ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

পৃথিবীর ‘সবচেয়ে বেশিবার দেখা’ ছবির রোমাঞ্চকর গল্প

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৭ মে ২০২৬, ১১:৫২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত

একজন সাধারণ কম্পিউটার ব্যবহারকারী হলেও চিনতে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়, কম্পিউটার চালুর সঙ্গে সঙ্গে ওয়ালপেপারে নীল আকাশের নিচে সবুজ পাহাড়ের সঙ্গে দিগন্ত মেশা ছবিটি। ২০০০-এর দশকের শুরুতে যাদের কম্পিউটারে হাতেখড়ি তাদের তো এ ছবির সঙ্গে মিশে আছে এক গভীর আবেগ। এডিটেড মনে হলেও এটি আসলে একজন ফটোগ্রাফারের ক্যামেরায় তোলা ছবি।

মাইক্রোসফটের রাখা এই ওয়ালপেপারের কাব্যিক নাম ‘ব্লিস’ (Bliss)। প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষ ঘণ্টার পর ঘণ্টা এই ছবির দিকে তাকিয়ে থাকত। আর এই কারণেই এটিকে বলা হয় পৃথিবীর ইতিহাসের ‘সবচেয়ে বেশি দেখা’ ছবি। আজ জানবো এই ছবির পেছনে থাকা এক রোমাঞ্চকর ইতিহাস।

কীভাবে ইতিহাসে জায়গা নিল ‘ব্লিস’

ঘটনাটি ১৯৯৬ সালের জানুয়ারি মাসের। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের সাবেক ফটোগ্রাফার চার্লস ও’রিয়ার সোনোমা হাইওয়ে ধরে সান ফ্রান্সিসকোর উত্তরে নাপা ভ্যালি অঞ্চলে তার বান্ধবীর সাথে দেখা করতে যাচ্ছিলেন। ঠিক তার আগেই ওই অঞ্চলে একটি তীব্র ঝড় শেষ হয়েছিল এবং শীতের বৃষ্টিতে চারপাশের ঘাসগুলো গাঢ় সবুজ রঙ ধারণ করেছিল।

আঙুরের ক্ষেতগুলো ছাঁটা থাকায় পাহাড়ের ঢেউ খেলানো রূপটি ও’রিয়ারের চোখ এড়ায়নি। তিনি গাড়ি থামালেন, নামলেন এবং তার এনালগ ফিল্ম ক্যামেরা দিয়ে মাত্র ৪টি ছবি তুললেন। ব্যস, এভাবেই জন্ম নিল ইতিহাসের অন্যতম সেরা এক মাস্টারপিস।

আরও পড়ুন

কুরিয়ার কোম্পানির অস্বীকৃতি ও কোটি টাকার রহস্য

ও’রিয়ার ছবিটি বিক্রির জন্য ফটো এজেন্সি ‘করবিস’ কে দেন। সেখান থেকেই এটি চোখে পড়ে টেক জায়ান্ট মাইক্রোসফটের। তারা উইন্ডোজ এক্সপির মূল ব্যাকগ্রাউন্ড হিসেবে ব্যবহারের জন্য ছবিটির ফুল কপিরাইট বা মালিকানা কিনে নিতে চায়।

মাইক্রোসফট ও’রিয়ারকে ছবিটির আসল নেগেটিভ বা ফিল্মটি কুরিয়ারে পাঠাতে বলে। কিন্তু তৎকালীন সময়ে কোনো কুরিয়ার সার্ভিস এই ফিল্মটি বহন করতে রাজি হয়নি! কারণ, মাইক্রোসফট এই ছবির জন্য ও’রিয়ারকে ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ মূল্য প্রস্তাব করেছিল (যার সঠিক অংক আজও গোপন রাখা হয়েছে)। কুরিয়ার কোম্পানিগুলোর ভয় ছিল, পথে যদি কোনোভাবে এই কয়েক মিলিয়ন ডলার মূল্যের নেগেটিভ হারিয়ে বা নষ্ট হয়ে যায়, তবে সেই বিপুল পরিমাণ বিমার টাকা তারা পরিশোধ করতে পারবে না। শেষমেশ উপায় না পেয়ে মাইক্রোসফট ও’রিয়ারকে বিমানের টিকিট পাঠায়, যেন তিনি নিজে এসে সরাসরি তাদের অফিসে নেগেটিভটি পৌঁছে দেন!

আরও পড়ুন

ক্যামেরার জাদু!

অনেকেই মনে করেন এই ছবির রঙ বা স্যাচুরেশন ফটোশপে বাড়িয়ে কৃত্রিম করা হয়েছে। তবে, ফটোগ্রাফার ও’রিয়ার বারবার নিশ্চিত করেছেন যে, এটি কোনো ডিজিটাল ম্যানিপুলেশন বা এডিট ছাড়াই সরাসরি ফিল্ম থেকে পাওয়া ছবি।

ছবিটি তোলা হয়েছিল Mamiya RZ67 মডেলের একটি মিডিয়াম ফরম্যাট ক্যামেরায় এবং এতে ব্যবহার করা হয়েছিল ফুজিফিল্মের বিখ্যাত ‘ভেলভিয়া’ (Velvia) ফিল্ম। ফুজিফিল্মের এই ভেলভিয়া সিরিজটি রঙের উজ্জ্বলতা ও প্রাণবন্ত স্যাচুরেশনের জন্য ফটোগ্রাফারদের কাছে জনপ্রিয় ছিল। আর মিডিয়াম ফরম্যাট ক্যামেরা হওয়ায় এর নেগেটিভ ছিল সাধারণ ৩৫ মিমি ক্যামেরার চেয়ে অনেক বড়, যা ছবিটিকে দিয়েছিল অবিশ্বাস্য শার্পনেস। এই কারণেই ছবিটি বিশাল আকারের বিলবোর্ডে বড় করলেও কখনও ফাটত না।

ছবির নামকরণ

ফটোগ্রাফার প্রথমে এই ছবিটির নাম রেখেছিলেন ‘বিউকোলিক গ্রিন হিলস’ (Bucolic Green Hills)। তবে মাইক্রোসফট যখন এর স্বত্ব কিনে নেয়, তখন এর নাম বদলে রাখা হয় ‘ব্লিস’।

আজকের এআই আর নিখুঁত ফটো এডিটিংয়ের যুগে বসে ভাবা কঠিন যে, পৃথিবীর সবথেকে পরিচিত এবং কোটি কোটি মানুষের নস্টালজিয়া জাগানো এই ছবিটি স্রেফ একটি এনালগ ফিল্ম ক্যামেরার মাধ্যমে কোনো কারসাজি ছাড়াই তোলা হয়েছিল।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
প্রয়াত আত্মাদের স্মরণে আজ ‘অল সোলস ডে’
মৃত্যুর পরও প্রিয়জনের স্মৃতি বেঁচে থাকে হৃদয়ে। তাদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত, ভালোবাসা ও জীবনের নানা গল্প স্মরণ করেই দিন কাটে স্বজনদের।
প্রয়াত আত্মাদের স্মরণে আজ ‘অল সোলস ডে’
জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস আজ
জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস আগামীকাল। প্রতিবছর ২ নভেম্বর জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস পালিত হয়।
জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস আজ
ইতিহাসে আজকের এই দিনে
সোমবার (২ নভেম্বর) এক নজরে দেখে নেওয়া যাক তেমনই কিছু ঘটনা।
ইতিহাসে আজকের এই দিনে
প্রাণের মাঝে আয়
নস্টালজিয়া খুব খারাপ জিনিস। না চাইতেও এমন সব স্মৃতি মনে পড়ে, যা কখনও আমাদের হাসায়, আবার কখনও বা কাঁদায়। মনে হচ্ছে এইতো সেদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডিতে পা রাখলাম। প্রথম ক্লাসে অনেকের দেখেছি দাড়ি-গোঁফ ওঠেনি। আবার কেউতো পরিচিতি পর্বে নিজের নাম বলতেও থরথর করে কাঁপছিল। এরপর কতশত দিন একসঙ্গে। কত স্মৃতি বুকের সঞ্চয়ী হিসাবে জমা।
প্রাণের মাঝে আয়
কাজহীন দিবস আজ
সারাদিন কাজের ব্যস্ততা, একের পর এক দায়িত্ব, আর হাতে লম্বা কাজের তালিকা। এই ব্যস্ততার মাঝেই নিজের জন্য একটু সময় বের করার কথা মনে করিয়ে দেয় ‘জিরো টাস্কিং ডে’ বা কাজহীন দিবস। প্রতি বছর নভেম্বর মাসের প্রথম রোববার পালিত হয় দিনটি। এ বছর ১ নভেম্বর এই বিশেষ দিন। দিনটির মূল ভাবনা খুব সহজ- অন্তত একটি দিন নিজের উপর কাজের চাপ না রেখে বিশ্রাম নেওয়া, পছন্দের কাজ করা কিংবা একেবারেই কিছু না করা। বিশেষ করে যেসব দেশে ডে-লাইট সেভিং টাইম বা দিবালোক সাশ্রয়ী সময়ের নিয়ম চালু রয়েছে, সেখানে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়ার ফলে পাওয়া অতিরিক্ত সময়টিকে নিজের জন্য কাজে লাগানোর ধারণা থেকেই এই দিনের প্রচলন। ‘জিরো টাস্কিং ডে’-র ধারণাটি সামনে আনেন লেখক ও জীবনযাপনবিষয়ক পরামর্শদাতা ন্যান্সি ক্রিস্টি। তার উদ্দেশ্য ছিল, মানুষ যেন কাজের তালিকা থেকে একের পর এক দায়িত্ব মেটানোর বাইরে নিজের সঙ্গে সময় কাটানোর গুরুত্বও বোঝে। মানসিক সুস্থতার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে মেন্টাল হেলথ আমেরিকাও দিনটির প্রচারে ভূমিকা রেখেছে। বর্তমান সময়ে একসঙ্গে একাধিক কাজ সামলানো যেন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কাজের চাপ, সময়ের অভাব এবং প্রতিনিয়ত উৎপাদনশীল থাকার তাগিদে অনেকেই বিশ্রাম নিতে অপরাধবোধ করেন। অথচ প্রয়োজনীয় বিরতি মানসিক চাপ কমাতে, সৃজনশীলতা বাড়াতে এবং কাজে মনোযোগ ফেরাতে সাহায্য করতে পারে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম শরীর ও মনকে নতুন করে চাঙা করে। দিনটি পালনের জন্য বিশেষ কোনও আয়োজনের প্রয়োজন নেই। সকালে একটু দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা, পছন্দের বই পড়া, নিরিবিলি হাঁটতে বেরোনো কিংবা কিছুক্ষণ ধ্যান করাসহ যা ভালো লাগে, তা-ই করতে পারেন।  চাইলে বারান্দায় বসে আকাশ দেখতে পারেন, মনের মতো কোনও রান্না করতে পারেন, ছবি আঁকতে পারেন অথবা দুপুরে একটু ঘুমিয়ে নিতে পারেন। এমনকি ফোন ও কাজের বার্তা থেকে দূরে থেকে নিজের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোও হতে পারে উদ্‌যাপনের অংশ। ‘জিরো টাস্কিং ডে’-র আসল শিক্ষা অবশ্য সারাদিন অলসভাবে কাটানো নয়। বরং প্রতিদিনের দায়িত্বের পাশাপাশি বিশ্রাম ও নিজের যত্নের জন্যও সময় রাখা জরুরি সেই কথাই মনে করিয়ে দেয় দিনটি। কারণ, সব সময় কাজের মধ্যে ডুবে থাকাই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হতে পারে না। কখনও কখনও কিছু না করাও নিজের জন্য প্রয়োজনীয়। আরটিভি/এসআর
কাজহীন দিবস আজ
আরও পড়ুন
আজ ডেস্কটপের ফাইল গোছানোর দিন
অনুমতি ছাড়াই ভারতের কম্পিউটার ব্যবস্থায় ঢুকে পড়ল এআই, সাইবার নিরাপত্তায় বড় ঝুঁকি
অফিস শুরুর ৪৬ মিনিট পর উপস্থিত, প্রশ্ন করতেই ওয়াশরুমে
স্মার্ট শ্রেণিকক্ষ ও আধুনিক কম্পিউটার ল্যাব পেল নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী