ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

চিত্রা নদীর তীরে শতবর্ষী বটবৃক্ষের ছায়ায় রতডাঙ্গার হাট 

মোস্তফা কামাল, নড়াইল

প্রকাশ : ০৮ জুন ২০২৬, ০৩:৪৭ পিএম
২০০ বছরের পুরনো রত ডাঙার হাটে অর্ধহাজারবর্ষী বটবৃক্ষ : ছবি আরটিভিথ

আকাশচুম্বী এক বটবৃক্ষ, যা ডালপালা চারদিকে ছড়িয়ে তৈরি করেছে এক বিশাল প্রাকৃতিক ছাউনি। সেই ছাউনির নিচেই পরম শান্তিতে চলে বেচারকেনার ধুম। আধুনিকতার ছোঁয়ায় অনেক কিছু বদলে গেলেও নড়াইলের চিত্রা নদীর তীরে শত বছরের ঐতিহ্য বুকে নিয়ে এখনো জমে ওঠে ‘রতডাঙ্গার হাট’।

নড়াইল জেলা শহর থেকে মাত্র তিন কিলোমিটার দূরে চণ্ডিবরপুর ইউনিয়নের রতডাঙ্গা গ্রামে অবস্থিত এই হাটটি এখনো গ্রামীণ সংস্কৃতির এক অনন্য নিদর্শন। এ হাটের বয়স ২০০ বছরের বেশি। তবে আগের মতো জৌলুস না থাকলে ও ঐতিহ্যবাহী এ হাট এখনো বেচাকেনায় অনেকটাই সরগরম হয়ে ওঠে।

স্থানীয় প্রবীণদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, এই হাটের ইতিহাস প্রায় ২০০ বছরেরও বেশি পুরোনো। ব্রিটিশ আমলে চিত্রা নদীর পাড়ে এই হাটের পত্তন ঘটে। একসময় চিত্রা নদী দিয়ে চলাচল করত বড় বড় নৌকা, ট্রলার, লঞ্চ ও স্টিমার। দূর-দূরান্ত থেকে ব্যবসায়ীরা নৌপথে এই হাটে আসতেন এবং দিনভর কেনাবেচা শেষে সবজি, মাছ, মাংস, গুড় ও মাটির তৈজসপত্র নিয়ে আবার নৌপথেই ফিরে যেতেন। কালের বিবর্তনে নদীপথের সেই জৌলুস কমলেও হাটের গুরুত্ব এখনো ফুরিয়ে যায়নি।

আরও পড়ুন

বটগাছের ছায়াঘেরা জায়গায় প্রতিদিনই সকাল বিকাল কেনা-বেচা শুরু হয়, চলে রাত পর্যন্ত। সপ্তাহের প্রতি শুক্রবার ও সোমবার এখানে বসে অফিশিয়াল হাট। তবে সপ্তাহের বাকি দিনগুলোতেও সকাল-সন্ধ্যা বসে নিয়মিত বাজার। রতডাঙ্গা ও এর আশপাশের ৪-৫টি গ্রামের মানুষের নিত্যদিনের চাহিদার কেন্দ্রবিন্দু এই হাট। অন্য দিনগুলোতে নিয়মিত বাজার বসে। রতডাঙ্গা গ্রামসহ আশপাশের চার পাঁচটি গ্রাম থেকে এ হাটে কেনা-বেচা করতে লোকজন আসেন। হাটের পাশেই নদীর তীর ঘেঁষে রতডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়। স্কুল শিক্ষার্থীরা টিফিন সময়ে বটগাছের শীতল ছায়ায় এসে ভিড় করেন।

সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা যায়, হাটের মাঝখানে বিশাল আকৃতির বটগাছ। বটগাছের নিচে কেউ দোকান করে বসে আছেন, কেউ বা অস্থায়ী সেলুন, আবার কেউ বিক্রি করছেন পান আবার কেউ সবজি। বটগাছের দুই পাশ দিয়ে সারি সারি আধাপাকা দোকানঘর। বেশির ভাগ দোকান টিনের তৈরি ও জরাজীর্ণ। দোকান, দোকান ঘরের বারান্দায় এবং দোকানঘরের সামনে বিভিন্ন পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। ফাঁকা জায়গা তাবু টানিয়ে বসেছেন অস্থায়ী দোকান। সেখানে চলছে বেচাকেনা। ক্রেতারা দোকান ঘুরে ঘুরে দেখছেন। কেউ দরদাম করছেন, আবার কেউ ব্যাগ ভরে পছন্দের সবজি কিনছেন।

বটতলার শীতল ছায়ায় ৩৫ বছর ধরে পান বিক্রি করছেন অখিল বিশ্বাস (৬৫)। তিনি বলেন, আমার বাবা-দাদারাও এই গাছটিকে এমন বিশালই দেখে গেছেন। কে এই গাছ লাগিয়েছিলেন কেউ জানে না। এই গাছের ছায়ায় থেকে আমাদের রুটি-রুজির হাট বসে।

আরও পড়ুন

একই স্থানে অস্থায়ী সেলুন বসিয়ে চুল-দাড়ি কাটেন হারু পরামানিক। তীব্র গরমেও এই বটতলার ঠাণ্ডা পরিবেশে মানুষ পরম শান্তিতে চুল কাটাতে আসেন বলে জানান তিনি। এছাড়াও ২৫ বছরেরও বেশি সময় ধরে এখানে কাঁচা সবজি বিক্রি করছেন ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ রুহুল আমিন।

বটগাছের নিচে তাবু টানিয়ে আলু, পটল, মরিচ, বেগুন কাঁচা সবজি সাজিয়ে বসেছেন সদর উপজেলার রতডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা রুহুল আমিন (৭৫)। তিনি বলেন, ২৫ বছরের বেশি সময় ধরে এই হাটে কাঁচা সবজি বিক্রি করি। আগে হাটে প্রচুর লোকের সমাগম হতো। ব্যবসায়ীরা জিনিসপত্র কিনতে নৌকায় করে আসতেন। এখন আর নৌকা আসে না। বেচাকেনা কম। তবে এই বট গাছ ও হাটের বয়স ২০০ বছরের বেশি হবে।

নতুন প্রজন্মের আকর্ষণ ও আড়াই টাকার সিঙ্গাড়া হাটের পাশেই গড়ে উঠেছে রতডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়। টিফিনের সময় স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে ওঠে এই বটতলা। শুধু গ্রামবাসীই নন, শহরের তরুণদের কাছেও এটি একটি দারুণ আড্ডাস্থল।

নড়াইল পৌর এলাকা থেকে হাটে আসা আজিজুল ইসলাম (২৮) জানান, ছোটবেলায় বাবার সাথে নৌকায় করে এই হাটে আসতেন, সেই টান আজও রয়ে গেছে।
তিনি হাসিমুখে বলেন, এই হাটের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো মাত্র আড়াই টাকায় পাওয়া মচমচে ও সুস্বাদু সিঙ্গাড়া! বন্ধুদের নিয়ে প্রায়ই এখানে আসি সবজি কিনতে আর বটতলায় আড্ডা দিতে।

ঐতিহাসিক এই বটগাছটি রক্ষায় রতডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দারা একতাবদ্ধ হয়ে গঠন করেছেন ২০ সদস্যের ‘রতডাঙ্গা বাজার বটগাছ সংরক্ষণ কমিটি’। এই কমিটির সভাপতি জাহিদ হোসেন।

তিনি জানান, গাছটি সম্ভবত ৫ থেকে ৬ শত বছরের পুরোনো। আমাদের বাবা-দাদারাও একে একই রূপে দেখেছেন। বাজারের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে এই গাছটি। কেউ যাতে এর ডালপালা কাটতে বা ক্ষতি করতে না পারে, সেজন্য আমরা এটি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ করি।

চণ্ডিবরপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. আজিজ ভূইয়া এই হাটের ঐতিহ্যকে স্বীকার করে বলেন, দেশীয় ফল, মাছ, সবজি ও গুড়ের জন্য রতডাঙ্গার হাট বহুকাল ধরে বিখ্যাত। চিত্রা নদীর হাওয়া আর এই বটবৃক্ষের শীতল ছায়ার কারণে এখানে আসা মানুষের কখনো বৈদ্যুতিক ফ্যানের প্রয়োজন হয়না। এটি আমাদের অঞ্চলের এক গর্ব।

আধুনিকায়নের যুগে গ্রামীণ ঐতিহ্য ও সৌহার্দ্যের এমন মেলবন্ধন সত্যি বিরল। রতডাঙ্গার এই ঐতিহ্যবাহী হাট ও বটবৃক্ষটি চিরকাল বেঁচে থাকুক এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় সচেতন মহলের।

আরটিভি/এমএম

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
এশিয়ার ছোট্ট যে দেশে রয়েছে পাঁচ শতাধিক প্রজাতির পাখি
এশিয়ার অন্যতম ক্ষুদ্র দেশ ব্রুনেই দারুসসালাম। ‘শান্তির আবাস’ নামে পরিচিত দেশটির জনসংখ্যা পাঁচ লাখেরও কম। আয়তনে ছোট হলেও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য, ইতিহাস ও ঐতিহ্যের বৈচিত্র্যে দেশটি বেশ সমৃদ্ধ। দেশটির প্রায় ৭০ শতাংশজুড়ে রয়েছে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বনভূমি। নদীর ওপর গড়ে ওঠা শতবর্ষী জনপদ থেকে শুরু করে প্রবালপ্রাচীর ও ঘন বৃষ্টিবন- সব মিলিয়ে ভ্রমণপিপাসুদের জন্য রয়েছে নানা রকমের আকর্ষণ। ব্রুনেই ভ্রমণের সূচনা হতে পারে রাজধানী বন্দর সেরি বেগাওয়ান থেকে। শহরের অন্যতম প্রধান স্থাপনা ওমর আলী সাইফুদ্দিন মসজিদ। সোনালি গম্বুজ ও মার্বেলের স্তম্ভে সাজানো মসজিদটি দেশটির স্থাপত্যশৈলীর অনন্য নিদর্শন। এছাড়া রয়েছে বালাই খাজানাহ ইসলাম সুলতান হাজি হাসানাল বলকিয়াহ। ইসলামি জ্ঞান ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ এবং গবেষণার জন্য প্রতিষ্ঠিত এ সংগ্রহশালায় রয়েছে কোরআনের প্রাচীন পাণ্ডুলিপি, ইসলামি নিদর্শন, জ্যোতির্বিজ্ঞানের যন্ত্রপাতি এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র চুলের নিদর্শন। রাজধানীর কাছেই ব্রুনেই নদীর ওপর গড়ে উঠেছে কাম্পং আয়ার। প্রায় ৩০টি গ্রাম নিয়ে গঠিত এ জলপল্লির ইতিহাস অন্তত ৬০০ বছরের পুরোনো। কাঠের খুঁটির ওপর নির্মিত বাড়িগুলো প্রায় ৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ কাঠের সেতু ও হাঁটাপথে যুক্ত। নৌকায় কিংবা হেঁটে ঘুরে দেখা যায় রঙিন বাড়িঘর, স্থানীয় খাবারের দোকান ও নদীকেন্দ্রিক জনজীবন। ব্রুনেই নদীতে নৌভ্রমণের সময় দেখা মিলতে পারে বোর্নিও দ্বীপের স্থানীয় প্রাণী নাকওয়ালা বানরের। পাশাপাশি রয়েছে ম্যাকাক বানর, গুইসাপ, মাছরাঙা ও বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। দেশটির বাজারগুলোতেও রয়েছে স্থানীয় জীবনযাত্রার পরিচয়। ব্রুনেইয়ের ঐতিহ্যবাহী খাবার আম্বুয়াত সাগু দিয়ে তৈরি আঠালো খাবার, যা বাঁশের বিশেষ চামচ দিয়ে টক ও ঝাল সসের সঙ্গে খাওয়া হয়। ধর্মীয় উৎসব ও জাতীয় দিবসেও দেশটির সংস্কৃতি ফুটে ওঠে। রমজান শেষে ঈদুল ফিতরে পরিবারগুলো অতিথিদের জন্য ঘরের দরজা খুলে দেয়। ২৩ ফেব্রুয়ারি জাতীয় দিবসে রাজধানীতে আয়োজন করা হয় শোভাযাত্রা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। উৎসব ও আনুষ্ঠানিকতায় ব্যবহৃত সোনালি-রুপালি সুতা দিয়ে বোনা ঐতিহ্যবাহী কাপড় ‘কাইন তেনুনান’ও দেশটির সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ। রাজধানী থেকে উপকূলের দিকে গেলে পাওয়া যাবে মুয়ারা ও মেরাগাংয়ের মতো সমুদ্রসৈকত। দেশটির জলসীমায় রয়েছে প্রবালপ্রাচীর, বৈচিত্র্যময় সামুদ্রিক প্রাণী এবং ডুব দেওয়ার জন্য প্রায় ৩০টি জাহাজডুবির স্থান। আরও পূর্বে তেমবুরং জেলায় রয়েছে উলু তেমবুরং জাতীয় উদ্যান। ঘন বৃষ্টিবনে ঘেরা এ উদ্যানের দীর্ঘ বৃক্ষশীর্ষ সেতু থেকে দেখা যায় দিগন্তজোড়া সবুজ বনভূমি। রয়েছে নদী, জলপ্রপাত, কায়াকিং ও নদীতে ভেসে চলার সুযোগ।  ব্রুনেইয়ে ৫০০টির বেশি প্রজাতির পাখি, ১৭০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী এবং ৮০ প্রজাতির উভচর প্রাণীর বসবাস। দেশটির এই সমৃদ্ধ জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আলোকচিত্রীরাও তুলে ধরছেন তাদের কাজে।  সূত্র: সিএনএন আরটিভি/এসআর  
এশিয়ার ছোট্ট যে দেশে রয়েছে পাঁচ শতাধিক প্রজাতির পাখি
নায়িকার গোসলের পানি দিয়ে তৈরি সাবান, লাখ টাকায় কিনেছিল ভক্তরা
নায়ক-নায়িকা কিংবা সেলিব্রেটিদের নিয়ে মানুষের আগ্রহের শেষ নেই। পর্দায় তাদের অভিনয়, পোশাক, সৌন্দর্য থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত জীবন-সবকিছু নিয়েই ভক্তদের কৌতূহল। কখনো সেই ভালো লাগা সীমা ছাড়িয়ে পরিণত হয় অদ্ভুত আকাঙ্ক্ষায়। তবে মানুষের কল্পনা কত দূর যেতে পারে, তারই এক অদ্ভুত উদাহরণ নায়িকার গোসলের পানি দিয়ে তৈরি সাবান। শুনতে অবিশ্বাস্য মনে হলেও, ২০২৫ সালে সত্যিই বাজারে এসেছিল এমন একটি সাবান। হলিউড অভিনেত্রী সিডনি সুইনির গোসলের পানি সত্যি সত্যিই সেই সাবানে ব্যবহার করা হয়েছিল। কিন্তু কেন তৈরি হলো এই সাবান? কে এই অভিনেত্রী? আর একজন তারকার ব্যবহৃত গোসলের পানি পেতে ভক্তদের এমন আগ্রহের পেছনে কি কাজ করে কোনো মনস্তাত্ত্বিক প্রবণতা? সিডনি সুইনি মার্কিন অভিনেত্রী। ১৯৯৭ সালের ১২ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যে তার জন্ম। অল্প বয়স থেকেই অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত তিনি। তবে জনপ্রিয়তা বাড়ে এইচবিওর আলোচিত সিরিজ ‘ইউফোরিয়া’তে ক্যাসি হাওয়ার্ড চরিত্রে অভিনয়ের পর।  ‘দ্য হোয়াইট লোটাস’, ‘অ্যানিওয়ান বাট ইউ’সহ বেশ কিছু কাজের মাধ্যমে হলিউডে নিজের অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি। অভিনয়ের পাশাপাশি সিডনির সৌন্দর্য ও শারীরিক গঠন নিয়েও সামাজিক মাধ্যমে নিয়মিত আলোচনা হয়। কখনো প্রশংসা, কখনো অশালীন মন্তব্য তারকার ব্যক্তিগত পরিচয়ের চেয়ে শারীরিক উপস্থিতিই যেন অনেকের কাছে বড় হয়ে ওঠে। বিষয়টি নিয়ে সিডনি নিজেও বিভিন্ন সময়ে অস্বস্তির কথা জানিয়েছেন। কিন্তু কীভাবে এলো গোসলের পানি দিয়ে সাবান তৈরির ভাবনা? ঘটনার শুরু ২০২৪ সালে। পুরুষদের পরিচর্যাপণ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান ড. স্কোয়াচ-এর একটি বিজ্ঞাপনে অংশ নেন সিডনি। বিজ্ঞাপনে তাকে বাথটাবে বসে সংস্থার বডি ওয়াশের প্রচার করতে দেখা যায়। বিজ্ঞাপনের উপস্থাপনা ছিল কিছুটা ইঙ্গিতপূর্ণ ও রসিকতাপূর্ণ। সেখানে সিডনিকে ‘বডি ওয়াশ জিনি’ হিসেবে দেখানো হয়েছিল। বিজ্ঞাপনটি প্রকাশের পর সামাজিক মাধ্যমে অনেক ভক্ত মজা করে তার গোসলের পানি চেয়ে মন্তব্য করতে থাকেন। প্রথমে বিষয়টি ছিল ইন্টারনেটের রসিকতা। কিন্তু সেই রসিকতাকেই বিপণনের সুযোগ হিসেবে দেখল সংস্থাটি।  ২০২৫ সালের মে মাসে ঘোষণা করা হয়, সিডনির গোসলের পানির সামান্য অংশ ব্যবহার করে তৈরি হচ্ছে বিশেষ সাবান। সাবানটির নাম দেওয়া হয় ‘সিডনিস বাথওয়াটার ব্লিস’।  সিডনি নিজেই জানিয়েছেন, বিজ্ঞাপনের শুটিংয়ের সময় তিনি বাথটাবে গোসল করেছিলেন এবং সেখানকার পানি সংগ্রহ করা হয়েছিল। অর্থাৎ সাবানটি শুধু প্রচারণার জন্য দেওয়া কোনো কাল্পনিক নাম ছিল না; এতে সত্যিই তার গোসলের পানির কিছু ফোঁটা ব্যবহার করা হয়েছিল। সাবানটিতে গোসলের পানির পাশাপাশি ছিল বালুকণার মতো এক্সফোলিয়েটিং উপাদান ও পাইন বার্ক এক্সট্র্যাক্ট। এর সুগন্ধে রাখা হয়েছিল পাইন, ডগলাস ফার ও মাটির সোঁদা ঘ্রাণ। সিডনির বেড়ে ওঠার অঞ্চল প্রশান্ত মহাসাগরীয় উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের প্রকৃতির ঘ্রাণ ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করা হয়েছিল। ২০২৫ সালের ৬ জুন যুক্তরাষ্ট্রে সাবানটি বিক্রির জন্য উন্মুক্ত করা হয়। প্রতিটির দাম ছিল ৮ ডলার। বাংলাদেশি মুদ্রায় যা ১ হাজার টাকার মতো। তৈরি হয়েছিল মাত্র ৫ হাজার সাবান। সীমিত সংস্করণের এই পণ্য দ্রুত আলোচনায় আসে এবং বিক্রির পরপরই শেষ হয়ে যায় বলে প্রচারণার সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে জানানো হয়। এরপর রিসেল মার্কেটে এই সাবান বিক্রি হয়েছিল ২ লাখ টাকায়।  সূত্র: গলফ নিউজ, লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস আরটিভি/এসআর  
নায়িকার গোসলের পানি দিয়ে তৈরি সাবান, লাখ টাকায় কিনেছিল ভক্তরা
ইতিহাসে আজকের এই দিনে
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর)  এক নজরে দেখে নেওয়া যাক তেমনই কিছু ঘটনা।
ইতিহাসে আজকের এই দিনে
যে কারণে বিয়ারের স্রোতে ভেসে গিয়েছিল লন্ডনের রাস্তা, প্রাণ হারান ৮ জন
ইতিহাসের পাতায় অদ্ভুত এক শিল্পদুর্ঘটনা ‘লন্ডন বিয়ার ফ্লাড’। ১৮১৪ সালের ১৭ অক্টোবর। হঠাৎ বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে লন্ডনের সেন্ট জাইলস এলাকা।
যে কারণে বিয়ারের স্রোতে ভেসে গিয়েছিল লন্ডনের রাস্তা, প্রাণ হারান ৮ জন
ইতিহাসে আজকের এই দিনে
বুধবার (৪ নভেম্বর) এক নজরে দেখে নেওয়া যাক তেমনই কিছু ঘটনা।
ইতিহাসে আজকের এই দিনে
আরও পড়ুন
হাত-পা বেঁধে শিক্ষকের বাড়িতে ডাকাতি, কোটি টাকা লুটের দাবি 
নড়াইলে আমন আবাদে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়াল, বাম্পার ফলনের আশা
মধুমতির তীব্র ভাঙনে ঝুঁকিতে ৩০০ পরিবার
সাপের কামড় খেয়ে সেই সাপ নিয়েই হাসপাতালে বৃদ্ধ