পূর্বাচলের নতুন শহর প্রকল্পে প্লট জালিয়াতির অভিযোগে মামলা চলছে যুক্তরাজ্যের এমপি ও বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভাগ্নি টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে। আগামীকাল সোমবার (১ ডিসেম্বর) এই মামলার রায় ঘোষণা হবে। টিউলিপ ছাড়াও ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও টিউলিপের মা শেখ রেহেনাও এই মামলায় আসামি হিসেবে অন্তর্ভূক্ত আছেন।
টিউলিপের বিরুদ্ধে অভিযোগ, খালা শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থাকাকালীন প্রভাব খাটিয়ে নিজের মা, ভাই ও বোনকে প্লট পাইয়ে দিয়েছেন তিনি। অভিযোগ প্রমাণিত হলে টিউলিপের ১০ বছরের সাজা হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়; টান পড়তে পারে যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টের সদস্যপদ নিয়েও। আগেই দুর্নীতি ও অসততার অভিযোগ মাথায় নিয়ে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের আস্থাভাজন হওয়া স্বত্ত্বেও মন্ত্রিত্ব ছাড়তে হয়েছে তাকে।
রোববার (৩০ নভেম্বর) ব্রিটিশ সংবাদপত্র ডেইলি মেইলের এক প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হয়েছে এমনই চাঞ্চল্যকর তথ্য।
মূলত, চলতি বছরের শুরুর দিকে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প থেকে ৪ বিলিয়ন পাউন্ড আত্মসাতের অভিযোগে টিউলিপের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হওয়ার প্রেক্ষিতে চাপের মুখে সিটি মিনিস্টারের পদ ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। ডেইলি মেইল অভিযোগ করেছিল, বছর তিনেক আগে এই সংবাদপত্রের সঙ্গে আলাপে লন্ডনে তার ফ্ল্যাট নিয়ে মিথ্যাচার করেছেন টিউলিপ। তিনি বলেছিলেন, লন্ডনের কিংস ক্রসে তার ফ্ল্যাটটি বাবা-মার কাছ থেকে উপহার পেয়েছেন। পরে ডেইলি মেইলের অনুসন্ধানে দেখা যায়, ফ্ল্যাটটি আওয়ামী পন্থি এক নেতার দেওয়া।
ব্রিটিশ সরকার অবশ্য এক অভ্যন্তরীণ তদন্তের পর জানায়, টিউলিপ ফ্ল্যাট নিয়ে মিথ্যাচার করে মন্ত্রিত্বের কোনো ধারা লঙ্ঘন করেননি। তবে নিজের ‘সম্মানহানি’ ঠেকাতে তার আরেকটু সচেতন হওয়া উচিত ছিল বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়।
তবে এসব অভিযোগের পরও টিউলিপ এখন পর্যন্ত যুক্তরাজ্যের হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড হাইগেটের এমপি। তার বিরুদ্ধে বাংলাদেশে বিভিন্ন অভিযোগে তদন্ত ও বিচার চললেও এখনও কোনো মামলায় তার সাজা হয়নি।
তবে, ১ ডিসেম্বর পরিস্থিতি বদলাতে যাচ্ছে বলে ধারণা ডেইলি মেইলের। সাজা হলে যুক্তরাজ্যে তাকে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে হতে পারে বলে উল্লেখ করেছে সংবাদমাধ্যমটি। এবার তার সংসদ সদস্য পদ নিয়েও টান পড়তে পারে এবং এর প্রেক্ষিতে তার পদত্যাগের দাবি ফের জোরালো হতে পারে।
পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দের ক্ষেত্রে দুর্নীতির দায়ে পৃথক তিন মামলায় এরই মধ্যে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদকে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। গত ২৭ নভেম্বর এ রায় দেন ঢাকার বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মামুন।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা পৃথক ওই তিন মামলার প্রতিটিতে শেখ হাসিনা আসামি। প্রতিটি মামলায় তকে ৭ বছর করে মোট ২১ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইদসঙ্গে প্রতিটি মামলায় তাঁকে এক লাখ টাকা করে মোট তিন লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদকে পৃথক মামলায় পাঁচ বছর করে কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এর পাশাপাশি দুজনকেই এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আরটিভি/এসএইচএম




