‘আমি যদি না থাকি, কবরের কাছে একটু যাইও’— ভিডিওবার্তা রেখে গৃহবধূর ‘আত্মহত্যা’

আরটিভি নিউজ

বুধবার, ০৫ আগস্ট ২০২৬ , ০২:১৫ এএম


‘আমি যদি না থাকি, কবরের কাছে একটু যাইও’— ভিডিওবার্তা রেখে গৃহবধূর ‘আত্মহত্যা’
নিহত গৃহবধূ মেঘনা খাতুন। ছবি: সংগৃহীত

স্বামীর উদ্দেশ্যে এক আবেগঘন ভিডিওবার্তা রেখে গলায় ফাঁস নিয়ে ‘আত্মহত্যা’ করেছেন মেঘনা খাতুন (২১) নামের এক গৃহবধূ। ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘আমি যদি দুনিয়ায় না থাকি, আমার কবরের কাছে একটু যাইও তুমি। আমার একা থাকতে ভয় করে। একটু যাইও তুমি। তোমাকে অনেক ভালোবেসে বাপ-মা ছেড়ে আইছিলাম, আমি আর মানসিক যন্ত্রণা নিতে পারছি না।’

গতকাল সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় মেঘনা খাতুনের। তার আগেরদিন রবিবারে নিজ ঘরে আত্মহত্যার জন্য গলায় ‘ফাঁস’ দেন তিনি।

মৃত্যুর আগে ধারণ করা ওই ভিডিও বার্তায় স্বামীর বিরুদ্ধে পরকীয়া আর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগও তুলে গেছেন তিনি। তার আবেগঘন সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

মৃত মেঘনা খাতুন (২১) পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের চরগড়গড়ি গ্রামের শফি মণ্ডলের ছেলে আজম আলী মণ্ডলের স্ত্রী। বাবার বাড়ি কুষ্টিয়ায়। তাদের একটি ছেলেসন্তান রয়েছে। স্বামী পেশায় মোটর মেকানিক। আজম আলীর সঙ্গে চার বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে বিয়ে হয়েছিল মেঘনা খাতুনের। 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিয়ের পর তাদের দিন ভালই যাচ্ছিল। এরপর হঠাৎ পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হয়। বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। মৃত্যুর আগে একটি ভিডিওতে তিনি নিজের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ তুলে কয়েকজনের নাম উল্লেখ করেন।

আরও পড়ুন

ভিডিওতে মেঘনা বলেন, ‘তার মৃত্যুর জন্য স্বামী আজম, শ্বশুর শাশুড়ি এবং আসলাম নামের এক ব্যক্তি দায়ী।’ তিনি অভিযোগ করেন, তাকে নিয়মিত নির্যাতন করা হতো এবং স্বামী তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করতেন। স্বামী আমাকে রেখে পরকীয়া করে বেড়ায়। আমি কিসে কম আছি। আমাকে বুকে নেয় না। ভালোবাসে না। একপর্যায়ে তিনি বলেন, আজম আমার গলায় টিপ মেরেছে, আমার নিশ্বাস বন্ধ করে দিয়েছে।

‎ভিডিওতে কান্নাজড়িত কণ্ঠে মেঘনা আরও বলেন, হাসপাতাল থেকে বাড়িতে ফেরার পরও তার ওপর অত্যাচার বন্ধ হয়নি। নিজের সন্তানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, তার ছেলে যেন বাবার পরিবারেই থাকে এবং মাঝে মধ্যে নানির বাড়িতে যেতে পারে।

‎সবশেষে স্বামীকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আমি যদি দুনিয়ায় না থাকি, আমার কবরের কাছে একটু যেয়ো। আমি অনেক ভালোবাসি। প্রেম করে বিয়ে করেছি, বাবা-মা সবাইকে ছেড়ে এসেছি। আমি আর মানসিক টেনশন নিতে পারছি না। আমার মোবাইল ফ্রিজের মাথার উপর রাউটারের বক্সের ভিতর রেখে যাবোনে। আমার মোবাইলের লক ৩৩১৬। খুলে সবাই দেইখো।’

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী ও তার পরিবারের সদস্যরা আত্মগোপনে থাকায় তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

‎এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদুর রহমান বলেন, ভিকটিম মারা গেছেন রাজশাহীতে। সেখানে অপমৃত্যু মামলা দায়ের হয়েছে। আর আমরা জিডিতে নোট করে রাখছি। মৃত মেঘনার বাবা-মায়ের সাথে কথা বলেছি, মামলা করতে বলেছি। কিন্তু এখন পর্যন্ত (৪ আগস্ট) তারা এজাহার দেয়নি। পরিবার থেকে অভিযোগ না দিলে আসলে আমাদের কিছু করার নেই।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission