যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি শিক্ষার্থী হত্যা

সন্দেহভাজনকে নিয়ে সামনে এলো শিউরে ওঠার মতো তথ্য 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ 

শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ , ০১:০৪ পিএম


সন্দেহভাজনকে নিয়ে সামনে এলো শিউরে ওঠার মতো তথ্য 
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমন হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার  তার  রুমমেট হিশাম আবুগারবিয়েহ সম্পর্কে বেরিয়ে আসছে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য। দীর্ঘদিন ধরেই সহিংস আচরণের সাথে জড়িয়ে থাকা ২৬ বছর বয়সী এই তরুণের অতীত ইতিহাস এখন স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্তের প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। 

ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় অধ্যয়নরত মেধাবী শিক্ষার্থী লিমনের মর্মান্তিক মৃত্যুতে পুরো কমিউনিটি যখন শোকে মুহ্যমান, তখন সন্দেহভাজন হিশামের এমন অন্ধকার অতীত নতুন করে উদ্বেগ ও আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে।

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজউইকের প্রতিবেদনে জানায়, হিশাম আবুগারবিয়েহ যুক্তরাষ্ট্রের একজন নাগরিক। তিনি ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার প্রাক্তন শিক্ষার্থী ছিলেন। ২০২১ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত তিনি ম্যানেজমেন্ট বিষয়ে পড়াশোনা করলেও হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন না। আদালত ও স্থানীয় শেরিফ অফিসের রেকর্ড বিশ্লেষণ করে তার বিরুদ্ধে একাধিক সহিংসতার অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আরও পড়ুন

এদিকে হিলসবোরো কাউন্টি আদালতের নথি অনুযায়ী, ২০২৩ সালের মে ও সেপ্টেম্বর মাসে হিশামের বিরুদ্ধে শারীরিক আঘাত করার অভিযোগ আনা হয়েছিল। সেই সাথে একটি জনশূন্য বাড়িতে চুরির অভিযোগও ছিল তার নামে। যদিও তখন সেগুলোকে কিছুটা লঘু অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছিল, কিন্তু তার পরিবারের সদস্যরা তার আচরণ নিয়ে আগে থেকেই শঙ্কিত ছিলেন। পরিবারের এক সদস্য হিশামের এমন সহিংস আচরণের কারণে তার বিরুদ্ধে দুটি পারিবারিক সুরক্ষা নিষেধাজ্ঞা বা ডোমেস্টিক ভায়োলেন্স ইনজাংশনের আবেদন করেছিলেন। আদালত তার মধ্যে একটি আবেদন মঞ্জুরও করেছিল। এছাড়া তার বিরুদ্ধে ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনের মতো অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে।

জামিল লিমনের মরদেহ উদ্ধারের দিনটি ছিল স্থানীয় পুলিশের জন্য অত্যন্ত নাটকীয় ও উত্তেজনার। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) লিমনের দেহের অবশিষ্টাংশ ট্যাম্পার হাওয়ার্ড ফ্র্যাঙ্কল্যান্ড সেতু থেকে উদ্ধারের কয়েক ঘণ্টা পরেই পুলিশ হিশামের পরিবারের বাড়ি থেকে পারিবারিক সহিংসতার একটি ফোন পায়। পুলিশ দ্রুত সেখানে উপস্থিত হলে হিশাম ঘরের ভেতর নিজেকে অবরুদ্ধ করে ফেলেন এবং পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণে অস্বীকৃতি জানান। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট সোয়াট টিমকে তলব করতে হয়। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই উত্তেজনার পর অবশেষে সোয়াট টিমের চাপে হিশাম আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন।

হিলসবোরো কাউন্টির চিফ ডেপুটি জোসেফ মাউরার জানিয়েছেন, লিমনের মৃত্যুর ঘটনায় হিশামকে একাধিক অভিযোগে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মৃত্যুর সংবাদ না দেওয়া, অবৈধভাবে মৃতদেহ সরানো, আলামত নষ্ট করা, নিজেকে মিথ্যা ও অন্যায়ভাবে আটকে রাখা এবং পারিবারিক সহিংসতা ও শারীরিক আঘাত করা। জামিল লিমনের মৃত্যুর সঠিক কারণ নির্ণয়ের জন্য ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।

এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় একই বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা এস বৃষ্টির নিখোঁজ থাকার বিষয়টি এখনো এক বড় রহস্য হয়ে আছে। যদিও তার ভাইয়ের দাবি বৃষ্টিও হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। 

শনিবার (২৫ এপ্রিল) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেয়া এক পোস্টে তিনি এ তথ্য জানান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাহিদ হাসান প্রান্ত বলেন, ‘পুলিশ আমাকে ফোন করে মৃত্যুর খবর জানায়। তারা জানান, বাসার ভেতরে রক্তের মধ্যে পাওয়া মৃতদেহের একটি অংশের সঙ্গে ডিএনএ মিল পাওয়া গেছে। তবে পূর্ণাঙ্গ মরদেহ পাওয়া যাবে কি না, তা নিশ্চিত নয়।’

উল্লেখ্য, বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জামিল ও নাহিদাকে সর্বশেষ ১৬ এপ্রিল দেখা গিয়েছিল। ওইদিন সকালে জামিলকে সর্বশেষ দেখা যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছাকাছি তার ছাত্রাবাসে, সময়টি ছিল সকাল ৯টার দিকে। অন্যদিকে, নাহিদাকে সর্বশেষ দেখা যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাচারাল অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্সেস ভবনে, সেদিন সকাল ১০টার দিকে। এরপর থেকেই তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করতে পারছিলেন না তাদের সহপাঠী বা পরিচিতরা।

 আরটিভি/এআর 

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission