ফোনালাপে নেতানিয়াহুকে 'উন্মাদ' বলেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ 

মঙ্গলবার, ০২ জুন ২০২৬ , ১১:৪৮ এএম


ফোনালাপে নেতানিয়াহুকে 'উন্মাদ' বলেন ট্রাম্প
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-ছবি: সংগৃহীত

লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসন বৃদ্ধির জেরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাদের ওই কথোপকথনে অশালীন শব্দও ব্যবহৃত হয়েছে। 

দুইজন মার্কিন কর্মকর্তা এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তৃতীয় একটি সূত্র অ্যাক্সিওসকে এ তথ্য জানিয়েছে।

সোমবার (১ জুন) এ ফোনালাপের আগেই লেবাননে ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলার প্রতিবাদে আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছিল ইরান। 

দুটি সূত্র জানায়, এদিনের ফোনালাপে নেতানিয়াহুকে 'উন্মাদ' বলেন ট্রাম্প। তার বিরুদ্ধে অকৃতজ্ঞতার অভিযোগও তোলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেইসঙ্গে বৈরুতে হামলা চালানোর ইসরায়েলি পরিকল্পনায় আপাতত রাশ টেনেছেন তিনি।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে বলেন, লেবাননের রাজধানীতে বোমাবর্ষণের হুমকি বাস্তবায়ন করলে আন্তর্জাতিক মহলে ইসরায়েল আরও বেশি একঘরে হয়ে পড়বে।

দুটি সূত্র জানায়, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে মনে করিয়ে দেন যে তার সাহায্যেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এখনও জেলের বাইরে আছেন। নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলার সময় তাকে সমর্থন দেওয়ার দিকে ইঙ্গিত করেছেন ট্রাম্প।

নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের বক্তব্যের সারসংক্ষেপ তুলে ধরে ওই মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্প বলেছেন, তুমি বদ্ধ উন্মাদ (ইউ আর ফাকিং ক্রেজি)। আমি না থাকলে তোমাকে জেলে পচতে হতো। আমিই তোমাকে বাঁচাচ্ছি। এখন সবাই তোমাকে ঘৃণা করে। এসবের জন্য সবাই এখন ইসরায়েলকেও ঘৃণা করে।

আরও পড়ুন

এ আলোচনা সম্পর্কে অবগত দ্বিতীয় এক সূত্র জানায়, ট্রাম্প রীতিমতো 'ত্যক্তবিরক্ত' ছিলেন। একপর্যায়ে তিনি নেতানিয়াহুর ওপর চিৎকার করে ওঠেন, 'তুমি করছটা কী?'

ওই মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্পের মনে হয়েছে, নেতানিয়াহু মাত্রাতিরিক্ত ও অহেতুক আগ্রাসন দেখাচ্ছেন।

বৈরুতে হামলার হুমকির পাশাপাশি দক্ষিণ লেবাননে স্থল-অভিযানও ক্রমশ সম্প্রসারিত করছে ইসরায়েল। 

যুক্তরাষ্ট্রের আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, লেবাননে বিপুলসংখ্যক সাধারণ নাগরিকের মৃত্যুতে উদ্বিগ্ন ট্রাম্প। হিজবুল্লাহর একজন কমান্ডারকে হত্যা সম্পূর্ণ এক বহুতল ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার ইসরায়েলি কৌশলেরও বিরোধিতা করেছেন তিনি।

ইজরায়েলের একজন কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন, বৈরুতে হিজবুল্লাহর ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত করেছে ইসরায়েল।

অতীতেও ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে বেশ কয়েকবার উত্তপ্ত ফোনালাপ হয়েছে। তবে ইরানসহ একাধিক আন্তর্জাতিক ইস্যুতে তারা পরস্পরের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রেখেই কাজ করেছেন। 

একজন মার্কিন কর্মকর্ত বলেন, ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর নেতানিয়াহুর সঙ্গে এটি ছিল তার অন্যতম তিক্ত ফোনালাপ।
ট্রাম্পের এই তীব্র ক্ষোভের অন্যতম কারণ, লেবাননে আগ্রাসন বাড়ানোর বিষয়ে নেতানিয়াহুর একতরফা সিদ্ধান্ত। এর ফলে ইরানের সঙ্গে আমেরিকার চলমান আলোচনা সম্পূর্ণ ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল।

ফোনালাপের পরেই ট্রাম্প তার সমাজমাধ্যম ট্রুথ সোশালে এক পোস্টে লেখেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা অত্যন্ত দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে।

এই ফোনালাপের পর নেতানিয়াহু এক বিবৃতি জারি করে দাবি করেছেন, তিনি ট্রাম্পকে বলেছেন, হিজবুল্লাহ যদি ইসরায়েলে হামলা বন্ধ না করে, তবে বৈরুতে তাদের ঘাঁটিতে আক্রমণ করবে ইসরায়েল। সেইসঙ্গে দক্ষিণ লেবাননে তাদের সামরিক অভিযানও অব্যাহত থাকবে।

নেতানিয়াহু লিখেছেন, আমাদের অবস্থানে কোনও বদল হয়নি।

তবে দ্বিতীয় মার্কিন কর্মকর্তার দাবি, বাস্তবে ওই ফোনালাপে ট্রাম্পের প্রবল চাপের মুখে পুরোপুরি নতিস্বীকার করতে বাধ্য হন নেতানিয়াহু। ওই কর্মকর্তা বলেন, বিবি [নেতানিয়াহুর ডাকনাম] শুধু বলেছেন—ঠিক আছে, ঠিক আছে, শুধু একটু খেয়াল রাখবেন যেন সবদিক ঠিকঠাক সামলে নেওয়া হয়।

সূত্রমতে, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যে সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা চলছে, তার অন্যতম প্রধান শর্তই হলো লেবাননে যুদ্ধবিরতি। এর আগেও এই বিষয়টি নিয়েই ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ হয়েছিল।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission