ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

দাম নিয়ে বাগ্‌বিতণ্ডা, ডাব বিক্রেতার ‘চোখ উপড়ে ফেলার’ হুমকি সার্জেন্টের

মাদারীপুর প্রতিনিধি, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৮ মার্চ ২০২৬, ১০:২৬ পিএম
ছবি: প্রতিনিধি

মাদারীপুরে ডাবের দাম কম দেওয়া নিয়ে প্রতিবাদ করায় এক ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাকে ‘চোখ উপড়ে ফেলার’ হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে জেলা ট্রাফিক পুলিশের এক সার্জেন্টের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ভুক্তভোগী বিক্রেতাকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে ডেকে নিয়ে ছয় ঘণ্টা আটকে রাখারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ভুক্তভোগী আব্দুল করিম বেপারী সদর উপজেলার গাছবাড়িয়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে শহরের সরদার কলোনি এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকেন। অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তার নাম রফিক, যিনি জেলা ট্রাফিক পুলিশে সার্জেন্ট হিসেবে কর্মরত।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর ভাষ্যমতে, শুক্রবার (২৭ মার্চ) রাত আটটার দিকে জেলা প্রশাসকের বাসভবনের সামনে আব্দুল করিমের কাছ থেকে আটটি ডাব কেনেন সার্জেন্ট রফিক। সেখানে তিনি নারী সদস্য ও বন্ধুদের নিয়ে ডাবগুলো খান। ডাবগুলোর দাম ১ হাজার ২০০ টাকা হলেও সার্জেন্ট রফিক তাকে ৫০০ টাকা দেন। বাকি ৭০০ টাকা চাইলে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।

আরও পড়ুন

আব্দুল করিম অভিযোগ করেন, বাকি টাকা চাইলে তিনি আমাকে ভয়ভীতি দেখান এবং একপর্যায়ে ‘চোখ উপড়ে ফেলার’ হুমকি দেন।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত কাওসার মাহমুদ নামের এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তিনি বিষয়টি জানতে চাইলে সার্জেন্ট তার সঙ্গেও খারাপ আচরণ করেন এবং বিক্রেতাকে জোরপূর্বক গাড়িতে তোলার চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে তিনি চলে যান।

শনিবার (২৮ মার্চ) সকালে ঘটনার ভিডিওটি ফেসবুকে ভাইরাল হলে পুলিশ প্রশাসনের নজরে আসে। সকাল ১০টার দিকে ট্রাফিক পরিদর্শক রেদওয়ান আহম্মেদ ভুক্তভোগী বিক্রেতাকে তার বাসা থেকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নিয়ে যান। আব্দুল করিমের অভিযোগ, সেখানে তাকে টানা ছয় ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের নামে আটকে রাখা হয় এবং কম্পিউটারে কম্পোজ করা একটি কাগজে তার স্বাক্ষর নেওয়া হয়।

বিকেলে মুক্ত হওয়ার পর আব্দুল করিম বলেন, একদিকে ডাবের দাম কম দিয়ে হুমকি, অন্যদিকে পরদিন আমাকে ছয় ঘণ্টা আটকে রাখা হলো। আমি এই অন্যায়ের বিচার চাই।

বিষয়টি সম্পর্কে জানতে দুপুরে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে যান কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মী। এ সময় তারা ভুক্তভোগী বিক্রেতার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জাহাঙ্গীর আলম ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে উচ্চ স্বরে আপত্তিকর কথা বলেন এবং 'সাংবাদিকতা শিখিয়ে দেওয়ার' হুমকি দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

অভিযুক্ত সার্জেন্ট রফিক ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে বলেন, এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি। আমি কোনো ডাব খাইনি এবং কাউকে হুমকিও দিইনি।

মাদারীপুরের পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছে, তা জানতেই ডাব বিক্রেতাকে অফিসে ডাকা হয়েছিল। ট্রাফিক সার্জেন্টের দোষ প্রমাণিত হলে তদন্ত সাপেক্ষে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পুরো বিষয়টি পুলিশ খতিয়ে দেখছে।

আরটিভি/এমআই

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
কামালের নামে ধর্ষণের মিথ্যা মামলা করে ফেঁসে গেলেন নারী 
নেত্রকোনায় মিথ্যা ধর্ষণ মামলা করে এক ব্যক্তিকে কারাভোগে বাধ্য করার দায়ে লিপি আক্তার (৩৯) নামের এক নারীকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও তিন মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেলে নেত্রকোনার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ কে এম এমদাদুল হক এ রায় ঘোষণা করেন। ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট নুরুল কবির রুবেল রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত লিপি আক্তার আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন। তিনি জেলার বারহাট্টা উপজেলার বিক্রমশ্রী গ্রামের বাসিন্দা। আদালত ও মামলা সূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে একই গ্রামের কামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেন লিপি আক্তার। মামলায় নিজেকে আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা দাবি করলে পুলিশ কামাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করে। পরে প্রায় দুই মাস কারাগারে থাকতে হয় তাকে। লিপি আক্তারের সন্তান জন্মের পর শিশুটির পিতৃত্ব নির্ধারণে ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষার প্রতিবেদনে কামাল উদ্দিনকে শিশুটির জৈবিক পিতা হিসেবে শনাক্ত করা হয়নি। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৯ সালে আদালত ধর্ষণের অভিযোগ থেকে কামাল উদ্দিনকে খালাস দেন। এরপর মিথ্যা অভিযোগে মামলা করে তাকে কারাভোগে বাধ্য করার প্রতিকার চেয়ে ২০২০ সালে লিপি আক্তারের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন কামাল উদ্দিন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত লিপি আক্তারকে দোষী সাব্যস্ত করে এ দণ্ডাদেশ দেন। আরটিভি/এসকে
কামালের নামে ধর্ষণের মিথ্যা মামলা করে ফেঁসে গেলেন নারী 
চার মাস ধরে ছাত্রকে বলাৎকার, প্রধান শিক্ষককে বেধড়ক পিটুনি
সিলেটের গোলাপগঞ্জে এক ছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
চার মাস ধরে ছাত্রকে বলাৎকার, প্রধান শিক্ষককে বেধড়ক পিটুনি
চুল কাটতে বলায় পরীক্ষার হলে কলম দিয়ে শিক্ষককে রক্তাক্ত করল ছাত্র
চট্টগ্রামের রাউজানে পরীক্ষার হলে চুল লম্বা রাখার কারণ জানতে চেয়ে শাসন করায় এক শিক্ষককে কলম দিয়ে একাধিক আঘাত করে রক্তাক্ত করেছে নবম শ্রেণির এক ছাত্র। আহত শিক্ষককে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাঁর মাথায় সেলাই দিতে হয়।
চুল কাটতে বলায় পরীক্ষার হলে কলম দিয়ে শিক্ষককে রক্তাক্ত করল ছাত্র
বাছুরের খড় খাওয়া নিয়ে বিরোধ, প্রাণ গেল একজনের
নওগাঁর মান্দায় বাছুরের খড় খাওয়া নিয়ে বিরোধের জেরে শহিদুল ইসলাম (৪২) নামে এক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার ছোট ভাই সাইফুল ইসলাম ও স্ত্রী সাথী আক্তার আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে সাইফুল ইসলামের মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে বলে জানা গেছে।
বাছুরের খড় খাওয়া নিয়ে বিরোধ, প্রাণ গেল একজনের
সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়, কে এই ‘বাংলার কৃষ’
দিনে জীবিকার তাগিদে কাজ করেন এসএস পাইপ মিস্ত্রি হিসেবে। আর অবসর পেলেই মেতে ওঠেন সুপারহিরো হওয়ার স্বপ্ন পূরণের সাধনায়। বোনের পুরোনো বোরকাকে কৃষের পোশাকে রূপ দিয়ে নানা কসরত ও স্টান্ট দেখানোর চেষ্টা করেন তিনি।
সামাজিক মাধ্যমে তোলপাড়, কে এই ‘বাংলার কৃষ’
আরও পড়ুন
মক্কা-মদিনায় কোনো হুমকি এলে বাংলাদেশ বসে থাকবে না: শামা ওবায়েদ
হত্যার হুমকি পেলেন যুবদল নেতা, চিঠিতে লেখা ‘জয় বাংলা’  
সাংবাদিককে চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী বগার হুমকি, সিটিআরএনের নিন্দা
ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে বোমা হামলার হুমকি, তদন্তে পুলিশ