ইরান যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ ও হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি চালুর লক্ষ্যে কাতারের রাজধানী দোহায় মার্কিন ও ইরানি প্রতিনিধিদের পরোক্ষ কারিগরি আলোচনা হয়েছে। কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তিন দেশের ঊর্ধ্বতন আলোচকদের উপস্থিতিতে হয় এই বৈঠক।
যেখানে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে লেবাননে ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত থাকা এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের হুমকিমূলক বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে তেহরান। তবে চুক্তি লঙ্ঘনের ঘটনা তদারকিতে একটি ‘দ্রুত যোগাযোগ মাধ্যম’ চালুর বিষয়ে একমত হয়েছে দুই পক্ষ।
একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে মার্কিন সেনা মোতায়েন, সামরিক সরঞ্জাম বাড়ানো এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক কিছু হুমকিমূলক ও হস্তক্ষেপমূলক বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করে এর তীব্র প্রতিবাদ জানায় ইরানি প্রতিনিধি দল।
ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার কারণে সেসব ক্ষতিগ্রস্ত কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়া হবে না বলে আবারও স্পষ্ট করেছে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার।
ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদী সতর্ক করে বলেছেন, সমঝোতা স্মারকের একটি শর্ত লঙ্ঘন হলে পুরো চুক্তিই ভেস্তে যেতে পারে।
তিনি জানান এই সমঝোতা স্মারকের যেকোনো ধরনের লঙ্ঘন ও ত্রুটি আনুষ্ঠানিকভাবে নথিবদ্ধ করতে এবং তা দ্রুত তদারকিতে শিগগিরই একটি বিশেষ যোগাযোগ মাধ্যম চালু করা হবে।

এছাড়া ইরানের জব্দকৃত অর্থের একটি অংশ তেহরানের প্রয়োজনীয় পণ্য কেনার কাজে ব্যবহারের বিষয়েও বৈঠকে অগ্রগতি হয়েছে।
এদিকে বৈঠকের বিষয়ে প্রতিক্রিয়ায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া বেশ ভালোভাবেই এগোচ্ছে এবং দোহার আলোচনা অত্যন্ত ফলপ্রসূ হয়েছে।
তবে আলোচনার গতি নিয়ে ট্রাম্প আশাবাদী হলেও সতর্কবার্তা দিয়েছেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
তিনি বলেন, আলোচনা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে এবং তারা মূলত হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখার ওপর জোর দিচ্ছেন।
ভ্যান্স জানান, ইরান যদি পুনরায় পরমাণু কর্মসূচি চালু করে কিংবা আন্তর্জাতিক পরিদর্শকদের বাধা দেয়, তবে ওয়াশিংটনের হাতে সব ধরনের ‘বিকল্প পথ’ খোলা রয়েছে।
আরটিভি/এসআর



