পদ্মার থমথমে জলরাশির তলদেশে যেন চলছে অবাধ বেপরোয়া মাটি কাটার খেলা। নদীর পাড় থেকে ২৫ ফুট গভীর বিশাল গর্ত গড়ে হাজার হাজার মানুষের বসতভিটা ঝুঁকির মুখে, অথচ প্রশাসন নির্বিকার, নদী ভাঙনের শঙ্কায় পালেরচর এলাকার মানুষ আতঙ্কিত।
শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার পালেরচর চর এলাকায় প্রভাবশালীরা নদীর কূল থেকে মাত্র ২০-৩০ মিটার দূরত্বে নিষিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও ফসলি জমি কেটে মাটি বিক্রি করছে। গত বছর যেখানে সবুজ ক্ষেত ছিল, এখন সেখানে বড় বড় গর্ত। মাটি কাটা বন্ধে সরকারি নিয়ম থাকলেও তা কোনোভাবেই কার্যকর হচ্ছে না।
স্থানীয়রা জানায়, আমাদের কথা কেউ শুনে না, বাড়ি ভাঙার শঙ্কায় রাতের ঘুম নেই। সরকার যদি ইচ্ছা করতো তাহলে বন্ধ করতে পারতো।
পালেরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল হোসেন ফরাজি বলেন, মাটি কাটার ফলে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। আমরা যতটা সম্ভব সচেতন হয়ে কাজ করছি। জিরো পয়েন্ট থেকে পাচরের শেষ সীমান্ত পর্যন্ত নদীর ভাঙন বন্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
অপরদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাহমিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, গত সপ্তাহে স্থানীয় গাড়ি ড্রাইভারসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করেছি। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে মাটি কাটা ও বালু উত্তোলন বন্ধে পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। নিয়মিত মোবাইল কোর্ট চলবে।
তবে এই সকল প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাঝে নদী ভাঙনের হাত থেকে চরটির সুরক্ষা অনিশ্চিতই রয়ে গেছে। প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের এই অবিচার অব্যাহত থাকলে পালেরচর বাজারসহ নিকটবর্তী জনপদ বিলীন হয়ে যাওয়া সময়ের অপেক্ষা মাত্র।
প্রকৃতির অপরাধে নয়, মানুষের লোভ আর প্রশাসনের অবহেলায় নদী ভাঙনের ক্ষতি আর নিবৃত্তি নয়। এখন সময় কঠোর প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার, অন্যথায় পালেরচর হারাবে তার অস্তিত্ব।
আরটিভি/এএএ





