ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

কাপাসিয়ায় ৫ খুন

ভাইকে কল করে ফোরকান বলেন, ‘সবাইকে মাইরা ফেলছি, আমারে আর পাবি না’

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৯ মে ২০২৬, ০৫:৫৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার রাউৎকোনা গ্রামে বহুতল একটি বাড়ি থেকে এক নারী, তার তিন সন্তান ও নারীর ভাইসহ পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় ওই নারীর স্বামী ফোরকান মিয়া (৪০) পলাতক।

শনিবার (৯ মে) সকালে ফোরকান নিজে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন বলে স্বজনদের কল করে জানান।

রাউৎকোনা গ্রামের মো. মনির হোসেনের বাড়ির নিচতলায় এ ঘটনা ঘটে। সেখানে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনসহ (পিবিআই) আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিট কাজ করছে।

অভিযুক্ত ফোরকান মিয়া গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার মেরী গোপীনাথপুর গ্রামের মো. আতিয়ার রহমানের ছেলে। নিহত ব্যক্তিরা হলেন ফোরকান মিয়ার স্ত্রী শারমিন আক্তার (৩০), মেয়ে মীম খানম (১৫), উম্মে হাবিবা (৮), ফারিয়া (২) ও শ্যালক গোপালগঞ্জ সদরের পাইককান্দি গ্রামের রসুল মিয়া (২২)।

ফোরকানের পরিবার প্রায় পাঁচ বছর ধরে ওই বাড়িতে ভাড়া থাকত। ফোরকান প্রাইভেট কার চালাতেন। আর তার শ্যালক রসুল গাজীপুর সদরের একটি কারখানায় চাকরি করতেন।

নিহত শারমিন আক্তারের ফুফু জেসমিন আক্তার বলেন, তিনি স্বজনদের কাছ থেকে ঘটনার কথা জানতে পারেন। তার ভাষ্য, ভাতিজির স্বামী কল করে নিজেই হত্যার কথা জানিয়েছেন। খবর পেয়ে তারা ঘটনাস্থলে এসে দেখেন, ঘরের বিভিন্ন স্থানে মরদেহগুলো ছড়িয়ে–ছিটিয়ে আছে।

জেসমিন আক্তার বলেন, রসুল মিয়া অন্য জায়গায় চাকরি করতেন। শুক্রবার (৮ মে) ফোরকান মিয়া তাকে নতুন চাকরি দেওয়ার কথা বলে ডেকে আনেন। এরপর স্ত্রী–সন্তানের সঙ্গে রসুল মিয়াকেও হত্যা করে পালিয়ে যান ফোরকান।

শারমিনের আরেক ফুফু ইভা আক্তার বলেন, ফোরকান তার ভাই মিশকাতকে ফোন দিয়ে বলেন, ‘আমার সব শেষ হয়ে গেছে। সবাইকে মাইরা ফেলছি। আমারে আর তোরা পাবি না।’ খবর পেয়ে তারা পাঁচ থেকে ছয়জন সকালে ঘটনাস্থলে যান। গিয়ে দেখেন, ভবনের কলাপসিবল গেট খোলা। নিচতলার কক্ষগুলোর দরজাও খোলা। ভেতরে গিয়ে তারা মেঝে ও বিছানায় নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। পরে জাতীয় জরুরি সেবা-৯৯৯ নম্বরে ফোন করে বিষয়টি জানানো হয়। একই সঙ্গে তারা কাপাসিয়া থানায় রওনা হন।

আরও পড়ুন

তিনি বলেন, ফোরকান মিয়া আরেকটি বিয়ে করার কথা স্ত্রীকে জানিয়েছিলেন। এ নিয়ে শারমিন খুব মনঃক্ষুণ্ন ছিলেন। তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে মনোমালিন্য চলছিল। ছয় থেকে সাত মাস আগে ফোরকান শারমিনকে মারধর করেছিলেন। এতে তার শরীরের বিভিন্ন অংশ ফুলে যায়। পরে তাকে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসা করানো হয়। সুস্থ হওয়ার পর তিনি বাবার বাড়িতে থাকছিলেন। কয়েক দিন পর ফোরকান আবার স্ত্রীকে সেখান থেকে নিয়ে আসেন। এরপরও দ্বিতীয় বিয়ের প্রসঙ্গ নিয়ে তাদের মধ্যে ঝগড়া–বিবাদ চলছিল। শারমিন স্বামীকে জানিয়েছিলেন, তার সন্তানদের নিয়ে কোথাও যাওয়ার জায়গা নেই, তাই স্বামীর সঙ্গেই থাকতে চান। এর মধ্যেই আজ পাঁচজনের মরদেহ পাওয়া গেল।

ইভা আক্তার আরও বলেন, আমার ভাতিজিসহ বাকি সবাইকে ফোরকান মিয়া হত্যা করেছে বলেই মনে হচ্ছে। আমরা এর কঠোর বিচার চাই।

এদিকে ঘরের ভেতর থেকে গোপালগঞ্জ সদর থানায় করা একটি অভিযোগের কপি উদ্ধার করা হয়েছে। কপিটিতে কোনো সই নেই। সেটি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ৩ মে ফোরকান মিয়া একটি ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে থানায় অভিযোগ করেন। সেখানে তার স্ত্রী, শ্বশুরসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগে বলা হয়, শ্বশুর তার স্ত্রীর মাধ্যমে কয়েক দফায় তার কাছ থেকে এক লাখ টাকা নিয়েছেন। এ ছাড়া স্ত্রী তার এক স্বজনের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কে জড়িয়েছেন। এসব বিষয়ে প্রতিবাদ করায় শ্বশুর ও অন্যরা মিলে তাকে হাত–পা বেঁধে নির্যাতন করেন।

অভিযোগের বিষয়টি যাচাই করতে আজ বেলা একটার দিকে গোপালগঞ্জ সদর থানার দাপ্তরিক মুঠোফোন নম্বরে কল করা হলেও কেউ ধরেননি।

নিহত শারমিন আক্তারের চাচা মো. উজ্জ্বল মিয়া বলেন, আমাদের জানামতে ফোরকান সম্প্রতি তার শ্বশুরবাড়ি যায়নি। তাকে মারধরের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমার মনে হয়, সে নিজেকে বাঁচানোর জন্য এমন অভিযোগ লিখেছে।

এ বিষয়ে গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (কালিগঞ্জ সার্কেল) মো. আসাদুজ্জামান বলেন, আমরা ধারণা করছি, পারিবারিক কলহের জেরে ফোরকান এ ঘটনা ঘটিয়ে পালিয়ে গিয়ে থাকতে পারেন। ঘরের ভেতরে অনেক আলামত ছড়িয়ে–ছিটিয়ে আছে। আমাদের বিশেষজ্ঞ দল আলামত সংগ্রহ করবে। আমরা জানতে পেরেছি, আজ সকাল ছয়টার দিকে ফোরকান তার গ্রামের বাড়িতে একজনকে কল করে জানিয়েছেন যে তিনি এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। তবে এ বিষয়ে আমরা এখনো নিশ্চিত নই। তথ্য যাচাই–বাছাই চলছে। আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
হাসপাতালে মৃত্যুশয্যায় মা, চিকিৎসার টাকা নিয়ে উধাও ছেলে
হাসপাতালে যখন মৃত্যুযন্ত্রণায় ছটফট করছেন মা, ঠিক সেই মুহূর্তে চিকিৎসার জন্য ব্যাংকে জমানো দেড় লাখ টাকা তুলে নিয়ে সটকে পড়েছেন তার বড় ছেলে।  সম্প্রতি লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার করুণানগর এলাকায় ঘটা এই অমানবিক ঘটনাটি এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। অর্থের অভাবে রাজধানীর শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওই মায়ের জীবন এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে। ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক বছর আগে ওই নারীর স্বামী মারা যান। দুই ছেলে ও দুই মেয়ের সংসারে মা তার বাবার বাড়ির ওয়ারিশি সম্পত্তি বিক্রির ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা দুই ছেলে— মোহাম্মদ আলাউদ্দিন ও সালাউদ্দিনের নামে সোনালী ব্যাংকের একটি যৌথ অ্যাকাউন্টে জমা রেখেছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল, ভবিষ্যতে নিজের বিপদ বা চিকিৎসার প্রয়োজনে এই অর্থ কাজে লাগবে। সপ্তাহখানেক আগে তৃতীয়বারের মতো স্ট্রোক করলে ওই নারীকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকার শ্যামলীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে সংকটজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকালে মায়ের চিকিৎসার জরুরি খরচের জন্য দুই ভাই আলাউদ্দিন ও সালাউদ্দিন সোনালী ব্যাংক কমলনগর শাখা থেকে যৌথ অ্যাকাউন্টের পুরো টাকা উত্তোলন করেন। তবে টাকা তোলার পরপরই বড় ভাই আলাউদ্দিন কৌশলে ছোট ভাই সালাউদ্দিনকে বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়ে এলাকা থেকে গা-ঢাকা দেন। পরবর্তীতে স্বজনরা যোগাযোগের চেষ্টা করলে আলাউদ্দিন সাফ জানিয়ে দেন— মায়ের নামে থাকা জমি তার নামে লিখে না দিলে তিনি চিকিৎসার এই টাকা দেবেন না। ঘটনাটি রোববারের হলেও বুধবার সন্ধ্যায় ভুক্তভোগীর ছোট ছেলে সালাউদ্দিন বিষয়টি গণমাধ্যমকে জানান। ছোট ছেলে সালাউদ্দিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, বড় ভাই বেশ কিছুদিন ধরেই মায়ের জমি নিজের নামে লিখে নিতে চাপ দিচ্ছিলেন। কিন্তু মা রাজি হননি। এখন মায়ের জীবন-মরণ সন্ধিক্ষণে তিনি প্রতারণা করে চিকিৎসার টাকা আটকে রেখে জমি লিখে নেওয়ার শর্ত জুড়ে দিয়েছেন। টাকার অভাবে মায়ের চিকিৎসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে, আমরা এখন চরম দিশেহারা। ঘটনাটি জানতে পেরে তীব্র নিন্দা জানিয়ে স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. সোলাইমান বলেন, মায়ের চিকিৎসার জন্য রাখা টাকা তুলে ছেলে চম্পট দেওয়ার ঘটনাটি অত্যন্ত অমানবিক। এমন পাষণ্ড সন্তানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হওয়া উচিত। করুণানগর এলাকার প্রবীণ বাসিন্দা আবুল কালাম আফসোস করে বলেন, মাতা-পিতার আত্মত্যাগকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যে সন্তান মাকে মৃত্যুর মুখে ফেলে টাকা নিয়ে পালাতে পারে, আল্লাহ যেন এমন কুলাঙ্গার সন্তান আর কারো ঘরে না দেন। প্রশাসনের উচিত এ বিষয়ে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া। জানা গেছে, অভিযুক্ত আলাউদ্দিন উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের করুণানগর এলাকার মৃত হানিফ বেপারীর বড় ছেলে। ব্যক্তিজীবনে তিনি দুটি বিয়ে করে আলাদা সংসার করছেন। ঘটনার পর থেকে তার মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রাহাত উজ-জামান বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত অমানবিক। অসুস্থ মায়ের চিকিৎসার টাকা নিয়ে সটকে পড়া এবং শর্ত জুড়ে দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে দ্রুত লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। আরটিভি/এসএস
হাসপাতালে মৃত্যুশয্যায় মা, চিকিৎসার টাকা নিয়ে উধাও ছেলে
মাদরাসাছাত্রের শরীরে ব্যথার কারণ থেকে মিলল ‘ভয়ংকর সত্য’
নড়াইলে ৮ বছর বয়সী এক মাদরাসাছাত্রকে বলাৎকারের অভিযোগ উঠেছে হাবিবুর রহমান (১৫) নামের এক কিশোরের বিরুদ্ধে। 
মাদরাসাছাত্রের শরীরে ব্যথার কারণ থেকে মিলল ‘ভয়ংকর সত্য’
থানায় ভাঙচুর চালাল জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক ১৭ কিশোর 
কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়ার পর ১৭ কিশোর কুমিল্লার দাউদকান্দি থানার ভেতর ভাঙচুর চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
থানায় ভাঙচুর চালাল জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক ১৭ কিশোর 
সাহায্য চাইছিল সড়কে পড়ে থাকা রক্তাক্ত নারী, ছবি তুলতে ব্যস্ত জনতা
চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় আহত এক নারী দীর্ঘ সময় রাস্তায় পড়ে থাকলেও তাকে উদ্ধারের বদলে ছবি ও ভিডিও ধারণে ব্যস্ত ছিলেন আশপাশের অনেকে।
সাহায্য চাইছিল সড়কে পড়ে থাকা রক্তাক্ত নারী, ছবি তুলতে ব্যস্ত জনতা
মঠবাড়িয়ায় ৫ লাখের বেশি মানুষ থাকলেও নেই ব্লাড ব্যাংক
পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় পাঁচ লাখের বেশি মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় চরম ভোগান্তি আর অনিশ্চয়তার নাম ব্লাড ব্যাংক। উপজেলায় সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক কোনো স্থায়ী ব্লাড ব্যাংক বা আধুনিক রক্ত সংরক্ষণাগার না থাকায় জরুরি মুহূর্তে রোগীদের স্বজনদের ছুটতে হয় দিশেহারা হয়ে। সময়মতো রক্ত না পেয়ে অনেক সময় সংকটাপন্ন রোগীদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ছে।
মঠবাড়িয়ায় ৫ লাখের বেশি মানুষ থাকলেও নেই ব্লাড ব্যাংক
আরও পড়ুন
রংপুরে চার খুন: হত্যার আগে-পরে ৮০ বার ফোনালাপ, নতুন তথ্য দিল পুলিশ
জামিনে বেরিয়ে খুন হলেন ‘পিচ্চি জাহেদ’
রংপুরে ৪ খুনের ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেন ত্রাণমন্ত্রী
এবার সামনে এলো রংপুরে চার খুনের রহস্যে নতুন মোড়