ভালোবাসাকে বড় করে দেখেছেন আর্জেন্টাইন এই তারকা। তিনি বলেন, যেদিন আমি রেসিং ক্লাবে খেলার জন্য বাড়ি ছেড়েছিলাম, সেদিন থেকে আজ পর্যন্ত আমার মা কখনো আমার যত্ন নেওয়া বন্ধ করেননি। মায়ের এই ভালোবাসা একটি গোল কিংবা বিশ্বকাপ ফাইনালের চেয়েও বেশি মূল্যবান।
আটলান্টায় অনুষ্ঠিত সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ফাইনাল নিশ্চিত করার পর পুরো আর্জেন্টিনা দল যখন উচ্ছ্বাসে মেতে ওঠে, তখন আবেগে ভেঙে পড়েন লাউতারো। কারণ এই গোল শুধু দলকে ফাইনালে তোলেনি, পূরণ করেছে তার শৈশবের লালিত স্বপ্নও।
কাতার বিশ্বকাপে শিরোপা জিতলেও সেই আসরে কোনো গোল করতে পারেননি লাউতারো। তাই চলমান বিশ্বকাপ ছিল নিজের সামর্থ্য প্রমাণের বড় মঞ্চ। গুরুত্বপূর্ণ সময়ে জয়সূচক গোল করে সেই অপেক্ষারও অবসান ঘটালেন তিনি।
লাউতারো জানান, গোল করার বিষয়ে তিনি আগেই আত্মবিশ্বাসী ছিলেন। তিনি বলেন, আমি এই মুহূর্তের স্বপ্ন দেখেছিলাম। আমি অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারকে বলেছিলাম, আমি গোল করব। ফাকু মেদিনাকেও বলেছিলাম, আমি মাঠে নামব এবং দলকে জেতাব।
নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও কথা বলেন আর্জেন্টিনার এই ফরোয়ার্ড। তার ভাষায়, আমার দুই সন্তান আসার পর আমার জীবন বদলে গেছে। আমি অনেক শান্ত হয়েছি। এখন সবকিছু উপভোগ করি। আজ আমি একজন পরিণত মানুষ এবং জীবনকে অনেক বেশি উপভোগ করছি।
বিশ্বকাপের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে নায়ক হয়ে উঠলেও লাউতারো মার্টিনেজের কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি এখনো পরিবারের ভালোবাসা বিশেষ করে মায়ের নিঃস্বার্থ স্নেহ, যা তার কাছে যেকোনো ট্রফি বা গৌরবের চেয়েও বেশি মূল্যবান।
আরটিভি/এসকে



