মরদেহ নিতে গিয়ে দুই পক্ষের হাতাহাতি, ঘটনা কী

আরটিভি নিউজ

মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২৬ , ১১:৩৬ পিএম


মরদেহ নিতে গিয়ে দুই পক্ষের হাতাহাতি, ঘটনা কী
ছবি: সংগৃহীত

বরগুনার তালতলীতে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খেয়ে এক গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় ময়নাতদন্ত শেষে মর্গ থেকে মরদেহ নিতে গিয়ে নিহতের স্বজন ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। তবে নিহতের পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ও স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দাম্পত্য জীবনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই বিরোধ লেগে থাকত। সোমবার রিমাকে গ্যাস্ট্রিকের ওষুধ খাওয়া অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, রিমাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ অভিযোগের পর তালতলী থানা পুলিশ মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

স্বজনদের দাবি, মরদেহ মর্গে রেখে রিমার স্বামী ইউসুফ ও তার পরিবারের সদস্যরা কাউকে কিছু না জানিয়েই সেখান থেকে চলে যান। পরে প্রায় দুই ঘণ্টা পর তারা আবার মর্গে এলে বিষয়টি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়। পরে পুলিশ ও স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

এ বিষয়ে আবু বকর নামে নিহত রিমার এক স্বজন বলেন, আমরা শুনেছি, রিমাকে মেরে ফেলা হয়েছে। কিন্তু পুলিশকে ম্যানেজ করে অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। পরে আমরা ময়নাতদন্তের আবেদন করলে আজ সকালে মরদেহ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। কিন্তু মরদেহ রেখেই রিমার স্বামী দ্রুত চলে যায়।

নিহত রিমার ভাই মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, আমি দূরে ছিলাম। মোবাইল ফোনে জেনেছি আমার বোনকে গ্যাস ট্যাবলেট খাওয়ানো হয়েছে। এছাড়া দুই একদিন আগেও তাকে মারধর করা হয়েছিল, তার মাথায় এবং শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

আরও পড়ুন

এ বিষয়ে তালতলী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, হত্যা নাকি আত্মহত্যা প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটনের জন্যই মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ জানায়নি।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission