ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

চাঁদের আলোয় দেখা মিলবে বিরল রংধনুর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৬, ০৬:৩৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

দিনের আলোয় আকাশের নীল ক্যানভাসে সাতরঙা রংধনু কমবেশি সবাই দেখেছেন। কিন্তু কখনো কি শুনেছেন রাতের ঘুটঘুটে অন্ধকারেও রংধনু দেখা যায়? প্রকৃতির এই রহস্যময় ও বিরল দৃশ্যের নাম ‘মুনবো’ বা চন্দ্রধনু। সম্প্রতি জিম্বাবুয়ে ও জাম্বিয়া সীমান্তের ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাতে দেখা মিলেছে এই মায়াবী সৌন্দর্যের।

পৃথিবীর হাতেগোনা যে কয়েকটি স্থানে এই বিরল দৃশ্য দেখা যায়, তার মধ্যে অন্যতম ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত। সম্প্রতি সেখানে পূর্ণিমার রাতে চন্দ্রধনু দেখার এক অনন্য অভিজ্ঞতা ক্যামেরাবন্দি করেছেন ট্রাভেল ভ্লগার সারাহ স্টিজার। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসিতে নিজের সেই রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতার বর্ণনা দিয়েছেন তিনি।

সারাহ স্টিজার জানান, সেই রাতে ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাতের আশপাশে কোনো কৃত্রিম আলো বা ফ্লাডলাইট ছিল না। ছিল কেবল উদীয়মান পূর্ণিমার চাঁদের ম্লান আভা আর জাম্বিয়ার রাতের ঘন নীল-কালো অন্ধকার। সেই নিকষ কালো আঁধারে ১০০ মিটারেরও বেশি গভীর গিরিখাতে প্রচণ্ড শব্দে আছড়ে পড়ছিল পানি। আছড়ে পড়া পানির সেই প্রবল ঘূর্ণি বাতাসে জলকণার বিশাল ফোয়ারা তৈরি করছিল।

সেই দৃশ্য বর্ণনা করতে গিয়ে সারাহ বলেন, প্রথমে জলকণার মাঝে একটি ম্লান দাগ দেখা যাচ্ছিল, যা সরাসরি না তাকালে বোঝা কঠিন। এরপর ধীরে ধীরে অন্ধকারের বুক চিরে একটি কোমল ও উজ্জ্বল বক্ররেখা ফুটে উঠল—গিরিখাতের ওপর ঝুলে থাকা এক চমৎকার আলোকচ্ছটা। এটিই ছিল ‘মুনবো’ বা চন্দ্রধনু। এটি সূর্যের আলোয় নয়, বরং চাঁদের আলোয় তৈরি এক মায়াবী সেতু।

ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাত স্থানীয়ভাবে ‘মোসি-ওয়া-তুনিয়া’ বা ‘বজ্রধ্বনি সৃষ্টিকারী ধোঁয়া’ নামে পরিচিত। প্রতি বছর প্রায় দশ লাখ পর্যটক এই জলপ্রপাতের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসলেও বেশিরভাগই আসেন দিনের আলোয়। তবে পূর্ণিমার সময় রাতের অন্ধকারে যারা সেখানে উপস্থিত থাকেন, তারাই কেবল প্রকৃতির এই নিভৃত ও বিরল মহিমা দেখার সুযোগ পান। জলকণা ও চাঁদের আলোর সঠিক প্রতিসরণ ঘটলেই কেবল এই চন্দ্রধনুর দেখা মেলে, যা ভ্রমণপিপাসুদের কাছে এক জীবনের সেরা প্রাপ্তি হয়ে থাকে।

আরটিভি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
প্রয়াত আত্মাদের স্মরণে আজ ‘অল সোলস ডে’
মৃত্যুর পরও প্রিয়জনের স্মৃতি বেঁচে থাকে হৃদয়ে। তাদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত, ভালোবাসা ও জীবনের নানা গল্প স্মরণ করেই দিন কাটে স্বজনদের।
প্রয়াত আত্মাদের স্মরণে আজ ‘অল সোলস ডে’
জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস আজ
জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস আগামীকাল। প্রতিবছর ২ নভেম্বর জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস পালিত হয়।
জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস আজ
ইতিহাসে আজকের এই দিনে
সোমবার (২ নভেম্বর) এক নজরে দেখে নেওয়া যাক তেমনই কিছু ঘটনা।
ইতিহাসে আজকের এই দিনে
প্রাণের মাঝে আয়
নস্টালজিয়া খুব খারাপ জিনিস। না চাইতেও এমন সব স্মৃতি মনে পড়ে, যা কখনও আমাদের হাসায়, আবার কখনও বা কাঁদায়। মনে হচ্ছে এইতো সেদিন বিশ্ববিদ্যালয়ের গণ্ডিতে পা রাখলাম। প্রথম ক্লাসে অনেকের দেখেছি দাড়ি-গোঁফ ওঠেনি। আবার কেউতো পরিচিতি পর্বে নিজের নাম বলতেও থরথর করে কাঁপছিল। এরপর কতশত দিন একসঙ্গে। কত স্মৃতি বুকের সঞ্চয়ী হিসাবে জমা।
প্রাণের মাঝে আয়
কাজহীন দিবস আজ
সারাদিন কাজের ব্যস্ততা, একের পর এক দায়িত্ব, আর হাতে লম্বা কাজের তালিকা। এই ব্যস্ততার মাঝেই নিজের জন্য একটু সময় বের করার কথা মনে করিয়ে দেয় ‘জিরো টাস্কিং ডে’ বা কাজহীন দিবস। প্রতি বছর নভেম্বর মাসের প্রথম রোববার পালিত হয় দিনটি। এ বছর ১ নভেম্বর এই বিশেষ দিন। দিনটির মূল ভাবনা খুব সহজ- অন্তত একটি দিন নিজের উপর কাজের চাপ না রেখে বিশ্রাম নেওয়া, পছন্দের কাজ করা কিংবা একেবারেই কিছু না করা। বিশেষ করে যেসব দেশে ডে-লাইট সেভিং টাইম বা দিবালোক সাশ্রয়ী সময়ের নিয়ম চালু রয়েছে, সেখানে ঘড়ির কাঁটা এক ঘণ্টা পিছিয়ে দেওয়ার ফলে পাওয়া অতিরিক্ত সময়টিকে নিজের জন্য কাজে লাগানোর ধারণা থেকেই এই দিনের প্রচলন। ‘জিরো টাস্কিং ডে’-র ধারণাটি সামনে আনেন লেখক ও জীবনযাপনবিষয়ক পরামর্শদাতা ন্যান্সি ক্রিস্টি। তার উদ্দেশ্য ছিল, মানুষ যেন কাজের তালিকা থেকে একের পর এক দায়িত্ব মেটানোর বাইরে নিজের সঙ্গে সময় কাটানোর গুরুত্বও বোঝে। মানসিক সুস্থতার বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে মেন্টাল হেলথ আমেরিকাও দিনটির প্রচারে ভূমিকা রেখেছে। বর্তমান সময়ে একসঙ্গে একাধিক কাজ সামলানো যেন অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। কাজের চাপ, সময়ের অভাব এবং প্রতিনিয়ত উৎপাদনশীল থাকার তাগিদে অনেকেই বিশ্রাম নিতে অপরাধবোধ করেন। অথচ প্রয়োজনীয় বিরতি মানসিক চাপ কমাতে, সৃজনশীলতা বাড়াতে এবং কাজে মনোযোগ ফেরাতে সাহায্য করতে পারে। পর্যাপ্ত বিশ্রাম শরীর ও মনকে নতুন করে চাঙা করে। দিনটি পালনের জন্য বিশেষ কোনও আয়োজনের প্রয়োজন নেই। সকালে একটু দেরি করে ঘুম থেকে ওঠা, পছন্দের বই পড়া, নিরিবিলি হাঁটতে বেরোনো কিংবা কিছুক্ষণ ধ্যান করাসহ যা ভালো লাগে, তা-ই করতে পারেন।  চাইলে বারান্দায় বসে আকাশ দেখতে পারেন, মনের মতো কোনও রান্না করতে পারেন, ছবি আঁকতে পারেন অথবা দুপুরে একটু ঘুমিয়ে নিতে পারেন। এমনকি ফোন ও কাজের বার্তা থেকে দূরে থেকে নিজের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটানোও হতে পারে উদ্‌যাপনের অংশ। ‘জিরো টাস্কিং ডে’-র আসল শিক্ষা অবশ্য সারাদিন অলসভাবে কাটানো নয়। বরং প্রতিদিনের দায়িত্বের পাশাপাশি বিশ্রাম ও নিজের যত্নের জন্যও সময় রাখা জরুরি সেই কথাই মনে করিয়ে দেয় দিনটি। কারণ, সব সময় কাজের মধ্যে ডুবে থাকাই জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হতে পারে না। কখনও কখনও কিছু না করাও নিজের জন্য প্রয়োজনীয়। আরটিভি/এসআর
কাজহীন দিবস আজ