যুক্তরাজ্যের সংসদে তীব্র উত্তেজনার মধ্যে বিরোধী দল রিফর্ম ইউকের এমপি লি অ্যান্ডারসনকে সংসদ কক্ষ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারকে মিথ্যা বলছেন বলে মন্তব্য করার পরই এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
ঘটনাটি ঘটে পিটার ম্যান্ডেলসনকে যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগে নিরাপত্তা যাচাই সংক্রান্ত বিতর্ককে ঘিরে। লি অ্যান্ডারসন বলেন, 'প্রধানমন্ত্রীকে কেউ বিশ্বাস করে না, তিনিও মিথ্যা বলছেন।' তার এই মন্তব্যে সংসদের স্পিকার স্যার লিন্ডসে হোয়েল সঙ্গে সঙ্গে হস্তক্ষেপ করেন।
স্পিকার জানান, সংসদে কাউকে সরাসরি মিথ্যাবাদী বলা নিয়মবহির্ভূত। তিনি লি অ্যান্ডারসনকে মন্তব্য প্রত্যাহার করতে বলেন। কিন্তু তিনি তা প্রত্যাখ্যান করে আরও কঠোর ভাষায় মন্তব্য করে বলেন, 'তিনি (মি. স্টারমার) পুরো জাতিকে বিভ্রান্ত করছেন। তাই আসুন, বিষয়টিকে তার আসল রূপে তুলে ধরি। প্রধানমন্ত্রী একজন নির্লজ্জ মিথ্যাবাদী।'
এরপরই স্পিকার ঘোষণা দেন, লি অ্যান্ডারসনকে সংসদ কক্ষ ত্যাগ করতে হবে।
একই অধিবেশনে আরও উত্তেজনা দেখা যায়। আরেক এমপি জারা সুলতানাকেও একই কারণে সংসদ থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার সংসদে অভিযোগ করেন, ম্যান্ডেলসনের নিয়োগ নিরাপত্তা যাচাই সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তাকে ইচ্ছাকৃতভাবে জানানো হয়নি। তিনি বলেন, এটি কোনো ভুল ছিল না। বরং উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে তথ্য গোপন করা হয়েছিল।
এই ঘটনার পর পরই ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তা স্যার ওলি রবিনসকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে তার ঘনিষ্ঠরা দাবি করেছেন, তিনি কোনো ভুল করেননি। তাকে অন্যায়ভাবে দোষারোপ করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে ম্যান্ডেলসন বিতর্ককে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গন এখন চরম উত্তেজনায় রয়েছে।
সূত্র: দ্য মিরর
আরটিভি/জেএমএ



