মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সোয়েব আহমদের ওপর হামলা চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ৯টা ১৫ মিনিটের দিকে সিলেটের উপশহর-শিবগঞ্জ সড়কের বি ব্লকের ১৮ নম্বর সড়কে হামলার ঘটনা ঘটে।
হামলার ঘটনায় উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে নিন্দা জানিয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান খছরু ও সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুস শহীদ খান এবং উপজেলা জামায়াতের পক্ষ থেকে নিন্দা জানিয়েছেন নায়াবে আমির ফয়সল আহমদ।
সোয়েব আহমদের ওপর এ ধরনের হামলাকে ন্যক্কারজনক উল্লেখ করে উপজেলা বিএনপির পক্ষ থেকে সাধারণ সম্পাদক মুজিবুর রহমান খছরু বলেন, মব কালচারের কোনো স্থান নেই এবং আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কারও জন্য কাম্য নয়। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে গ্রেপ্তার নিশ্চিত করতে প্রশাসনের প্রতি তিনি জোর দাবি জানান।
সোয়েব আহমদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করে উপজেলা জামায়াতের সাবেক আমির ও উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এমাদুল ইসলাম বলেন, সোয়েব আহমদের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং প্রশাসন যেন অতি দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেপ্তার করে বিচার নিশ্চিত করে।
উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ফয়সল আহমদ বলেন, এমন হামলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সকল জনগণ ও রাজনৈতিক নেতৃত্বের নিরাপদ বসবাসের উপযোগী হতে হবে।
উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুস শহীদ খান বলেন, সোয়েব আহমদকে প্রাণনাশের উদ্দেশ্যে দুর্বৃত্তরা হামলার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। এ ধরনের মব কালচার বর্তমান সরকার কোনোভাবেই সহ্য করবে না। আমরা উপজেলা বিএনপি বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে অবিলম্বে দোষীদের আইনের আওতায় নিয়ে আসার জন্য প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানাচ্ছি।
তিনি আরও বলেন, আমাদের স্থানীয় সংসদ সদস্য নাসির উদ্দিন আহমেদ মিঠু বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং এ ন্যক্কারজনক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন।
এদিকে সবচেয়ে বেশি সরব দেখা গেছে উপজেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি আহমদ রিয়াজকে। তিনি তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে হামলাকারীদের ছবি প্রকাশ করেছেন। যা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। যদিও সোয়েবর পরিবার বলছে, কে বা কারা এবং কী কারণে তার ওপর হামলা চালিয়েছে, তা তারা এখনো নিশ্চিত নন।
সোয়েব আহমদের স্বজনরা জানান, শুক্রবার রাতে উপশহর-শিবগঞ্জ সড়কের বি ব্লকের ১৮ নম্বর সড়কে অজ্ঞাতপরিচয় কয়েকজন ব্যক্তি সোয়েব আহমদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তার মাথা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে তাকে অজ্ঞান অবস্থায় রাস্তায় ফেলে রেখে যায়। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করেন। তারা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে সিএনজি অটোরিকশাযোগে তাকে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যান। পরে রাত প্রায় দুইটার দিকে একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের শরণাপন্ন হয়ে তার চিকিৎসা করানো হয়।
উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান সোয়েব আহমদের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
তবে সোয়েব আহমদের ছোট ভাই বড়লেখা সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ছালেহ আহমদ জুয়েল বলেন, কারা এ হামলা করেছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে আল্লাহ তায়ালার অশেষ মেহেরবানিতে এবং সবার দোয়ায় তিনি (সোয়েব আহমদ) এখন আশঙ্কামুক্ত এবং কিছুটা সুস্থ আছেন।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় বিষয়টি প্রকাশ করতে চাইনি আমরা। তবে ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ায় তা নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারা এবং দেশ-বিদেশের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নিন্দা জানিয়েছেন।
আরটিভি/এমএম




