ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

বেনাপোল বন্দরে বৃষ্টির পানিতে ভাসছে কোটি টাকার আমদানি পণ্য

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১১ জুলাই ২০২৬, ১০:৩৬ এএম
ছবি: সংগৃহীত

একদিনের বৃষ্টিতে বেনাপোল বন্দরের বিভিন্ন শেডে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। পাঁচটি শেডে পানিতে তলিয়েছে বিভিন্ন ধরনের আমদানিকৃত মালামাল। কোটি কোটি টাকার পণ্য এখন হাঁটুপানিতে ভাসছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাত থেকেই বিরামহীনভাবে বৃষ্টি হচ্ছে এ অঞ্চলে। একটানা বৃষ্টিতে বেনাপোল বন্দরের ৩নং গেটের সামনে পাঁচটি শেডে পানিতে তলিয়েছে বিভিন্ন ধরনের আমদানিকৃত মালামাল। কোথাও কোথাও হাঁটুপানি জমে গেছে। এসব পানি পাওয়ার পাম্প দিয়ে বের করার চেষ্টা চলছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ ও বন্দর ব্যবহারকারীরা এসব এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

বন্দর ব্যবহারকারীরা বলছেন, দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল বন্দরে শেড ইয়ার্ডসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মিত হলেও নাজুক ড্রেনেজ ব্যবস্থার কারণে সামান্য বৃষ্টি হলেই পানিতে তলিয়ে যায় শত শত কোটি টাকার মালামাল।

বেনাপোল কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এমদাদুল হক লতা গণমাধ্যমকে বলেন, স্থানীয় বন্দর ব্যবহারকারী সংগঠনগুলো দীর্ঘদিন ধরে নানা অব্যবস্থাপনার কথা বলে এলেও বন্দর কর্তৃপক্ষ কোনো কথা আমলে না নেওয়ায় প্রায় শতাধিক আমদানিকারক সব হারিয়ে পথে বসার উপক্রম হয়েছে। বীমা না থাকায় বন্দর কর্তৃপক্ষ কোনো ক্ষতিপূরণও দেয় না। পানি নিষ্কাশনের বিষয়ে কমিটি করা হলেও তার কোনো কার্যকারিতা নেই। গত বছরের বর্ষার সময় কমিটির লোকজনের তৎপরতা ২/১ দিন দেখা গেলেও পরে এ নিয়ে আর কোনো পরিকল্পনা করা হয়নি।

বেনাপোল বন্দরের ব্যবসায়ী আলহাজ মতিয়ার রহমান গণমাধ্যমকে বলেন, বন্দরে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় চলাচলে মারাত্মক অসুবিধা হচ্ছে। কয়েকটি পণ্যাগারে পানি ঢুকে অনেক আমদানিকারকের লাখ লাখ টাকার মালামাল পানিতে ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। বন্দরের ভাড়া প্রতিবছর বাড়লেও তারা বন্দরের উন্নয়নে কোনো ভূমিকা নিচ্ছে না। অধিকাংশ অবকাঠামো দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ছাড়া তৈরি হওয়ায় বৃষ্টির সময় জলাবদ্ধতা তৈরি হচ্ছে। বারবার আশ্বাস দিলেও স্থায়ী সমাধান করা হচ্ছে না।

আরও পড়ুন

বেনাপোল আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক আনু জানান, অপরিকল্পিত উন্নয়ন ও পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় এই অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর হলো বেনাপোল। সরকার এই বন্দর থেকে বছরে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকার রাজস্ব আদায় করে থাকে। এ নিয়ে ব্যবসায়ীরা একাধিকবার বন্দরের কাছে অভিযোগ করলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি। এত বড় বাণিজ্যিক স্থাপনায় বছরের পর বছর এই দুর্দশা চললেও সরকারের কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া দুর্ভাগ্যজনক। বৃষ্টির পানি পণ্যাগারে ঢুকে মালামাল ভিজে নষ্ট হলে লোকসানের শিকার হতে হয় ব্যবসায়ীদের।

বেনাপোল স্থলবন্দরের উপপরিচালক কাজি রতন বলেন, বৃষ্টিতে বেশকিছু শেডে পানিতে মালামাল ভিজেছে। পাওয়ার পাম্প দিয়ে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা চলছে। তবে অবিরাম বৃষ্টি হওয়ায় কিছুটা বেগ পেতে হচ্ছে। বৃষ্টি পড়া বন্ধ হলে সমস্যা সমাধান হওয়ার আশা করেন তিনি। জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
গাজীপুরে পুলিশের ৩ গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, সাংবাদিক ও বিজিবি সদস্য আহত
শ্রমিক আন্দোলনে আজও উত্তপ্ত গাজীপুরের দুই মহাসড়ক। ইতোমধ্যে ছুটি দেওয়া হয়েছে দেড় শতাধিক কারখানা। এসব কারখানার শ্রমিকরা মহাসড়কে বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করছেন। 
গাজীপুরে পুলিশের ৩ গাড়িতে অগ্নিসংযোগ, সাংবাদিক ও বিজিবি সদস্য আহত
৪৭ বছর বয়সে এইচএসসি পাস করলেন আমিনুল, এবার আইন বিষয়ে পড়ার স্বপ্ন
গাজীপুরের শ্রীপুরে ৪৭ বছর বয়সে এইচএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মো. আমিনুল ইসলাম। ১৯৯৯ সালে এসএসসি পাসের পর দীর্ঘ ২৭ বছর পড়াশোনার বাইরে ছিলেন তিনি।
৪৭ বছর বয়সে এইচএসসি পাস করলেন আমিনুল, এবার আইন বিষয়ে পড়ার স্বপ্ন
এবার পোশাক শ্রমিকদের ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়ক অবরোধ
ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়ক অবরোধ করেছেন কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এতে সড়কটিতে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
এবার পোশাক শ্রমিকদের ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ সংযোগ সড়ক অবরোধ
শ্রমিক অসন্তোষে বন্ধ ৬৭০ পোশাক কারখানা: বিজিএমইএ
ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, ছাঁটাই হওয়া শ্রমিকদের পুনর্নিয়োগ এবং আন্দোলনরত শ্রমিকদের কালো তালিকাভুক্তি বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে দেশের প্রধান তিনটি শিল্পাঞ্চলে।
শ্রমিক অসন্তোষে বন্ধ ৬৭০ পোশাক কারখানা: বিজিএমইএ
ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার পর সড়ক ছাড়লেন আশুলিয়ার শ্রমিকরা, স্বাভাবিক হচ্ছে যান চলাচল
কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া, সংঘর্ষ ও উত্তেজনার পর সাভারের আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। শ্রমিকরা সড়ক থেকে সরে যাওয়ায় এলাকায় যান চলাচলও স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে আশুলিয়ার বেশ কয়েকটি কারখানায় সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সোমবার (২ নভেম্বর) সকাল থেকে আশুলিয়া ও নরসিংপুর এলাকার বিভিন্ন কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষের জেরে শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে রাস্তায় নেমে আসেন। এ সময় আশপাশের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকদেরও বাইরে বের করে আনার চেষ্টা করেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে শ্রমিকদের কয়েক দফা ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এ সময় হামীম গ্রুপের একটি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করেন বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। তবে দুপুরের পর শ্রমিকরা সড়ক থেকে সরে গেলে পরিস্থিতি ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হয়ে আসে। বর্তমানে ওই এলাকায় যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। শিল্প পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া জানান, আশুলিয়া এলাকার সার্বিক পরিস্থিতি ও যান চলাচল বর্তমানে স্বাভাবিক রয়েছে। দুপুরের পর থেকেই শ্রমিকরা সড়ক ছেড়ে চলে গেছেন। তিনি আরও জানান, নরসিংপুর, কাঠগড়া ও আশুলিয়া এলাকার বেশ কয়েকটি কারখানার শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে রাস্তায় নেমে আসেন। এ সময় তারা সড়কে ব্যারিকেড সৃষ্টি ও আগুন জ্বালানোর চেষ্টা করেন। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা এবং কারখানায় যেকোনো ধরনের নাশকতা প্রতিরোধে পুলিশ ও যৌথ বাহিনী কাজ করছে। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। আরটিভি/এসকে
ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার পর সড়ক ছাড়লেন আশুলিয়ার শ্রমিকরা, স্বাভাবিক হচ্ছে যান চলাচল
আরও পড়ুন
৯ দিন পর বেনাপোলে শুরু আমদানি-রপ্তানি
ছুটি শেষে বেনাপোল বন্দরে আমদানি-রপ্তানি শুরু