যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যখন নিজের নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার দাবি নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনার ঝড় তুলেছেন এবং তার সমর্থকরা তাকে এই সম্মানের যোগ্য হিসেবে তুলে ধরছিলেন, ঠিক তখনই নরওয়ের নোবেল কমিটি তাদের এক অপ্রত্যাশিত চমক দিল।
শুক্রবার (১০ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৩টার দিকে নরওয়ের রাজধানী অসলো থেকে ঘোষণা করা হলো, ২০২৫ সালের শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জিতেছেন ভেনেজুয়েলার রাজনীতিবিদ ও গণতন্ত্রের কর্মী মারিয়া কোরিনা মাচাদো।
ট্রাম্প যখন বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় আটটি যুদ্ধ থামানোর দাবি করছেন, তখন ভেনেজুয়েলার একজন গণতন্ত্রের কর্মী কীভাবে এই পুরস্কার পেলেন—এমন প্রশ্ন অনেকের মনেই জাগছে। এর মাধ্যমে নোবেল কমিটি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছে যে, কৌশলগত ভূ-রাজনীতির চেয়েও স্থানীয় পর্যায়ে গণতান্ত্রিক অধিকার ও মানবাধিকারের জন্য লড়াকু কণ্ঠস্বর তাদের কাছে বেশি মূল্যবান।
চলুন জেনে নেওয়া যাক, কে এই মারিয়া কোরিনা মাচাদো, যার হাতে এবার শান্তিতে নোবেল উঠল।
মারিয়া কোরিনা মাচাদো ভেনেজুয়েলার একজন নিবেদিতপ্রাণ রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব।তিনি দীর্ঘদিন ধরে দেশটির কর্তৃত্ববাদী শাসন ব্যবস্থার বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াই করে আসছেন। দেশটির গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের এবং মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে একজন অগ্রণী কণ্ঠস্বর হয়ে তিনি কাজ করে আসছিলেন।
এছাড়াও ভেনেজুয়েলায় দীর্ঘ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সঙ্কটের মধ্যে, মাহিনা কোহিয়ানা মাচাদো দেশটির সিভিল সোসাইটি এবং গণতন্ত্রপন্থীদের আশার প্রতীক হিসেবে আবির্ভূত হন। তিনি এমন একটি সময়ে কাজ করে চলেছেন, যখন সেখানে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রিত এবং বিরোধী মত দমনে ব্যাপক নিপীড়ন চলছে।
এদিকে নোবেল কমিটিও তাদের বিবৃতিতে বলেছে, ‘ভেনেজুয়েলার জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় নিরলস প্রচেষ্টা এবং একনায়কতন্ত্র থেকে গণতন্ত্রে ন্যায়সংগত ও শান্তিপূর্ণ পরিবর্তনের লড়াইয়ের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি নোবেল শান্তি পুরস্কার পাচ্ছেন। ভেনেজুয়েলায় গণতন্ত্র আন্দোলনের নেতা হিসেবে মারিয়া কোরিনা মাচাদো সাম্প্রতিক সময়ে লাতিন আমেরিকার অন্যতম সাহসী বেসামরিক নেত্রী।’
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘মাচাদো এমন এক সময়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলেছেন, যখন তারা ছিল গভীরভাবে বিভক্ত। অবাধ নির্বাচন ও প্রতিনিধিত্বমূলক সরকারের দাবিতে সেই বিভক্ত বিরোধীরা এক হয়েছে, যা গণতন্ত্রের মূল চেতনা। ভিন্নমতের মধ্যেও জনগণের শাসনের নীতিকে রক্ষা করার যে সম্মিলিত অঙ্গীকার, সেটিই গণতন্ত্রের প্রাণ। আর আজ যখন গণতন্ত্র হুমকির মুখে, তখন এই যৌথ অবস্থান রক্ষা করা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি জরুরি।’
নোবেল কমিটি আরও জানায়, ‘ভেনেজুয়েলা একসময় ছিল তুলনামূলকভাবে গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ দেশ। কিন্তু এখন তা পরিণত হয়েছে এক নিষ্ঠুর, স্বৈরাচারী রাষ্ট্রে, যেখানে মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকট চরমে পৌঁছেছে। দেশের অধিকাংশ মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে, অথচ শাসক শ্রেণির এক ক্ষুদ্র অংশ সম্পদের পাহাড় গড়ছে। রাষ্ট্রের সহিংস যন্ত্র এখন নিজের নাগরিকদের বিরুদ্ধেই ব্যবহৃত হচ্ছে। প্রায় ৮০ লাখ মানুষ দেশ ছেড়ে পালিয়েছে। নির্বাচন জালিয়াতি, মামলা ও কারাবন্দিত্বের মাধ্যমে বিরোধী পক্ষকে পদ্ধতিগতভাবে দমন করা হচ্ছে।’
আরটিভি/এআর




