নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন

ইরান যুদ্ধে ফুরিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক অস্ত্রভাণ্ডার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ 

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬ , ১০:৫৪ এএম


ইরান যুদ্ধে ফুরিয়ে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের অত্যাধুনিক অস্ত্রভাণ্ডার
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে চলমান সামরিক সংঘাতে মার্কিন সেনাবাহিনীর অস্ত্রভাণ্ডারে বড় ধরনের টান পড়েছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে গত ৩৮ দিনে পেন্টাগন যে পরিমাণ অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদ ব্যবহার করেছে, তা যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব মজুদের একটি বড় অংশ দখল করে নিয়েছে। এই পরিস্থিতি বিশ্বজুড়ে মার্কিন সামরিক সক্ষমতা এবং কৌশলগত নিরাপত্তার ওপর বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করেছে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মার্কিন গণমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়। 

পেন্টাগনের অভ্যন্তরীণ তথ্য এবং সংসদীয় কর্মকর্তাদের দেওয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই সংঘাতে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ১০০টি দূরপাল্লার স্টেলথ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া ১ হাজারেরও বেশি টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়েছে, যা প্রতি বছর যুক্তরাষ্ট্রের নিয়মিত ক্রয়ের তুলনায় প্রায় ১০ গুণ বেশি। ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যবহার এতই বেড়েছে যে, ১ হাজার ২০০টিরও বেশি প্যাট্রিয়ট ইন্টারসেপ্টর ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে, যার প্রতিটির মূল্য ৪০ লাখ ডলারেরও বেশি।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাবও অত্যন্ত প্রকট। যদিও হোয়াইট হাউস ব্যয়ের সঠিক হিসাব প্রকাশে অনাগ্রহী, তবে স্বাধীন গবেষণা সংস্থাগুলোর মতে, এই যুদ্ধে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১০০ কোটি ডলার ব্যয় হচ্ছে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত মোট ব্যয় ২৮০০ থেকে ৩৫০০ কোটি ডলারের কাছাকাছি। 

প্রতিরক্ষা কর্মকর্তারা আইনপ্রণেতাদের জানিয়েছেন, যুদ্ধের প্রথম দুই দিনেই প্রায় ৫৬০ কোটি ডলার মূল্যের অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। সিনেটের সশস্ত্র বাহিনী কমিটির শীর্ষ ডেমোক্রেট সিনেটর জ্যাক রিড সতর্ক করেছেন, বর্তমান উৎপাদনের গতিতে ব্যবহৃত অস্ত্র পুনরায় মজুদ করতে কয়েক বছর সময় লেগে যেতে পারে।

আরও পড়ুন

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংকটের প্রভাব কেবল মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধক্ষেত্রে সীমাবদ্ধ নেই। সিএসআইএস-এর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মার্ক ক্যান্সিয়ান জানিয়েছেন, কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্থল হামলা ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষার গোলাবারুদ যুদ্ধের আগেই অপ্রতুল ছিল, যা এখন আরও ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। বিশেষ করে জ্যাসম-ইআর ক্ষেপণাস্ত্রের বিপুল ব্যবহারের ফলে মজুদে এখন মাত্র দেড় হাজারটি বাকি রয়েছে, যা দীর্ঘমেয়াদী সংঘাতের জন্য উদ্বেগজনক।

এই পরিস্থিতির সবচেয়ে বড় কৌশলগত ঝুঁকি তৈরি হয়েছে এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে। মার্কিন নৌবাহিনীর আব্রাহাম লিংকন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপকে মধ্যপ্রাচ্যে স্থানান্তর এবং দক্ষিণ কোরিয়া থেকে থাড ইন্টারসেপ্টর সরিয়ে নেওয়ায় উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান ক্ষেপণাস্ত্র হুমকি মোকাবেলায় ঘাটতি দেখা দিয়েছে। 

যদিও পেন্টাগন এবং হোয়াইট হাউস বরাবরের মতোই নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব দাবি করে মজুদে কোনো ঘাটতি নেই বলে বিবৃতি দিয়েছে, তবে ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ডের প্রধান অ্যাডমিরাল স্যামুয়েল পাপারো স্বীকার করেছেন, যেকোনো অস্ত্রভাণ্ডারেরই একটি সীমা থাকে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান যুদ্ধে অতিমাত্রায় অস্ত্র ব্যবহারের ফলে যুক্তরাষ্ট্র এখন সেই সীমার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে, যা ভবিষ্যতে বৈশ্বিক নিরাপত্তার ভারসাম্য নষ্ট করতে পারে।

আরটিভি/এআর 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission