যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগ নিয়ে দেশটিজুড়ে জল্পনা তীব্র হচ্ছে। দেশটির গণমাধ্যম দ্য অবজারভার জানিয়েছে, আগামী সোমবার (২২ জুন) সপ্তাহের শুরুতেই তিনি পদত্যাগ করতে পারেন এবং দায়িত্ব থেকে বিদায়ের একটি সুনির্দিষ্ট সময়সূচি নির্ধারণ করতে পারেন। তবে সরকারের একটি অভ্যন্তরীণ সূত্র দাবি করেছে, প্রধানমন্ত্রী স্টারমার এখনো পুরোপুরি নিজের দায়িত্বে মনোযোগী রয়েছেন। খবর রয়টার্সের।
কয়েক মাস ধরেই তার নেতৃত্ব নিয়ে লেবার পার্টির ভেতরে যে সংকট তৈরি হয়েছে, তা শুক্রবার(১৯ জুন) নতুন মাত্রা পায়। স্টারমারের প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ডি বার্নহাম একটি উপনির্বাচনে জয় পেয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় নেতৃত্বকে চ্যালেঞ্জ করার সুযোগ তৈরি করেছেন। এতে লেবার পার্টির ভেতরের তীব্র চাপ ও বিভেদ আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।
দ্য অবজারভার জানিয়েছে, চ্যাকার্সে নিজের সরকারি বাসভবনে স্ত্রীকে নিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি ও করণীয় নিয়ে আলোচনা করছেন স্টারমার। লেবার পার্টির শীর্ষ পর্যায়ের ধারণা, খুব শিগগিরই তার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রকাশ পেতে পারে।
অন্যদিকে সরকারি সূত্রগুলো স্টারমারের সাম্প্রতিক বক্তব্যের দিকেই ইঙ্গিত করছে। গত শুক্রবার তিনি বলেন, তার নেতৃত্বের বিরুদ্ধে যেকোনো ধরনের চ্যালেঞ্জ তিনি শক্ত হাতে মোকাবিলা করবেন। একই সঙ্গে তিনি দলকে কোনো ধরনের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে না জড়ানোর জন্য সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান।
২০২৪ সালের সাধারণ নির্বাচনে দলকে বড় জয় এনে দিলেও সময়ের ব্যবধানে কিয়ার স্টারমারের জনপ্রিয়তা দ্রুত কমেছে। একাধিক রাজনৈতিক কেলেঙ্কারি এবং গুরুত্বপূর্ণ নীতি পরিবর্তনের কারণে সাধারণ ভোটারদের আস্থা হারিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের যে প্রতিশ্রুতি তিনি দিয়েছিলেন, তা বাস্তবায়ন না হওয়ায় জনগণের মধ্যে অসন্তোষ ক্রমাগত বাড়ছে।
আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, লেবার পার্টির ১০০ জনের বেশি এমপি ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে তার পদত্যাগ অথবা বিদায়ের সময়সূচি ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন, যা দলটির ভেতরের নজিরবিহীন চাপের বড় প্রতিফলন।
দ্য অবজারভার আরও জানিয়েছে, ক্যাবিনেট মন্ত্রী, উপদেষ্টা, দাতা ও ট্রেড ইউনিয়ন নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে স্টারমার নিজেও বুঝতে পেরেছেন যে তার অবস্থান ধরে রাখা এখন বেশ কঠিন হয়ে পড়েছে। যদিও এই দাবির পক্ষে সুনির্দিষ্ট কোনো সূত্রের নাম উল্লেখ করা হয়নি।
নেতৃত্বের অপেক্ষায় বার্নহাম
৫৬ বছর বয়সী অ্যান্ডি বার্নহামকে লেবার পার্টির অনেকেই কিয়ার স্টারমারের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে দেখছেন। গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে নিজের অবস্থান শক্ত করার পর তিনি সাম্প্রতিক উপনির্বাচনে বড় ব্যবধানে জয় পেয়েছেন। বার্নহাম এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে স্টারমারকে চ্যালেঞ্জ জানাননি। তবে তার সাম্প্রতিক বক্তব্যে নতুন পথের পরিষ্কার ইঙ্গিত রয়েছে। তার ঘনিষ্ঠরা স্টারমারকে স্বেচ্ছায় দায়িত্ব ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছেন। এর পাশাপাশি সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিংয়ের নামও সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জার হিসেবে রাজনৈতিক মহলে ঘুরছে।
এদিকে ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য টাইমস জানিয়েছে, বার্নহাম প্রধানমন্ত্রী হলে বর্তমান অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভসকে তার পদ থেকে সরিয়ে দিতে পারেন। যদিও রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে এই তথ্যের সত্যতা যাচাই করতে পারেনি। স্টারমার শেষ পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সরে দাঁড়ালে, গত এক দশকে যুক্তরাজ্য তাদের সপ্তম প্রধানমন্ত্রী পেতে যাচ্ছে, যা দেশটির সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতারই বড় ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আরটিভি/এআর




