নারায়ণগঞ্জে আলোচিত সাত খুন মামলার রায় দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন নিহতদের স্বজন ও এলাকাবাসী।
সোমবার (২৭ এপ্রিল) সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাক এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে এ দাবি জানান তারা।
এ সময় নিহতদের স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রীর কাছে হত্যাকারীদের বিচার কার্যকর করার আহ্বান জানান।
মানববন্ধনে অংশ নিয়ে নিহত নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বউটি বলেন, নূর হোসেন নামে এক মাফিয়া কীভাবে টাকার প্রভাবে র্যাব সদস্যদের ব্যবহার করে অমানবিক নির্যাতনের মাধ্যমে হত্যা করে মরদেহ শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দিয়েছিল, সেই দৃশ্য দেখে সারা দেশের মানুষ কেঁদেছিল। পুরো জাতি তখন আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছিল। আজ হয়তো ভয়-ভীতি, মামলা ও আতঙ্কের কারণে অনেকে সামনে আসতে সাহস পান না। কিন্তু আমরা তো আমাদের আপনজন হারিয়েছি। আমরা পরিবারগুলো ১২ বছর ধরে বুকভরা কান্না আর অসহনীয় কষ্ট নিয়ে বেঁচে আছি। আমাদের একটাই দাবি— নজরুল সাহেবসহ সাত পরিবারের এই নির্মম হত্যার বিচার যেন আমরা জীবিত অবস্থায় দেখতে পাই।
তিনি আরও বলেন, আমরা জানতে চাই, কেন র্যাব সদস্যরা নূর হোসেনের কথায় এত ভয়ংকর হত্যাকাণ্ড ঘটাল? কেন সাতটি পরিবারকে ধ্বংস করে দিল? যদি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছেই মানুষ নিরাপত্তা না পায়, তাহলে মানুষ কার কাছে যাবে? র্যাবের ওপর যে কলঙ্কের দাগ লেগেছে, তা মুছতে হলে এই মামলার বিচার দ্রুত কার্যকর করতে হবে।
স্বজনরা অ্যাটর্নি জেনারেল, আইনমন্ত্রী এবং সংশ্লিষ্ট সকল দায়িত্বশীল কর্মকর্তার প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তারা যেন এই মামলার রায়ের দিকে বিশেষ দৃষ্টি দেন এবং দ্রুত কার্যকরের ব্যবস্থা করেন। ২০২৬ সালের মধ্যেই এই রায় কার্যকর হবে বলে আমরা আশা করি।
প্রসঙ্গত, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক সড়ক থেকে তৎকালীন প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলাম, আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারসহ মোট সাতজনকে অপহরণ করা হয়। তিন দিন পর নারায়ণগঞ্জের শীতলক্ষ্যা নদী থেকে নিখোঁজদের মরদেহ ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় নজরুল ইসলামের স্ত্রী সেলিনা ইসলাম বউটি ও চন্দন কুমার সরকারের জামাতা বিজয় কুমার পাল পৃথক দুটি হত্যা মামলা করেন। এসব মামলার বিচারকাজ শেষ হয়ে বর্তমানে আপিল বিভাগে বিচারাধীন রয়েছে।
আরটিভি/এমএইচজে



