ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩

ফোনালাপে নেতানিয়াহুকে \'উন্মাদ\' বলেন ট্রাম্প

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০২ জুন ২০২৬, ১১:৪৮ এএম
ডোনাল্ড ট্রাম্প ও বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-ছবি: সংগৃহীত

লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসন বৃদ্ধির জেরে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওপর ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাদের ওই কথোপকথনে অশালীন শব্দও ব্যবহৃত হয়েছে।

দুইজন মার্কিন কর্মকর্তা এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত তৃতীয় একটি সূত্র অ্যাক্সিওসকে এ তথ্য জানিয়েছে।

সোমবার (১ জুন) এ ফোনালাপের আগেই লেবাননে ইসরায়েলের ধারাবাহিক হামলার প্রতিবাদে আমেরিকার সঙ্গে আলোচনা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার হুমকি দিয়েছিল ইরান।

দুটি সূত্র জানায়, এদিনের ফোনালাপে নেতানিয়াহুকে 'উন্মাদ' বলেন ট্রাম্প। তার বিরুদ্ধে অকৃতজ্ঞতার অভিযোগও তোলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেইসঙ্গে বৈরুতে হামলা চালানোর ইসরায়েলি পরিকল্পনায় আপাতত রাশ টেনেছেন তিনি।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে বলেন, লেবাননের রাজধানীতে বোমাবর্ষণের হুমকি বাস্তবায়ন করলে আন্তর্জাতিক মহলে ইসরায়েল আরও বেশি একঘরে হয়ে পড়বে।

দুটি সূত্র জানায়, ট্রাম্প নেতানিয়াহুকে মনে করিয়ে দেন যে তার সাহায্যেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী এখনও জেলের বাইরে আছেন। নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে দুর্নীতি মামলার সময় তাকে সমর্থন দেওয়ার দিকে ইঙ্গিত করেছেন ট্রাম্প।

নেতানিয়াহুর প্রতি ট্রাম্পের বক্তব্যের সারসংক্ষেপ তুলে ধরে ওই মার্কিন কর্মকর্তা জানান, ট্রাম্প বলেছেন, তুমি বদ্ধ উন্মাদ (ইউ আর ফাকিং ক্রেজি)। আমি না থাকলে তোমাকে জেলে পচতে হতো। আমিই তোমাকে বাঁচাচ্ছি। এখন সবাই তোমাকে ঘৃণা করে। এসবের জন্য সবাই এখন ইসরায়েলকেও ঘৃণা করে।

আরও পড়ুন

এ আলোচনা সম্পর্কে অবগত দ্বিতীয় এক সূত্র জানায়, ট্রাম্প রীতিমতো 'ত্যক্তবিরক্ত' ছিলেন। একপর্যায়ে তিনি নেতানিয়াহুর ওপর চিৎকার করে ওঠেন, 'তুমি করছটা কী?'

ওই মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্পের মনে হয়েছে, নেতানিয়াহু মাত্রাতিরিক্ত ও অহেতুক আগ্রাসন দেখাচ্ছেন।

বৈরুতে হামলার হুমকির পাশাপাশি দক্ষিণ লেবাননে স্থল-অভিযানও ক্রমশ সম্প্রসারিত করছে ইসরায়েল।

যুক্তরাষ্ট্রের আরেকজন কর্মকর্তা বলেন, লেবাননে বিপুলসংখ্যক সাধারণ নাগরিকের মৃত্যুতে উদ্বিগ্ন ট্রাম্প। হিজবুল্লাহর একজন কমান্ডারকে হত্যা সম্পূর্ণ এক বহুতল ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার ইসরায়েলি কৌশলেরও বিরোধিতা করেছেন তিনি।

ইজরায়েলের একজন কর্মকর্তা অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন, বৈরুতে হিজবুল্লাহর ঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালানোর পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত করেছে ইসরায়েল।

অতীতেও ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে বেশ কয়েকবার উত্তপ্ত ফোনালাপ হয়েছে। তবে ইরানসহ একাধিক আন্তর্জাতিক ইস্যুতে তারা পরস্পরের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ রেখেই কাজ করেছেন।

একজন মার্কিন কর্মকর্ত বলেন, ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পর নেতানিয়াহুর সঙ্গে এটি ছিল তার অন্যতম তিক্ত ফোনালাপ।
ট্রাম্পের এই তীব্র ক্ষোভের অন্যতম কারণ, লেবাননে আগ্রাসন বাড়ানোর বিষয়ে নেতানিয়াহুর একতরফা সিদ্ধান্ত। এর ফলে ইরানের সঙ্গে আমেরিকার চলমান আলোচনা সম্পূর্ণ ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল।

ফোনালাপের পরেই ট্রাম্প তার সমাজমাধ্যম ট্রুথ সোশালে এক পোস্টে লেখেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনা অত্যন্ত দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলেছে।

এই ফোনালাপের পর নেতানিয়াহু এক বিবৃতি জারি করে দাবি করেছেন, তিনি ট্রাম্পকে বলেছেন, হিজবুল্লাহ যদি ইসরায়েলে হামলা বন্ধ না করে, তবে বৈরুতে তাদের ঘাঁটিতে আক্রমণ করবে ইসরায়েল। সেইসঙ্গে দক্ষিণ লেবাননে তাদের সামরিক অভিযানও অব্যাহত থাকবে।

নেতানিয়াহু লিখেছেন, আমাদের অবস্থানে কোনও বদল হয়নি।

তবে দ্বিতীয় মার্কিন কর্মকর্তার দাবি, বাস্তবে ওই ফোনালাপে ট্রাম্পের প্রবল চাপের মুখে পুরোপুরি নতিস্বীকার করতে বাধ্য হন নেতানিয়াহু। ওই কর্মকর্তা বলেন, বিবি [নেতানিয়াহুর ডাকনাম] শুধু বলেছেন—ঠিক আছে, ঠিক আছে, শুধু একটু খেয়াল রাখবেন যেন সবদিক ঠিকঠাক সামলে নেওয়া হয়।

সূত্রমতে, আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে যে সমঝোতা স্মারক নিয়ে আলোচনা চলছে, তার অন্যতম প্রধান শর্তই হলো লেবাননে যুদ্ধবিরতি। এর আগেও এই বিষয়টি নিয়েই ট্রাম্প ও নেতানিয়াহুর মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ হয়েছিল।

আরটিভি/এমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ট্রাম্প-মোদি ফোনালাপ, যা কথা হলো
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফোনে দুই দেশের বাণিজ্য, প্রতিরক্ষা ও জ্বালানি সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা করেছেন। আনাদোলু এজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। 
ট্রাম্প-মোদি ফোনালাপ, যা কথা হলো
২৩৪ বছরের পথ পেরিয়ে এবার বিদায়ের পথে আমেরিকার পকেটের চেনা প্রিয় পেনি
একসময় আমেরিকার প্রায় প্রতিটি পকেট, কয়েনের জার কিংবা শিশুর পিগি ব্যাংকে দেখা যেত ছোট্ট এক সেন্টের মুদ্রা—পেনি। দোকানের কাউন্টারে খুচরা ফেরত, ছোটখাটো কেনাকাটা কিংবা সঞ্চয়ের প্রথম ধাপ—দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে মিশে ছিল এই ছোট্ট মুদ্রাটি। কিন্তু ২৩৪ বছরের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে এবার সেই পরিচিত পেনি বিদায়ের পথে। মার্কিন সিনেটে পেনি তৈরির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির বিল পাস হয়েছে। ‘কমন সেন্টস অ্যাক্ট’ নামে পরিচিত এই বিল এখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বাক্ষরের জন্য যাচ্ছে। বিলটি আইনে পরিণত হলে প্রচলনের জন্য নতুন পেনি তৈরির বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। তবে পেনির গল্প আজকের নয়।  ১৭৯২ সালের ‘কয়েনেজ অ্যাক্ট’-এর মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে এক সেন্টের মুদ্রা তৈরির অনুমোদন দেওয়া হয়। এর পর ১৭৯৩ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টাকশাল প্রথম পেনি তৈরি করে। সেই সময়ের পেনি ছিল বর্তমান মুদ্রার তুলনায় বড় এবং মূলত তামা দিয়ে তৈরি। এরপর আমেরিকার ইতিহাসের নানা অধ্যায়ের নীরব সাক্ষী হয়ে থেকেছে পেনি।  ১৯০৯ সালে মুদ্রাটিতে প্রেসিডেন্ট আব্রাহাম লিংকনের ছবি যুক্ত করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় তামার চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ১৯৪৩ সালে পেনির একটি সংস্করণ তামার পরিবর্তে ইস্পাত দিয়ে তৈরি করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে এর ধাতব উপাদানও পরিবর্তিত হয়েছে। দীর্ঘ এই যাত্রার পর ২০২৫ সালের ১২ নভেম্বর ফিলাডেলফিয়া টাকশালে প্রচলনের জন্য শেষ পেনিটি তৈরি করা হয়। এর মধ্য দিয়ে প্রচলিত পেনির নিয়মিত উৎপাদনের দীর্ঘ ইতিহাসের অবসান ঘটে। তবে মানুষের হাতে থাকা পেনিগুলো এখনো বৈধ মুদ্রা হিসেবে থাকবে এবং সেগুলো দিয়ে লেনদেন করা যাবে। পেনি তৈরির খরচই মূলত এর বিদায়ের অন্যতম বড় কারণ। মার্কিন টাকশালের হিসাবে, ২০২৪ সালে একটি পেনি তৈরি করতে প্রায় ৩ দশমিক ৬৯ সেন্ট খরচ হয়েছে। অথচ মুদ্রাটির মূল্য মাত্র ১ সেন্ট। একই বছরে প্রায় ৩২০ কোটি পেনি তৈরি করা হয়েছিল। এর পাশাপাশি সময়ের সঙ্গে নগদ অর্থের ব্যবহারও কমেছে।  কার্ড, মোবাইল পেমেন্ট ও অন্যান্য ডিজিটাল লেনদেন জনপ্রিয় হওয়ায় এক সেন্টের মতো ছোট মূল্যমানের মুদ্রার ব্যবহার আগের তুলনায় অনেক কমেছে। পেনি সরবরাহ ধীরে ধীরে কমে গেলে নগদ লেনদেনে নতুন নিয়ম চালু হতে পারে।  ‘কমন সেন্টস অ্যাক্ট’-এ মোট বিলের অঙ্ক কাছের পাঁচ সেন্টে সমন্বয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কোনো মোট বিলের শেষ অঙ্ক ১, ২, ৬ বা ৭ হলে তা নিচের পাঁচ সেন্টে নামিয়ে নেওয়া হবে।  আর শেষ অঙ্ক ৩, ৪, ৮ বা ৯ হলে তা ওপরের পাঁচ সেন্টে নেওয়া হবে। এই নিয়ম শুধু নগদ লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে। কার্ড বা ডিজিটাল পেমেন্টের ক্ষেত্রে আগের মতোই নির্দিষ্ট সেন্ট পর্যন্ত সঠিক মূল্য পরিশোধ করা যাবে। অর্থাৎ, আমেরিকার পকেট থেকে পেনি হয়তো ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে। কিন্তু দোকানের কাউন্টারে খুচরা হিসেবে পাওয়া সেই ছোট্ট কয়েন, শিশুর পিগি ব্যাংকে জমিয়ে রাখা প্রথম সঞ্চয় কিংবা পুরোনো কয়েনের জারে পড়ে থাকা এক সেন্ট—এসব স্মৃতির সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ২৩৪ বছরের ইতিহাস সহজে মুছে যাওয়ার নয়। আরটিভি/এসআর
২৩৪ বছরের পথ পেরিয়ে এবার বিদায়ের পথে আমেরিকার পকেটের চেনা প্রিয় পেনি
এআইয়ের ঝুঁকি কমাতে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রযুক্তি নির্বাহীদের চুক্তি 
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) দ্রুত বিকাশ মানবজাতির জন্য চরম ঝুঁকি তৈরি করতে পারে—এমন বৈশ্বিক উদ্বেগের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এক স্বেচ্ছামূলক চুক্তিতে সই করেছেন প্রযুক্তি খাতের ছয় শীর্ষ নির্বাহী।
এআইয়ের ঝুঁকি কমাতে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রযুক্তি নির্বাহীদের চুক্তি 
সব ঘাঁটি গুটিয়ে ইরাক ছাড়ল মার্কিন বাহিনী
ইরাকে থাকা সব সামরিক ঘাঁটি গুটিয়ে নিয়ে দীর্ঘ দুই দশকের উপস্থিতি শেষে চূড়ান্তভাবে সেনা প্রত্যাহার সম্পন্ন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
সব ঘাঁটি গুটিয়ে ইরাক ছাড়ল মার্কিন বাহিনী
অষ্টম তলা থেকে পড়ে বেঁচে গেলেন জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রী
যুক্তরাষ্ট্রের জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে অষ্টম তলার জানালা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হয়েও বেঁচে গেছেন ২১ বছর বয়সী এক বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রী।
অষ্টম তলা থেকে পড়ে বেঁচে গেলেন জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ছাত্রী
আরও পড়ুন
ট্রাম্প-মোদি ফোনালাপ, যা কথা হলো
এআইয়ের ঝুঁকি কমাতে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রযুক্তি নির্বাহীদের চুক্তি 
বাংলাদেশের ওষুধে ১০০ শতাংশ শুল্ক ছাড়ের ঘোষণা ট্রাম্পের
ট্রাম্পের ঘোষণা, যুক্তরাষ্ট্রে হচ্ছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ইস্পাত কারখানা