ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

‎যমুনার থাবায় মৃত্যুপুরীতে পরিণত হচ্ছে চৌহালী

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৭ জুন ২০২৬, ১০:৫৬ এএম
ছবি: সংগৃহীত

যমুনার পাড়ে দাঁড়িয়ে থাকা এক শিশুর চোখে আতঙ্ক। তার একটাই প্রশ্ন— আমাদের ঘরটা কি এবারও নদীতে চলে যাবে?

সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার হাজারো মানুষের কাছে এই প্রশ্ন নতুন নয়। বছরের পর বছর, প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তারা যমুনা নদীর ভয়াল ভাঙনের সঙ্গে এক অসম যুদ্ধ লড়ে যাচ্ছে। সরকার বদলেছে, জনপ্রতিনিধি বদলেছে, উন্নয়নের নানা প্রতিশ্রুতি এসেছে; কিন্তু বদলায়নি চৌহালীর মানুষের ভাগ্য। যমুনার একের পর এক আঘাতে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রাম, বসতভিটা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল কবরস্থান, ফসলি জমি এবং মানুষের জীবনভর গড়ে তোলা স্বপ্ন।

সম্প্রতি উপজেলার চর সলিমাবাদ এলাকায় আবারও নতুন করে নদীভাঙন শুরু হয়েছে। পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভাঙনের তীব্রতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। নদীতীরবর্তী শত শত পরিবার এখন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছে। কখন নদী গিলে খাবে শেষ সম্বলটুকু— সেই শঙ্কায় নির্ঘুম রাত পার করছেন তারা।

‎স্মৃতির সঙ্গে ভেঙে যায় জীবন

বাঘুটিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী ইয়াসিন আরাফাত শিকদার বলেন, ছোটবেলা থেকেই বাবার কাছে নদীভাঙনের অসংখ্য গল্প শুনেছি। মানুষের দুর্ভোগের কথা জেনেছি। কিন্তু কখনো ভাবিনি সেই ভয়াবহতার মুখোমুখি আমাকেও হতে হবে। ২০১৪ সালের ফুটবল বিশ্বকাপ চলাকালে যখন পুরো দেশ উৎসবে মেতেছিল, তখন আমাদের এলাকায় শুরু হয়েছিল ভয়াবহ নদীভাঙন। আমাদের বাড়ি, পুকুর, ফলের বাগান, মসজিদ ও আত্মীয়স্বজনের বাড়িসহ সবকিছু নদীতে হারিয়ে যায়। হারিয়ে যায় আমার শৈশবের স্মৃতিও।

তিনি আরও বলেন, একসময় আমাদের বাড়িতে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ আশ্রয় নিত। কিন্তু একদিন আমরাই আশ্রয়হীন হয়ে পড়ি। বহুবার টেকসই বেড়িবাঁধের দাবি তুলেছি, কিন্তু কোনো ফল পাইনি। অনেক নেতা-মন্ত্রী প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, কিন্তু বাস্তবায়ন হয়নি।

ইয়াসিনের অভিজ্ঞতা যেন চৌহালীর হাজারো নদীভাঙনকবলিত মানুষের জীবনের প্রতিচ্ছবি।

স্থায়ী সমাধানের দাবিতে চৌহালীবাসী

বিনানই গ্রামের বাসিন্দা মো. মুত্তাকিন বলেন, সরকার বদলায়, কিন্তু চৌহালীর মানুষের ভাগ্য বদলায় না। প্রতি বছর নদীভাঙনে মানুষ নিঃস্ব হচ্ছে। অথচ একটি স্থায়ী নদীতীর সংরক্ষণ বাঁধ এখনো বাস্তবায়িত হয়নি।

তিনি বলেন, চৌহালীর মানুষ কোনো করুণা চায় না, তারা চায় নিরাপদে বেঁচে থাকার অধিকার। তাই দীর্ঘমেয়াদি ও বৈজ্ঞানিক পরিকল্পনার মাধ্যমে একটি কার্যকর ও স্থায়ী নদীরক্ষা বাঁধ নির্মাণ এখন সময়ের দাবি।

হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামের পর গ্রাম

স্থানীয়দের দাবি, গত প্রায় দেড় দশকে চৌহালী উপজেলার ২০ থেকে ৩০টিরও বেশি গ্রাম আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে যমুনার গর্ভে বিলীন হয়েছে। অসংখ্য পরিবার একাধিকবার বসতভিটা স্থানান্তর করতে বাধ্য হয়েছে।

চৌহালীর বাঘুটিয়া, খাসপুখুরিয়া, ঘোরজান ও উমারপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা বর্তমানে ভাঙনের অধিকাংশ শেষ । উত্তর ও দক্ষিণ খাসপুখুরিয়া, রেহাইপুখুরিয়া, চর নাকালিয়া, চর বিনানই, হাটাইল, পাথরাইল, চৌবাড়িয়া, সম্ভুদিয়া, মেটুয়ানী, হাপানিয়া ও চর সলিমাবাদসহ অসংখ্য গ্রাম ভাঙনের ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, চলতি মৌসুমেই প্রায় পাঁচ শতাধিক বাড়িঘর ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। হারিয়ে গেছে প্রায় তিন হাজার বিঘা ফসলি জমি। একসময় যেখানে ছিল সবুজ ফসলের মাঠ ও জনবসতি, সেখানে এখন শুধু যমুনার বিস্তীর্ণ জলরাশি।

ভাঙনের সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে শিক্ষার আলো

নদীভাঙন শুধু মাটি কেড়ে নেয় না, কেড়ে নেয় মানুষের ভবিষ্যৎও। প্রতিবার ভাঙনের পর পরিবারগুলো নতুন করে বসতি গড়ার সংগ্রামে নেমে পড়ে। ফলে সন্তানদের শিক্ষাজীবন ব্যাহত হয়। কেউ বিদ্যালয় পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়, আবার কেউ ঝরে পড়ে শিক্ষার মূলধারা থেকে।

বর্তমানে অন্তত ১৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এসব প্রতিষ্ঠানও নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

কবরস্থানও রক্ষা পায়নি

যমুনার ভয়াল ভাঙন থেকে রক্ষা পায়নি ধর্মীয় ও সামাজিক স্থাপনাও। স্থানীয়দের দাবি, দুই বছর আগে চর সলিমাবাদ দক্ষিণপাড়া কবরস্থানে ভয়াবহ ভাঙনের ফলে এক সপ্তাহের ব্যবধানে ১৫ থেকে ১৬টি কবর থেকে লাশ নদীতে ভেসে যায়। পরে স্বজনরা মরদেহ অন্যত্র স্থানান্তর করে পুনরায় দাফন করেন।

মসজিদ, মাদ্রাসা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কমিউনিটি ক্লিনিকসহ নানা স্থাপনা নদীর আগ্রাসনে হারিয়ে যাচ্ছে। এর সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে মানুষের ইতিহাস, স্মৃতি ও আবেগ।

চিকিৎসা ও যোগাযোগ ব্যবস্থাও সংকটে

চলতি বছরে খাসপুখুরিয়া থেকে বাঘুটিয়া ইউনিয়নের প্রায় তিন থেকে পাঁচ কিলোমিটার এলাকায় তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে বেশ কয়েকটি বসতবাড়ি এবং একটি কমিউনিটি ক্লিনিক।

ভাঙনের কারণে চিকিৎসাসেবা, শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। অনেক এলাকায় পৌঁছাতে এখনো নৌকাই একমাত্র ভরসা। জরুরি রোগী পরিবহন এবং প্রশাসনিক সেবা পাওয়া সাধারণ মানুষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

আশ্বাস অনেক, সমাধান কোথায়?

নদীভাঙন প্রসঙ্গে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোখলেছুর রহমান বলেন, চৌহালী উপজেলার ভূতের মোড় এলাকায় নদীতীর সংরক্ষণ বাঁধে ভাঙন দেখা দেওয়ায় সেখানে জিওব্যাগ ও জিওটিউব ফেলা হচ্ছে।

তিনি জানান, খাসকাউলিয়াসহ দুটি স্থানে বাঁধে ভাঙন দেখা দেওয়ায় ইতোমধ্যে সংস্কারকাজ সম্পন্ন করা হয়েছে।

তবে তিনি স্বীকার করেন, কিছু এলাকায় কোনো বাঁধ নেই, কিন্তু নদীতীর ভাঙছে। বাজেট স্বল্পতার কারণে এসব স্থানে এখনই সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

স্থায়ী সমাধানের অপেক্ষায় চৌহালী

আরও পড়ুন

বিশেষজ্ঞদের মতে, যমুনার মতো বৃহৎ নদীর ভাঙন মোকাবিলায় প্রয়োজন দীর্ঘমেয়াদি নদীশাসন পরিকল্পনা, টেকসই নদীরক্ষা বাঁধ নির্মাণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষের পুনর্বাসন। অস্থায়ী ব্যবস্থা দিয়ে এ সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

কিন্তু পরিকল্পনা বাস্তবায়নের অপেক্ষায় থাকতে থাকতে চৌহালীর মানুষের জীবন থেকে হারিয়ে যাচ্ছে আরও একটি বছর, আরও একটি গ্রাম, আরও কিছু স্বপ্ন।

আজও যমুনার তীরে দাঁড়িয়ে অসহায় চোখে নদীর দিকে তাকিয়ে থাকে মানুষ। কেউ ঘর সরানোর প্রস্তুতি নেয়, কেউ শেষবারের মতো নিজের উঠোনে দাঁড়িয়ে স্মৃতিগুলোকে বিদায় জানায়।

সরকার বদলায়, সময় বদলায়, উন্নয়নের গল্প বদলায়। কিন্তু চৌহালীর মানুষের চোখের জল, নদীভাঙনের ভয় আর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ যেন একই জায়গায় স্থির হয়ে আছে। যমুনা আজও গিলে খাচ্ছে মাটি, আর সেই মাটির সঙ্গে হারিয়ে যাচ্ছে চৌহালীর মানুষের জীবনভর গড়ে তোলা স্বপ্ন।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির ২ ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু
চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গুর উপসর্গ নিয়ে ভর্তির মাত্র দুই ঘণ্টার মধ্যে মো. সিয়াম (২০) নামের এক তরুণের মৃত্যু হয়েছে।
ডেঙ্গুর উপসর্গে হাসপাতালে ভর্তির ২ ঘণ্টার মধ্যেই তরুণের মৃত্যু
খাল ভরাটে বাধা, ভূমি কর্মকর্তাকে বেধড়ক পিটুনি
মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে ড্রেজার দিয়ে অবৈধভাবে সরকারি জমি ভরাটে বাধা দেওয়ায় ভূমি কার্যালয়ের কর্মচারীদের মারধর ও হত্যার হুমকির অভিযোগ উঠেছে।
খাল ভরাটে বাধা, ভূমি কর্মকর্তাকে বেধড়ক পিটুনি
জ্বালানি তেলের দাম কবে কমাবে সরকার, জানালেন প্রতিমন্ত্রী
দেশে সব ধরনের তেলের দাম এক লাফে লিটারপ্রতি ২০ টাকা বাড়িয়েছে সরকার। হঠাৎ এমন অতিরিক্ত দাম বাড়ানোর কারণে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে।
জ্বালানি তেলের দাম কবে কমাবে সরকার, জানালেন প্রতিমন্ত্রী
মেয়াদ ফুরালেও শেষ হলো না সেতুর কাজ
খুলনার পাইকগাছায় শিবসা নদীর ওপর ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন ৭৪৮ মিটার দীর্ঘ সেতুটির কাজ শেষ হয়েছে প্রায় ৭৬ শতাংশ। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে মূল চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এ সময়ের মধ্যে কাজ শেষ হচ্ছে না। প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, নির্মাণকাজ শেষ করতে আরও ছয় মাস সময় বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে। লক্ষ্য অনুযায়ী চলতি বছরের শেষ নাগাদ সেতুটির কাজ শেষ হতে পারে। তবে সেতুর কাজ এগোলেও নির্মাণসামগ্রী বহনকারী ভারী ট্রাকের চাপে গ্রামীণ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পাশাপাশি সংযোগ সড়কের অবস্থান নিয়ে স্থানীয়দের একাংশের আপত্তি রয়েছে। লস্কর ইউনিয়ন পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম অভিযোগ করে বলেন, সেতুর নির্মাণসামগ্রী বহনকারী ভারী ট্রাক চলাচলের কারণে গ্রামীণ সড়কগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। বাইনতলা বাজারের সংযোগ সড়ক সামান্য বৃষ্টিতেই চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, গিলাবাড়ীর পরিবর্তে গড়ইখালীর সঙ্গে সংযোগ সড়ক হওয়ায় লস্কর ইউনিয়নের অনেক মানুষ সেতুটির প্রত্যাশিত সুবিধা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন। প্রকাশ সরকার সংশয় নিয়ে বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে মুল ব্রিজের কাজ শেষ হলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণ করা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। কারণ সড়কের জন্য জমি অধিগ্রহণ এখনো করা হয়নি। আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কারণে ব্রিজ হলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণে কত বছর লাগবে সেটাই ভাবছি। লাভলু সানা নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, প্রথমে ব্রিজের সংযোগ সড়কটি খড়িয়া খালপাড় হয়ে বগুড়ারচক দিয়ে গিলাবাড়ি পর্যন্ত হওয়ার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু শুধুমাত্র ব্রিজ হচ্ছে। সংযোগ সড়ক হচ্ছেনা। ফলে কয়রা উপজেলায় মানুষ এখন এ ব্রিজের সুবিধা ভোগ করতে পারবে না। এ ছাড়া সেতু নির্মাণের কারণে শিবসা নদীতে পলি জমে নাব্য কমে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কয়েকজন। এতে ভবিষ্যতে জলাবদ্ধতা বা বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে তাঁদের ধারণা। তবে এ আশঙ্কার পক্ষে কোনো কারিগরি সমীক্ষার তথ্য পাওয়া যায়নি। পাইকগাছা জিসি-লস্কর বাজার, বাইনতলা, বগুড়ারচক, শুড়িখালী, ভান্ডারপোল ও গিলাবাড়ী জিসি সড়কের ২ হাজার ৩০০ মিটার চেইনেজে সেতুটির অবস্থান। লস্কর ও গড়ইখালী ইউনিয়নের লস্কর গ্রামের শিবসা নদীর ওপর নির্মিত সেতুটির দৈর্ঘ্য ৭৪৮ মিটার এবং প্রস্থ ৯ দশমিক ৮ মিটার। ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেড (এনডিই) ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে সেতুটির নির্মাণকাজ শুরু করে। প্রকল্পসংশ্লিষ্টদের তথ্যমতে, সেতুটির ২৪০টি পাইলের সবগুলোর কাজ শেষ হয়েছে। দুই পাড়ে প্রায় ২ দশমিক ৭১ একর জমি অধিগ্রহণের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। জমি পরিদর্শনের কাজও সম্পন্ন হয়েছে। বর্তমানে প্রকল্পের প্রায় ৭৬ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। মূল চুক্তি অনুযায়ী চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তা শেষ হচ্ছে না। ফলে চুক্তির মেয়াদ আরও ছয় মাস বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে। স্থানীয় বাসিন্দা আবুল কালাম ও ব্যবসায়ী তেজেন মণ্ডল বলেন, চিকিৎসা ও জরুরি প্রয়োজনে তাঁদের খুলনায় যেতে দীর্ঘ পথ ঘুরতে হয়। শিবসা নদী পারাপারের বর্তমান ব্যবস্থা এবং শিববাটী সেতু হয়ে যাতায়াতের কারণে সময় ও খরচ দুটোই বাড়ে। নতুন সেতু চালু হলে এ দুর্ভোগ কমবে। ব্যবসায়ী আলীমুজ্জমান বলেন, সেতুটি দ্রুত চালু হলে ঘেরের মাছসহ কৃষি ও ব্যবসাপণ্য সহজে খুলনায় নেওয়া যাবে। এতে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যও বাড়বে। পল্লী সড়ক (সিআইবিআরআর) প্রকল্পের আওতায় নির্মিত এ সেতু চালু হলে পাইকগাছার সঙ্গে খুলনা শহরের সরাসরি যোগাযোগ আরও সহজ হবে। পাশাপাশি আশপাশের কয়েকটি উপজেলার মানুষও এর সুফল পাবেন। প্রকল্পের ম্যানেজার সাহেব আলী বলেন, সেতুর প্রায় ৭৬ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। দ্রুতগতিতে কাজ এগিয়ে চলছে। চলতি বছরের শেষ নাগাদ নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী শাফীন সোহেব ও উপসহকারী প্রকৌশলী সজল বিশ্বাস বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার চেষ্টা চলছে। লস্কর প্রান্তে তিন রাস্তার মোড়ে একটি গোলচত্বর নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এতে যানবাহন চলাচল সহজ হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী বলেন, সেতুটি চালু হলে একাধিক উপজেলার মানুষের যোগাযোগ সহজ হবে। নির্মাণকাজ শেষ করে দ্রুত সেতুটি জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করার চেষ্টা চলছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, সেতুর কাজ দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি নির্মাণকাজে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কগুলো সংস্কার করা হবে। একই সঙ্গে সংযোগ সড়কের অবস্থান নিয়ে স্থানীয়দের আপত্তিও বিবেচনায় নেওয়া হবে। তাঁদের মতে, শুধু সেতু নির্মাণ শেষ করলেই হবে না, নিরাপদ ও কার্যকর সংযোগ সড়ক নিশ্চিত হলেই এর সুফল মানুষের কাছে পৌঁছাবে। আরটিভি/এমএইচজে
মেয়াদ ফুরালেও শেষ হলো না সেতুর কাজ
৭১-এর পরাজিত শক্তিরা এখন ভারতের সাথে হাত মিলিয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, ৭১-এর পরাজিত শক্তিরা এখন ভারতের সাথে হাত মিলিয়েছে, যারা দেশের মানুষকে গুম, খুন করেছে সেই ফ্যাসিস্টদের সাথেও তারা হাত মিলিয়েছে।
৭১-এর পরাজিত শক্তিরা এখন ভারতের সাথে হাত মিলিয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
আরও পড়ুন
সিরাজগঞ্জে এসএসসিতে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা ও বৃত্তি প্রদান
বিএনপির ২১ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মামলা করলেন জামায়াত নেতা 
লং মার্চে যাওয়ার পথে জামায়াত নেতাকে কুপিয়ে জখম
২৫ জেলায় তাপপ্রবাহ, ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস