পার্কে ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি হরিণ থাকায় খাদ্য ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় সামাল দিতে হরিণ বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক) পরিচালিত কেন্দ্রীয় উদ্যান ও বোটানিক্যাল গার্ডেন কর্তৃপক্ষ।
জানা গেছে, বর্তমানে উদ্যানে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি হরিণ রয়েছে। বন বিভাগের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি হরিণের জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ জায়গা প্রয়োজন হলেও সেই মান বজায় রাখা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে অতিরিক্ত হরিণগুলোকে নির্ধারিত মূল্য ও শর্তসাপেক্ষে হস্তান্তর বা বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাসিকের ভেটেরিনারি সার্জন ড. ফরহাদ উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, বর্তমানে উদ্যানে প্রায় ৪০ হাজার বর্গফুট জায়গায় হরিণের জন্য সেড রয়েছে, যেখানে স্বাভাবিকভাবে সর্বোচ্চ ৮০-৮৫টি হরিণ রাখা সম্ভব। কিন্তু বর্তমানে ১২৯টি হরিণ রয়েছে, যা ব্যবস্থাপনায় চাপ তৈরি করছে। তাই বাড়তি হরিণগুলো আমরা নির্ধারিত ৫০ হাজার টাকা মূল্যে বিক্রি করতে চাই।
তিনি আরও বলেন, এর আগেও আমরা নিয়ম মেনে বিক্রি করেছি। তবে বন বিভাগের অনুমোদন সাপেক্ষে অতিরিক্ত হরিণ বিক্রি বা হস্তান্তর করা হবে এবং যিনি কিনবেন তার অবশ্যই সুনির্দিষ্ট লাইসেন্স থাকতে হবে। এরপর যাচাই-বাছাই শেষে হরিণগুলো বিক্রি করা যেতে পারে। তবে শর্ত থাকবে, এসব হরিণ কোনোভাবেই জবাই করা যাবে না এবং কেবলমাত্র লালন-পালনের উদ্দেশ্যেই রাখা যাবে।
জানা গেছে, ইতোমধ্যে কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান হরিণ নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এমনকি একটি সংস্থা নির্দিষ্টসংখ্যক হরিণ নেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছে।
এর আগে বিগত সময়ে প্রায় ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে পার্কটির অবকাঠামো উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ করা হয়। একই সময়ে নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘বোটানিক্যাল গার্ডেন’। তবে কাঙ্ক্ষিত প্রাণী সংরক্ষণ ও বৃদ্ধি না পাওয়ায় এই উদ্যোগ খুব বেশি কার্যকর হয়নি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। বর্তমানে প্রায় ৩৩ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই উদ্যানটি বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প ও অবকাঠামো নির্মাণের কারণে আগের তুলনায় আকারেও কিছুটা সংকুচিত হয়েছে। ফলে পূর্ণাঙ্গ চিড়িয়াখানা পরিচালনা করা এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় নতুন করে পার্কটির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় বড় পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে রাসিক।
রাসিক সূত্রে জানা গেছে, এবার উদ্যানটিকে ‘বার্ড পার্ক’ হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলে পুরো এলাকাকে পাখিভিত্তিক আধুনিক বিনোদনকেন্দ্র ও অভয়ারণ্যে রূপান্তর করা হবে। প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন প্রজাতির দেশি-বিদেশি রঙিন পাখি আনা, পাখিদের জন্য নিরাপদ আবাসস্থল তৈরি, প্রাকৃতিক পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দর্শনার্থীদের জন্য আধুনিক অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
আরটিভি/এমএইচজে




