ইরানের রাজধানী তেহরানের দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থিত পারান্দ শহরে এক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে।
বুধবার(১৮ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় এই ঘটনা ঘটে। ঘনবসতিপূর্ণ এবং গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত স্থাপনার নিকটবর্তী হওয়ায় এই অগ্নিকাণ্ড দ্রুত জনমনে ব্যাপক উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম আগুনের খবরটি নিশ্চিত করার পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পারান্দ শহরের আকাশে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী পাকানোর ভিডিও ও স্থিরচিত্র ছড়িয়ে পড়ে, যা অনেক দূর থেকেও স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান ছিল।
পারান্দ শহরটি তেহরানের কাছে অবস্থিত হওয়ায় এবং এর আশপাশে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ শিল্প ও সামরিক এলাকা থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে সরকারি দপ্তর থেকে দ্রুত বিবৃতি দিয়ে সাধারণ মানুষকে শান্ত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পারান্দ ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, আগুনের সূত্রপাত মূলত কোনো স্থাপনায় নয়, বরং পারান্দ নদীর তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে থাকা নলখাগড়ার বন থেকে হয়েছে। শুষ্ক আবহাওয়া ও প্রবল বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে পুরো এলাকা ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন করে ফেলে।
অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়ার পরপরই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের বেশ কয়েকটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা নদীর তীরের প্রতিকূল পরিবেশের মধ্যেও আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, কৌশলগতভাবে সংবেদনশীল এলাকাগুলোর কাছাকাছি এই আগুন লাগলেও এখন পর্যন্ত কোনো বসতবাড়ি বা গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। এছাড়া আগুনের ঘটনায় কোনো প্রাণহানি বা গুরুতর আহত হওয়ার তথ্যও এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
পারান্দ একটি পরিকল্পিত নতুন শহর হিসেবে পরিচিত, যেখানে প্রচুর কলকারখানা এবং সরকারি আবাসন প্রকল্প রয়েছে। এ কারণে আগুনের ঘটনার পরপরই নিরাপত্তা বাহিনী এলাকাটি ঘিরে ফেলে এবং তদন্ত শুরু করে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এটি কেবল প্রাকৃতিক কারণে ঘটা কোনো সাধারণ দুর্ঘটনা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড জড়িত আছে, তা খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগুনের তীব্রতা কমে আসলেও ধোঁয়ার কারণে আশপাশের এলাকায় যাতায়াতে কিছুটা বিঘ্ন ঘটছে।
আরটিভি/এআর



