ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধবিরতির সময়সীমা শেষের পথে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন তথ্য সামনে এসেছে, যা অঞ্চলটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা ও সামরিক কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, প্রবল হামলা ও পাল্টা প্রতিরোধের মধ্যেও ইরান তাদের অস্ত্রভাণ্ডারের একটি বড় অংশ অক্ষত রাখতে সক্ষম হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, দেশটি তাদের মোট অস্ত্রভাণ্ডারের প্রায় ৪০ শতাংশ এবং ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারের ৬০ শতাংশের বেশি সুরক্ষিত রাখতে পেরেছে।
কর্মকর্তারা জানান, গত ৮ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধবিরতির সময় গুহা ও ভূগর্ভস্থ বাংকারে লুকানো অবস্থায় থাকা শতাধিক লঞ্চার শনাক্ত ও উদ্ধার করা হয়েছে। এতে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে যে, ইরান ধীরে ধীরে তাদের সামরিক শক্তি পুনর্গঠনের পথে এগোচ্ছে।
এছাড়া হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন ডিপো ও স্থাপনার ধ্বংসস্তূপের নিচে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র উদ্ধারের কাজও অব্যাহত রয়েছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ইরান তাদের পূর্বের অস্ত্রভাণ্ডারের প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হতে পারে।
যদিও অস্ত্র উৎপাদনের অবকাঠামো উল্লেখযোগ্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তবুও কৌশলগত দিক থেকে ইরানের সক্ষমতা পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি বলে মনে করছেন মার্কিন কর্মকর্তারা। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যাহত করার মতো সক্ষমতা দেশটির এখনও রয়েছে।
তবে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের বিরুদ্ধে ইরান সরাসরি বড় কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। যদিও এই অবরোধের ফলে সামুদ্রিক বাণিজ্যে বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের মতে, ইরানের প্রায় ৯০ শতাংশ অর্থনৈতিক কার্যক্রম সমুদ্রপথনির্ভর, যার দৈনিক মূল্য প্রায় ৩৪০ মিলিয়ন ডলার। সাম্প্রতিক পরিস্থিতিতে এই বাণিজ্যের বড় অংশই স্থবির হয়ে পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভৌগোলিক সুবিধা ও অসম সামরিক কৌশলকে কাজে লাগিয়ে ইরান এখনও প্রতিরোধ সক্ষমতা ধরে রাখার চেষ্টা করছে।
আরটিভি/এমএইচজে



