ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

বাংলাদেশ সীমান্তে ভারত কেন শক্তি বৃদ্ধি করছে?

ডয়চে ভেলে

প্রকাশ : ১৪ নভেম্বর ২০২৫, ১০:১৯ পিএম
ফাইল ছবি

ঢাকার সঙ্গে দিল্লির উত্তেজনার পারদ চড়ছে, অন্যদিকে ইসলামাবাদের সঙ্গে সম্পর্কে উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সীমান্তে ভারতের সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর খবর যোগ করছে বাড়তি মাত্রা।

ভারতের মূল ভূখণ্ডকে তার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সাতটি রাজ্যের সাথে সংযুক্ত করেছে মাত্র ২২ কিলোমিটার প্রশস্ত শিলিগুড়ি করিডোর। নেপাল, ভুটান, বাংলাদেশ এবং চীনের মধ্যে কৌশলগত অবস্থানে থাকা ভূখণ্ডটি এর সংকীর্ণ আকৃতির কারণে ‘চিকেনস নেক’ নামেও পরিচিত। ভারতের সবচেয়ে সংবেদনশীল ভূ-রাজনৈতিক বিন্দুগুলোর একটি হিসাবে বিবেচনা করা হয় এই করিডোরকে।

চলতি সপ্তাহেই ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, শিলিগুড়ি করিডোরকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন কৌশলগত পয়েন্টে তিনটি সামরিক গ্যারিসন স্থাপন করেছে দেশটির সেনাবাহিনী।

ভারতীয় কর্মকর্তারা নতুন সামরিক ব্যবস্থার খুঁটিনাটির ব্যাপারে নীরব থাকলেও ব্যাপক সৈন্য সমাবেশ এবং মোতায়েন শক্তিশালী করার যথেষ্ট প্রমাণ দেখা গেছে।

১৫ বছরের শাসনামলে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল সম্পর্ক নিশ্চিত করেছিলেন। তবে ২০২৪ সালের আগস্টে ক্ষমতাচ্যুতির প্রেক্ষাপটে হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর ঢাকার অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে নয়াদিল্লির সম্পর্ক আর যাই হোক, বন্ধুত্বপূর্ণ নয়।

উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারতের শক্তি প্রদর্শন

নয়াদিল্লির থিঙ্ক ট্যাঙ্ক অবজারভার রিসার্চ ফাউন্ডেশন (ওআরএফ)-এর স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ প্রোগ্রামের প্রধান হর্ষ ভি.পন্ত বলেছেন, শিলিগুড়ি করিডোর একটি ‘কৌশলগত দুর্বলতা যা ভারতকে রক্ষা করতে হবে।’

বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা নোবেল শান্তি পুরষ্কার জয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের কথা উল্লেখ করে পন্ত বলেন, ‘বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান ভারতবিরোধী মনোভাব ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইউনূস সরকার নয়াদিল্লির প্রতি অনুকূল নয়।’

৯ নভেম্বর উত্তর-পূর্ব রাজ্য আসামে ভারতের বিমানবাহিনী তাদের সর্ববৃহৎ বিমান প্রদর্শনীও করেছে। মহড়াটি নিয়মিত আয়োজনের অংশ হলেও ইতিহাসের সর্ববৃহৎ এয়ার শো এর একটি হওয়ায় এটিকে অনেকেই একটি বার্তা হিসাবে দেখতে চাচ্ছেন।

বাংলাদেশের উত্তর সীমান্তে যখন ভারতের সামরিক প্রদর্শনী চলছে, দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর তখন অবস্থান করছে পাকিস্তানের একটি যুদ্ধজাহাজ। ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে পাকিস্তানের কাছ থেকে বাংলাদেশ স্বাধীনতা পাওয়ার পর এই প্রথম কোনো পাকিস্তানি যুদ্ধজাহাজ বাংলাদেশের বন্দরে নোঙর ফেললো। পাকিস্তানি নৌবাহিনীর প্রধানও একই সময়ে ছিলেন বাংলাদেশ সফরে।

পন্ত বলেন, ভারত ধারাবাহিক সামরিক মহড়ার মাধ্যমে ইঙ্গিত দিতে চায় যে ‘এই অঞ্চলে তারা যে চ্যালেঞ্জগুলোর মুখোমুখি হচ্ছে, সে সম্পর্কে দেশটি সচেতন।’ তবে তিনি বিশ্বাস করেন যে, বিমান প্রদর্শনীটি ‘বিশেষ করে কোনো কিছুকে লক্ষ্য করে আয়োজন করা হয়নি।’

অবসরপ্রাপ্ত ভারতীয় লেফটেন্যান্ট জেনারেল উৎপল ভট্টাচার্যের মতও প্রায় একই। তিনি বলেন, কখনো কখনো এগুলো নিয়মিত মহড়া, কখনো কখনো কৌশলগত সংকেত। তবে তিনি মনে করেন, উদ্দেশ্য রাতারাতি বদলে যেতে পারে। বিশ্বাস নষ্ট হলে আজকের বন্ধু আগামীকালের প্রতিপক্ষও হয়ে উঠতে পারে।

তলানিতে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক

পন্ত মনে করছেন, ভারতের সামরিক পদক্ষেপগুলো প্রতিরক্ষামূলক এবং সংঘাতের উদ্দেশ্য নয়। তবে তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের ‘উস্কানিমূলক’ বক্তব্যের কারণে উত্তেজনা আরো বাড়তে পারে।

এ বিষয়ে মার্চ মাসে ইউনূসের দেওয়া একটি মন্তব্যের দিকে ইঙ্গিত করেন পন্ত। চীনে এক আলোচনায় ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে ‘স্থলবেষ্টিত’ হিসাবে বর্ণনা করেছিলেন এবং বাংলাদেশকে এই অঞ্চলের জন্য সমুদ্রের একমাত্র প্রবেশদ্বার বলে আখ্যা দিয়েছিলেন।

ঢাকা পরবর্তীতে এক ব্যাখ্যায় বলেছে, আঞ্চলিক সংযোগের সম্ভাবনাকে তুলে ধরাই ছিল মুহাম্মদ ইউনূসের মন্তব্যের উদ্দেশ্যে। তবে অঞ্চলটির ভূ-রাজনৈতিক সংবেদনশীলতার কারণে এই ব্যাখ্যাকেও নয়াদিল্লি ভালোভাবে নেয়নি।

সাম্প্রতিক সামরিক ঘটনাবলী নিয়ে দুই সরকারই নীরব ভূমিকায় রয়েছে।

ভারতের পক্ষ থেকে বরাবারই বার্তা দেয়া হচ্ছে যে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালটা তারা ‘অপেক্ষা’ করেই কাটিয়ে দিতে চায়। বিভিন্ন বার্তায় ইঙ্গিত দেয়া হয়েছে, বাংলাদেশের ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর ভারত ‘নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে’ সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়।

‘একবার নির্বাচন হয়ে গেলে এবং ম্যান্ডেটসহ একটি সরকার আসার পরে সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়া শুরু হতে পারে,’ মনে করেন পন্ত।

বন্ধু থেকে শত্রুতে পরিণত হওয়ার কারণ কী!

২০২৪ সালের আগস্টে হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক কয়েক দশকের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে পৌঁছেছে।

১৫ বছরের শাসনামলে হাসিনা ভারত-বিরোধী বিচ্ছিন্নতাবাদী নেটওয়ার্ক ভেঙে দেয়া, জঙ্গিবাদ দমন এবং যোগাযোগ উন্নয়ন প্রকল্পে ভারতকে সহায়তা করেছিলেন। এসব সহযোগিতার মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের বন্দর ব্যবহারের মাধ্যমে ভারতকে বঙ্গোপসাগরে প্রবেশাধিকার দেয়া এবং চার হাজার কিলোমিটার বিস্তৃত সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করা।

তবে দুই দেশের সম্পর্কে অবিশ্বাসও উসকে দিয়েছে নানা ঘটনা। ভারতের ২০১৯ সালের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন (সিএএ)-র মাধ্যমে আফগানিস্তান, বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান থেকে আসা হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ এবং খ্রিস্টান ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব পাওয়ার সুযোগ দেয়া হয়। মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশে অনেকেই এই ঘটনাকে ভালো দৃষ্টিতে দেখেননি।

বাংলাভাষী অভিবাসীদের ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ হিসাবে চিহ্নিত করে দেয়া ভারতীয় নেতাদের নানা বক্তব্যও এই শত্রুতাকে আরো গভীরভাবে উসকে দিয়েছে। এর পাশাপাশি সীমান্তে হত্যা, অভিন্ন নদীর জলবণ্টন চুক্তিতে ব্যর্থতাসহ আরো নানা সংকটও বিরোধিতাকে তীব্রতর করেছে।

পতনের পর পালিয়ে যাওয়া হাসিনাকে ভারত আশ্রয় দেয়ায় বাংলাদেশে এই ভারত-বিরোধী রাজনৈতিক মনোভাব আরো প্রকট হয়েছে। ঢাকার বারবার অনুরোধ সত্ত্বেও নয়াদিল্লি শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে নীরব রয়েছে।

ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে তার একের পর এক সাক্ষাৎকার দেয়ার ঘটনাকেও বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার উসকানি হিসাবে বিবেচনা করছে।

১২ নভেম্বর ঢাকায় নিয়োজিত ভারতীয় দূতকে তলব করে হাসিনার গণমাধ্যমে উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশ। গত বছর সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর ভয়াবহ দমন-পীড়ন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে বিচার চলছে শেখ হাসিনার। এ বিষয়ক প্রথম মামলার রায় ঘোষণা করা হবে ১৭ নভেম্বর।

সাবেক বাংলাদেশি কূটনীতিক এম. হুমায়ুন কবির বলেন, ১৫ বছর ধরে ভারতের এমন বিশ্বাস হয়েছে যে তারা চাইলেই ঢাকাকে ‘নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে’। সেই সময় এখন আর নেই। বাংলাদেশে ভারতের আধিপত্য বিস্তারের প্রবণতা তীব্রতর হয়েছে।

পাকিস্তান-বাংলাদেশ ‘নতুন পাওয়া ভালোবাসা’

একদিকে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্কে এসেছে নতুন উষ্ণতা, যাকে ওআরএফ- এর পন্ত উল্লেখ করেছেন, ‘নতুন পাওয়া ভালোবাসা’ হিসাবে।

১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেসের রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারত কূটনৈতিক ও সামরিক দুই দিক থেকেই সহায়তা করেছিল। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে দীর্ঘদিনের শীতল সম্পর্ককে উষ্ণতায় ফেরানোর চেষ্টা করছে পাকিস্তান।

ইসলামাবাদ তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং গোয়েন্দা প্রধানসহ উচ্চ পর্যায়ের নানা প্রতিনিধিদল ঢাকায় পাঠিয়েছে, বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছে এবং নৌসফর ও প্রতিরক্ষা আলোচনার মাধ্যমে সামরিক সহযোগিতাও পুনরুজ্জীবিত করার চেষ্টা চালাচ্ছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, এটি বাংলাদেশের ভারতের প্রভাব মোকাবিলার প্রচেষ্টার অংশ, তবে নয়াদিল্লি এই সম্পর্ককে তার নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করছে।

‘বাংলাদেশ সবসময়ই ১৯৭১ সালে ভারতের ভূমিকার কথা স্বীকার করে এসেছে’ বলে জানান নিরাপত্তা বিশ্লেষক এবং অবসরপ্রাপ্ত বাংলাদেশি জেনারেল ফজলে এলাহী আকবর। তিনি বলেন, কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে নিজের স্বার্থকে উপেক্ষা করে বাংলাদেশ ভারতের কাছে মাথা নত করবে।

সাবেক কূটনীতিক কবির মনে করেন বাংলাদেশ ‘ভারতের সঙ্গে তার সম্পর্কের ভিত্তি খুব ভালো করেই বোঝে’। তবে দুই দেশের সম্পর্কে যে ‘পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সমতা এবং মর্যাদা’ প্রয়োজন, ভারতের পক্ষ থেকে তার অভাব রয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

এমন উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে ভারতের নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত ডোভালের আমন্ত্রণে ১৯ নভেম্বর নয়াদিল্লি যাচ্ছেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমান। ভারত মহাসাগরীয় পাঁচ দেশের নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সম্মেলন - কলম্বো নিরাপত্তা সম্মেলনে অংশ নিবেন তিনি।

তীব্র উত্তেজনার মধ্যে এই সফরের সময়কে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

আরটিভি/আরএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
চলন্ত গাড়িতে গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, ছুড়ে ফেলা হলো রাস্তায়
ভারতে নারী নিরাপত্তার কঙ্কালসার রূপটি আবারও উন্মোচিত হলো হরিয়ানার ফরিদাবাদে। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) রাতে এক ২৮ বছর বয়সী নারীকে চলন্ত গাড়িতে তুলে নিয়ে প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে দলবদ্ধ ধর্ষণ করেছে দুই যুবক। পৈশাচিক এই নির্যাতনের পর রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে চলন্ত গাড়ি থেকে রাস্তায় ছুড়ে ফেলে দিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। বর্বরোচিত এই ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। খবর এনডিটিভির।  পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারী রাতে বাড়ি ফেরার জন্য যানবাহনের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময় দুই যুবক তাকে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে একটি ভ্যানগাড়িতে তোলে। কিন্তু গাড়িটি গন্তব্যে না গিয়ে গুরগাঁও সড়কের নির্জন পথে চলতে শুরু করে। চলন্ত গাড়ির ভেতর আড়াই ঘণ্টা ধরে চলে পাশবিক নির্যাতন। বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে তাকে প্রাণে মারার হুমকিও দেওয়া হয়। আরও পড়ুন ‘হিন্দুরা ৩ সন্তান নিন, মুসলিমদের সংখ্যা বাড়ছে’, আসামের মুখ্যমন্ত্রী রাত ৩টার দিকে ফরিদাবাদের এসজিএম নগরের কাছে চলন্ত গাড়ি থেকে তাকে ছুড়ে ফেলে দেয় অভিযুক্তরা। এতে ওই নারীর মুখ ও শরীরে গুরুতর আঘাত লাগে এবং প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। ওই অবস্থায় তিনি কোনোমতে তার বোনকে ফোন করলে পরিবারের সদস্যরা এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, গুরুতর জখম হওয়ায় তার মুখে ১০-১২টি সেলাই দিতে হয়েছে। শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলেও তিনি প্রচণ্ড মানসিক ট্রমার মধ্যে রয়েছেন। পুলিশ জানিয়েছে, ওই নারী তিন সন্তানের জননী এবং পারিবারিক কলহের কারণে বর্তমানে স্বামীর থেকে আলাদা থাকছেন। ঘটনার রাতে মায়ের সঙ্গে ঝগড়া করে এক বান্ধবীর বাড়ির উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিলেন তিনি। পথে এই ভয়াবহ বিপদের মুখে পড়েন তিনি। পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত দুই যুবককে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে এবং তাদের ব্যবহৃত গাড়িটি জব্দ করা হয়েছে। হরিয়ানা পুলিশ জানিয়েছে, আসামিদের বিরুদ্ধে কঠোর ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। দ্রুত জবানবন্দি গ্রহণ ও ফরেনসিক পরীক্ষার পর অভিযোগপত্র দাখিলের প্রস্তুতি চলছে। ভারতে একের পর এক নারী নির্যাতনের ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলেও দেশটির ভাবমূর্তিকে প্রশ্নের মুখে ফেলছে। বিশেষ করে দিল্লির নির্ভয়া কাণ্ডের স্মৃতি মনে করিয়ে দেওয়া এই ঘটনাটি আবারও প্রমাণ করল যে, রাতের রাস্তায় নারীরা এখনো কতটা অসুরক্ষিত। আরটিভি/এআর 
চলন্ত গাড়িতে গৃহবধূকে দলবদ্ধ ধর্ষণ, ছুড়ে ফেলা হলো রাস্তায়
‘হিন্দুরা ৩ সন্তান নিন, মুসলিমদের সংখ্যা বাড়ছে’, আসামের মুখ্যমন্ত্রী
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা জনসংখ্যা বৃদ্ধি নিয়ে এক বিস্ফোরক ও বিতর্কিত মন্তব্য করেছেন। তিনি হিন্দু দম্পতিদের কেবল একটি সন্তানে সীমাবদ্ধ না থেকে অন্তত দুই অথবা তিন সন্তান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের প্রতি তার বার্তা হলো—তারা যেন সাত-আট সন্তান না নেয়। মুখ্যমন্ত্রীর এমন মন্তব্য ভারতের ধর্মীয় ও সামাজিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নতুন করে বিতর্কের আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। খবর এনডিটিভির।  মঙ্গলবার(৩০ ডিসেম্বর) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হিমন্ত শর্মা দাবি করেন, রাজ্যে সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় জন্মহার অস্বাভাবিক বেশি, বিপরীতে হিন্দুদের মধ্যে এই হার আশঙ্কাজনকভাবে কমছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, হিন্দুরা যদি সন্তান সংখ্যা না বাড়ায়, তবে ভবিষ্যতে তাদের ঘর ও সম্পদ দেখভাল করার মতো কেউ অবশিষ্ট থাকবে না। আসামের জনমিতি বা জনসংখ্যার ভারসাম্য দ্রুত বদলে যাচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।  আরও পড়ুন নতুন বছরে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ লাগতে পারে মুখ্যমন্ত্রী পরিসংখ্যান তুলে ধরে দাবি করেন, ২০২৭ সালের আদমশুমারিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুসলমানদের জনসংখ্যা ৪০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। তিনি তার ছাত্র রাজনীতির সময়কার কথা উল্লেখ করে বলেন, এক সময় তাদের জনসংখ্যা ছিল মাত্র ২১ শতাংশ, যা ২০১১ সালে ৩১ শতাংশে গিয়ে ঠেকেছে। হিমন্ত শর্মার আশঙ্কা, অদূর ভবিষ্যতে ভূমিপুত্র অসমীয়াদের জনসংখ্যা ৩৫ শতাংশের নিচে নেমে যাবে এবং বাংলাদেশ থেকে আসা মানুষের প্রভাব সর্বত্র ছড়িয়ে পড়বে। জনসংখ্যা বৃদ্ধির এই প্রবণতাকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ওরা (বাংলাদেশ) প্রায়ই বলে উত্তর-পূর্ব ভারত আলাদা করে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত হওয়া উচিত। এর জন্য যুদ্ধ করার দরকার নেই, জনসংখ্যা ৫০ শতাংশ পেরোলে তা আপনা-আপনি হয়ে যাবে।  হিমন্ত শর্মা তার বক্তব্যে বিরোধী দল কংগ্রেসকেও একহাত নেন। তিনি অভিযোগ করেন, কংগ্রেসের ভেতর থেকে মুসলমানদের জন্য ৪৮টি আসন সংরক্ষণের দাবি তোলা হচ্ছে এবং দলটির ‘ইকোসিস্টেম’ পুরোপুরি সংখ্যালঘু ভোটের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।  আরটিভি/এআর 
‘হিন্দুরা ৩ সন্তান নিন, মুসলিমদের সংখ্যা বাড়ছে’, আসামের মুখ্যমন্ত্রী
খালেদা জিয়াকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় আসছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় যোগ দিতে ঢাকা আসছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বিকেলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সংবাদমাধ্যমকে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। আগামীকাল বুধবার রাজধানী ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য এই রাষ্ট্রীয় জানাজায় প্রতিবেশী দেশের শীর্ষ এই নেতার অংশগ্রহণকে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, কেবল ভারত নয়, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরা বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রের জন্য তার সংগ্রামের স্বীকৃতি ও আন্তর্জাতিক সুসম্পর্কের অংশ হিসেবে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও মন্ত্রীরা তাকে শেষ বিদায় জানাতে ঢাকায় আসছেন। ইতোমধ্যেই তাদের আগমনের প্রস্তুতি ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। আরও পড়ুন খালেদা জিয়ার জানাজায় যোগ দেবেন পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেরেবাংলা নগরের জাতীয় সংসদ ভবন প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠেয় এই জানাজায় দেশি-বিদেশি বিশিষ্ট ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে এক আবেগঘন পরিবেশ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর মৃত্যুতে বিশ্বমঞ্চে যে শোকের ছায়া নেমেছে, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সফর তারই এক জোরালো প্রতিফলন। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আন্তর্জাতিক প্রতিনিধিদের স্বাগত জানাতে প্রটোকল টিম সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে। এর আগে, আজ ভোর ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান খালেদা জিয়া। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮০ বছর।  বেগম জিয়ার মৃত্যুতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও নেতারা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এ ছাড়া সাত দিন শোক পালনের কর্মসূচি দিয়েছে বিএনপি। আরটিভি/এআর 
খালেদা জিয়াকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে ঢাকায় আসছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
এবার ‘চীনা সন্দেহে’ ভারতে বিএসএফ সদস্যের ছেলেকে হত্যা
ভারতের উত্তরাখণ্ড রাজ্যের রাজধানী দেহরাদুনে এবার ‘চীনা সন্দেহে’ হামলার শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন ত্রিপুরার এক মেধাবী শিক্ষার্থী। গত ৯ ডিসেম্বর কেনাকাটা করতে গিয়ে একদল যুবকের বর্ণবিদ্বেষী গালিগালাজের প্রতিবাদ করায় নির্মমভাবে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে গুরুতর আহত করা হয় ২৪ বছর বয়সী অ্যাঞ্জেল চাকমাকে। টানা ১৪ দিন ভেন্টিলেটরে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে থাকার পর অবশেষে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি। মর্মান্তিক বিষয় হলো, নিহত অ্যাঞ্জেলের বাবা একজন বিএসএফ জওয়ান; যিনি সীমান্তে দেশের সুরক্ষায় নিয়োজিত। খবর হিন্দুস্তান টাইমসের।  নিহত অ্যাঞ্জেল চাকমা (২৪) দেহরাদুনের জিজ্ঞাসা বিশ্ববিদ্যালয়ে এমবিএ এর শিক্ষার্থী ছিলেন।  আরও পড়ুন ভারতীয়দের বহিষ্কারে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও এগিয়ে সৌদি আরব শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) অ্যাঞ্জেলের মরদেহ তার নিজ শহর আগরতলায় আনা হলে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে উত্তর-পূর্ব ভারতসহ পুরো দেশজুড়ে ক্ষোভের আগুন জ্বলছে। পরিবারের অভিযোগ, শুধুমাত্র চেহারার কারণে তাদের সন্তানদের ‘চীনা’ বলে অপমান করা হয়েছে এবং প্রতিবাদ করায় তাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে একদল উগ্র যুবক। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ঘটনার দিন সন্ধ্যায় অ্যাঞ্জেল তার ছোট ভাই মাইকেল দোজের সাথে স্থানীয় বাজারে কেনাকাটা করতে গিয়েছিলেন। সেখানে কয়েকজন যুবক তাদের গতিরোধ করে এবং ‘চীনা’ বলে গালিগালাজ শুরু করে। অ্যাঞ্জেল শান্তভাবে প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, আমরা চীনা নই, আমরা ভারতীয়। আমাদের ভারতীয়ত্ব প্রমাণ করার জন্য কি কোনো প্রমাণপত্র দেখাতে হবে? এই তর্কের মাঝেই অভিযুক্তরা ধারালো ছুরি দিয়ে অ্যাঞ্জেলের ঘাড় ও মেরুদণ্ডে আঘাত করে। মাইকেলকেও গুরুতর জখম করা হয়।  এই ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত ৫ জনকে গ্রেপ্তার করেছে, যার মধ্যে দুইজন নাবালক। তবে মূল অভিযুক্ত যজ্ঞ অবাস্থি এখনও পলাতক। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি নেপালে পালিয়ে গেছেন। পুলিশ তার সন্ধান দিতে পারলে ২৫ হাজার রুপি পুরস্কার ঘোষণা করেছে। আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যা ও সম্মিলিত অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর ত্রিপুরাসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের ছাত্র সংগঠনগুলো রাজপথে নেমে এসেছে। তারা জাতিগত ঘৃণামূলক অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর জাতীয় আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন।  তিপ্রা মোথা পার্টির প্রধান প্রদ্যুৎ বিক্রম মাণিক্য দেববর্মা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, উত্তর-পূর্বের মানুষ দেশের সীমান্ত রক্ষা করে, অথচ তাদেরই নিজ দেশে ‘চীনা’ বলে অপমানিত হতে হয়। এটি কেবল একটি পরিবারের ক্ষতি নয় বরং দেশের ঐক্যের ওপর বড় আঘাত। উল্লেখ্য, অ্যাঞ্জেল চাকমার এই হত্যাকাণ্ড সম্প্রতি ভারতে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে শ্রমিকদের ওপর চলা নির্যাতনের বীভৎস স্মৃতিকে পুনরায় সামনে এনেছে। এর আগে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে স্রেফ সন্দেহের বশে অনেককে ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ তকমা দিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে।   আরটিভি/এআর 
এবার ‘চীনা সন্দেহে’ ভারতে বিএসএফ সদস্যের ছেলেকে হত্যা
ভারতীয়দের বহিষ্কারে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও এগিয়ে সৌদি আরব
বিশ্বজুড়ে অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অবস্থানের কথা বারবার আলোচনায় এলেও, ভারত সরকার প্রকাশিত সাম্প্রতিক তথ্য এক চাঞ্চল্যকর চিত্র তুলে ধরেছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র নয় বরং সৌদি আরব থেকে সবচেয়ে বেশি ভারতীয় নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ভিসা জালিয়াতি এবং শ্রম আইন লঙ্ঘনের কারণেই এই বহিষ্কারের ঘটনা বেশি ঘটেছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী কীর্তি বর্ধন সিং। খবর এনডিটিভির।  রিয়াদের ভারতীয় মিশনের দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত চার বছরে সৌদি আরব থেকে কয়েক হাজার ভারতীয়কে বহিষ্কার করা হয়েছে। ২০২১ সালে ৮ হাজার ৮৮৭ জন, ২০২২ সালে ১০ হাজার ২৭৭ জন, ২০২৩ সালে ১১ হাজার ৪৮৬ জন এবং ২০২৪ সালে ৯ হাজার ২০৬ জন ভারতীয়কে ফেরত পাঠানো হয়। চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭ হাজার ১৯ জনে। মূলত ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়া, কাজের অনুমতি ছাড়া চাকুরি করা এবং নিয়োগকর্তার কাছ থেকে পালিয়ে যাওয়ার মতো কারণে এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। আরও পড়ুন তাজমহল নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য ভারতীয় মন্ত্রীর সৌদি আরবের তুলনায় যুক্তরাষ্ট্রে ভারতীয়দের বহিষ্কারের হার তুলনামূলকভাবে অনেক কম। ওয়াশিংটন ডিসি মিশনের তথ্যমতে, ২০২৫ সালে এখন পর্যন্ত ৩ হাজার ৪১৪ জন ভারতীয়কে বহিষ্কার করা হয়েছে, যা গত কয়েক বছরের তুলনায় বাড়লেও সৌদি আরবের সংখ্যার ধারেকাছে নেই। যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য শহর যেমন সান ফ্রান্সিসকো, নিউ ইয়র্ক বা শিকাগো থেকে বহিষ্কারের সংখ্যা ছিল মাত্র দুই বা তিন অংকের ঘরে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের লিখিত জবাবে আরও দেখা যায় যে, শুধুমাত্র সৌদি আরব বা যুক্তরাষ্ট্র নয়, অন্যান্য দেশ থেকেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভারতীয়কে বহিষ্কার করা হয়েছে। এর মধ্যে মিয়ানমার থেকে ১ হাজার ৫৯১ জন, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে ১ হাজার ৪৬৯ জন, মালয়েশিয়া থেকে ১ হাজার ৪৮৫ জন এবং বাহরাইন থেকে ৭৬৪ জন ভারতীয়কে ফেরত পাঠানো হয়েছে। এছাড়া থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া থেকেও কয়েকশ ভারতীয় নাগরিক বহিষ্কৃত হয়েছেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আরও স্পষ্ট করেছে যে, বিদেশে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। যেকোনো সংকটময় পরিস্থিতিতে প্রবাসীদের উদ্ধার এবং নিজ দেশে ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট দেশের সরকারের সঙ্গে ভারতীয় মিশনগুলো নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে শ্রম আইন নিয়ে ভারতীয় কর্মীদের সচেতনতা বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নেওয়ার কথাও ভাবছে নয়াদিল্লি। আরটিভি/এআর 
ভারতীয়দের বহিষ্কারে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও এগিয়ে সৌদি আরব
আরও পড়ুন
ইইউর ‘নিরাপদ’ দেশের তালিকায় ভারত-বাংলাদেশ