মধ্যপ্রাচ্যের কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে অন্তত তিনটি পণ্যবাহী জাহাজের ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনার পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম হু হু করে বাড়ছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল)বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের বেঞ্চমার্ক ‘ব্রেন্ট ক্রুড’-এর দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে গেছে। খবর রয়টার্স
লন্ডনের স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৪২ মিনিটে দেখা যায়, ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৫৯ ডলার বা ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১০০ দশমিক ০৭ ডলারে কেনাবেচা হচ্ছে।
অন্যদিকে, মার্কিন তেলের বেঞ্চমার্ক ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ১ দশমিক ৫১ ডলার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯১ দশমিক ১৮ ডলারে। এর আগে মঙ্গলবারও তেলেরদাম প্রায় ৩ শতাংশ বেড়েছিল।
যুক্তরাজ্যের সামুদ্রিক বাণিজ্য কার্যক্রম বা ইউকেএমটিও ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা সংস্থাগুলো জানিয়েছে, বুধবার সকালে হরমুজ প্রণালিতে তিনটি কন্টেইনার জাহাজ লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়েছে। এই ঘটনার পরপরই বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দামের ওপর তাৎক্ষণিক নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। কৌশলগত এই জলপথটি বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রায় ২০ শতাংশ পরিবহনের পথ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তাই এই পথে যেকোনো সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করে।
তেহরান দীর্ঘ সময় ধরেই হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করে রেখেছে। মার্কিন ইসরায়েলি বোমাবর্ষণের প্রতিবাদ এবং মার্কিন অবরোধের পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে ইরান এই কঠোর অবস্থান নিয়েছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।
এদিকে ইউরোপেও জ্বালানি সংকট ঘনীভূত হচ্ছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রুশ তেল সরবরাহের ড্রুজবা পাইপলাইন চালুর ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করলেও বাস্তবতা ভিন্ন। বিভিন্ন রুশ সূত্র জানিয়েছে, আগামী ১ মে থেকে কাজাখস্তান হয়ে জার্মানিতে তেল রপ্তানি সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে পারে রাশিয়া। এর ফলে ইউরোপের দেশগুলো জ্বালানি পাওয়ার নতুন পথ খুঁজতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে।
আরটিভি/এআর



