সুন্দরবনে জলদস্যুদের মুক্তিপণ দিয়েও নিখোঁজ ২, ফিরেছেন ১৮ বনজীবী

আরটিভি নিউজ

বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬ , ০৩:৩৭ পিএম


সুন্দরবনে জলদস্যুদের মুক্তিপণ দিয়েও নিখোঁজ ২, ফিরেছেন ১৮ বনজীবী
ছবি: কোলাজ আরটিভি

সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপকূলসংলগ্ন সুন্দরবনে জলদস্যুদের হাতে অপহৃত ২০ জেলে ও মৌয়ালের মধ্যে ১৮ জন মুক্তিপণ দিয়ে বাড়ি ফিরেছেন। তবে টাকা পাঠিয়েও নিখোঁজ আছেন ২ জেলে।

সোমবার (১১ মে) বিকেল থেকে বুধবার (১৩ মে) পর্যন্ত ধাপে ধাপে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে এসেছেন ছাড়া পাওয়া জেলে-মৌয়ালরা। তাদের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও নিখোঁজ ২ পরিবার ঘিরে উৎকণ্ঠা এখনও কাটেনি।

ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, ৪ ও ৫ মে ‘আলিফ ওরফে আলিম বাহিনী’ ও ‘নানাভাই ওরফে ডন বাহিনীর’ পরিচয়ে অস্ত্রধারী দস্যুরা সুন্দরবনের চুনকুড়ি নদীর গোয়ালবুনিয়া দুনের মুখ, ধানোখালির খাল, মামুন্দো নদীর মাধভাঙা খাল ও মালঞ্চ নদীর চালতে বেড়ের খাল এলাকা থেকে ২০ জন জেলে ও মৌয়ালকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরে তাদের মহাজন, সহযোগী ও পরিবারের সদস্যদের কাছে মুঠোফোনে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। কয়েক দফা দর-কষাকষির পর দাবিকৃত অর্থ কিছুটা কমিয়ে নির্ধারিত বিকাশ নম্বরে টাকা পাঠানো হয়। এরপর ধাপে ধাপে অপহৃতদের ছেড়ে দেয় দস্যুরা।

সোমবার বিকেল থেকে বুধবার পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে বাড়ি ফেরেন ১৮ জেলে ও মৌয়াল। তাদের মধ্যে মুরশিদ আলম ৭০ হাজার, করিম শেখ ১ লাখ ২০ হাজার, আবু ইসা ৫৫ হাজার, মমিন ফকির ৪৫ হাজার, আল-আমিন ২৫ হাজার, আবুল বাসার বাবু ৩০ হাজার, আবুল কালাম ৩০ হাজার, শাহাজান গাজী ৪০ হাজার, সিরাজ গাজী ৪০ হাজার, রবিউল ইসলাম বাবু ২০ হাজার, সঞ্জয় ২০ হাজার, আল-মামুন ২০ হাজার, হুমায়ুন ২০ হাজার, মনিরুল মোল্লা ২০ হাজার, রবিউল ইসলাম ২০ হাজার, হৃদয় মণ্ডল ২০ হাজার, আবদুস সালাম ৪০ হাজার এবং ইব্রাহিম গাজী ৫৫ হাজার টাকা মুক্তিপণ দিয়ে মুক্ত হন। সব মিলিয়ে প্রায় ৭ লাখ টাকা আদায় করেছে দস্যুরা।

তবে শুকুর আলী গাজী ও রেজাউল করিম নামের ২ জেলের পরিবারের পক্ষ থেকে ৩০ হাজার টাকা করে পাঠানো হলেও তারা এখনও বাড়ি ফেরেননি। এতে তাদের পরিবারে উৎকণ্ঠা বাড়ছে।

ফিরে আসা জেলেরা অভিযোগ করেন, সুন্দরবনে এখনও জলদস্যুদের দৌরাত্ম্য অব্যাহত আছে। তারা বনাঞ্চলে নিরাপত্তা জোরদার, নিয়মিত টহল বাড়ানো এবং দস্যু দমনে কার্যকর অভিযান পরিচালনার দাবি জানান।

আরও পড়ুন

পশ্চিম সুন্দরবন সাতক্ষীরা রেঞ্জের সহকারী বন সংরক্ষক মো. মশিউর রহমান বলেন, জলদস্যু নির্মূলে কোস্টগার্ডের সঙ্গে যৌথ অভিযান চলমান। তবে অধিকাংশ ক্ষেত্রে অপহৃতদের পরিবার বা সহযোগীরা অনেক সময় বিস্তারিত তথ্য গোপন রাখেন ও নিজেরাই দস্যুদের সঙ্গে সমঝোতা করে নেন।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission