বিশ্বের নানা প্রান্তে মানুষ ঘরে ফেরে বাস, ট্রেন, গাড়ি বা সাইকেলে চড়ে। কিন্তু বিশ্বে এমন একটি দেশ আছে যেখানে নাগরিকরা অফিস শেষে ঘরে ফেরেন নদীতে ভেসে! বিস্ময়কর হলেও সত্য এই দৃশ্য প্রতিদিন দেখা যায় সুইজারল্যান্ডে।
গ্রীষ্ম এলেই আধুনিক শহর, পরিষ্কার বাতাস আর ব্যস্ত নাগরিকদের এক ভিন্ন দৃশ্য ফুটে ওঠে সেখানে। বার্ন ও বাসেল অঞ্চলে শহরের মাঝ দিয়ে বয়ে যাওয়া স্বচ্ছ নদী আর ও রাইন–এর স্রোতে ভেসে ফেরাই স্থানীয়দের নতুন যাতায়াত পদ্ধতি হয়ে উঠেছে।
অফিস শেষে মানুষজন নদীর পাড়ে এসে মোবাইল, মানিব্যাগ ও পোশাক গুটিয়ে রাখেন একটি বিশেষ জলরোধী ব্যাগে। পরে এই ব্যাগটি ছোট ভাসমান টিউবের মতো ব্যবহার করা হয়। এরপর নদীতে নেমে স্রোতের সঙ্গে ভেসে বাড়ির পথে রওনা দেন।
নদীর দুই পাড়ে তৈরি করা হয়েছে পরিবর্তনকক্ষ ও স্নানঘর, যাতে সহজেই পোশাক বদলে বা গোসল সেরে নেওয়া যায়। পুরো প্রক্রিয়াটি নিরাপদ, স্বচ্ছন্দ এবং স্থানীয়দের কাছে বেশ উপভোগ্য।
নদীতে ভেসে বাড়ি ফেরার ফলে যাতায়াত খরচ প্রায় শূন্য হয়ে আসে। পাশাপাশি, গাড়ি বা মোটরচালিত যান ব্যবহার না করায় কার্বন নিঃসরণ কমে যায় উল্লেখযোগ্যভাবে। এজন্যই এ পদ্ধতি দিন দিন আরও জনপ্রিয় হচ্ছে।
সুইজারল্যান্ড দীর্ঘদিন ধরেই পরিবেশবান্ধব ও টেকসই জীবনধারায় বিশ্বে শীর্ষে। সেখানকার মানুষের গভীর পরিবেশ সচেতনতা ও স্বাস্থ্যসচেতনতা থেকেই এই ব্যতিক্রমী অভ্যাসের জন্ম।
প্রতিদিনের যাতায়াতে স্বচ্ছ নদীকে বেছে নেওয়া শুধু এক অনন্য রোমাঞ্চই নয়, বরং পরিবেশসংরক্ষণে তাদের দায়িত্ববোধেরও প্রমাণ।
আরটিভি/এসকে





