ভারতে ইতিহাস ও সমাজ সংস্কারদের ভূমিকা নিয়ে আবারও চরম বিতকৃত মন্তব্য করে আলোচলায় দেশটির এক মন্ত্রী। এবার উনিশ শতকের অন্যতম প্রভাবশালী সমাজ সংস্কারক রাজা রামমোহন রায়-কে ব্রিটিশদের দালাল আখ্যা রাজনৈতিক বিতর্কের ঝড় সৃষ্টি করেছেন মধ্য প্রদেশের উচ্চশিক্ষামন্ত্রী ইন্দার সিং পারমার। পারমারের অভিযোগ, ব্রিটিশদের দালাল হিসেবে কাজ করে রামমোহন রায় ভারতীয় সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করেছিলেন। শনিবার (১৫ নভেম্বর) আগার মালওয়া এলাকায় ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামী বিরসা মুণ্ডার জয়ন্তী অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় মন্ত্রী এই বিতর্কিত মন্তব্য করেন। খবর এনডিটিভির।
ইন্দার সিং পারমারের দাবি, রামমোহন রায়ের সময়ে বাংলায় ইংরেজি শিক্ষার মাধ্যমে ধর্মান্তরের একটি দুষ্ট চক্র চলছিল। মন্ত্রী বলেন, ব্রিটিশরা ভারতীয় বেশ কয়েকজন সংস্কারককে দাসে পরিণত করেছিল, যার মধ্যে রামমোহন রায়ও ছিলেন। তার দাবি, বিরসা মুণ্ডা সেই চক্র ভেঙে আদিবাসী পরিচয় ও সমাজকে রক্ষা করেন।
রাজ্যের উচ্চশিক্ষামন্ত্রীর এই বক্তব্যে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দল কংগ্রেসের মুখপাত্র ভূপেন্দ্র গুপ্ত মন্ত্রীর বক্তব্যের নিন্দা করে এটিকে লজ্জাজনক আখ্যা দেন।
গুপ্ত মন্ত্রীর ইতিহাস জ্ঞান নিয়ে প্রশ্ন তুলে জানতে চান, অমানবিক সতীদাহ প্রথা বিলুপ্তিও কি ব্রিটিশদের দালালি ছিল? তিনি মন্তব্য করেন, যারা ব্রিটিশদের দালাল ছিল, তারাই আজ এ ধরনের কথা বলছে।
এদিকে মন্ত্রী পারমারের বিতর্কিত মন্তব্য এটিই প্রথম নয়। এর আগে তিনি দাবি করেছিলেন, ভাস্কো দা গামা নয়, ভারত আবিষ্কার করেছিলেন চন্দন নামের এক বণিক। তখন তিনি বলেছিলেন, আমাদের ভুল ইতিহাস শেখানো হয়েছে।
তারও আগে স্কুল শিক্ষামন্ত্রী থাকাকালীন পারমার দাবি করেছিলেন, ঐতিহাসিকরা ভারতের প্রকৃত ইতিহাস পরিবর্তন করে বিদেশি অভিযাত্রীদের আবিষ্কারের নায়ক হিসেবে তুলে ধরেছেন। তার মতে, স্বাধীনতার আগে ও পরে দালালদের নিয়োগ করা হয়েছিল জাতির ঐতিহাসিক বোঝাপড়াকে প্রভাবিত করতে।
সম্প্রতি তার বিভাগ সরকারি ও বেসরকারি কলেজগুলোকে বাধ্যতামূলকভাবে ৮৮টি নির্দিষ্ট বই লাইব্রেরিতে অন্তর্ভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে, যার মধ্যে রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের ( আরএসএস) সাবেক জ্যেষ্ঠ নেতা সুরেশ সোনির লেখা তিনটি বইও রয়েছে।
আরটিভি/এআর




