রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ইউক্রেনের ব্যাপক ড্রোন হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত এবং ৮০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এই হামলায় মস্কোর কাছাকাছি একটি তেল ডিপো এবং রাশিয়ার সবচেয়ে বড় অনলাইন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ডবেরিজের দুটি বিশাল গুদাম মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শনিবার (১৮ জুলাই) রুশ কর্মকর্তাদের বরাতে বার্তা সংস্থা এপি এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
রুশ কর্মকর্তারা জানান, শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাত থেকে শনিবার পর্যন্ত ইউক্রেন এই দূরপাল্লার ড্রোন হামলা চালায়। এতে তামবভ অঞ্চলের কতোভস্ক এবং মস্কোর পূর্বে ইলেকট্রোস্তাল শহরে অবস্থিত ওয়াইল্ডবেরিজের দুটি গুদামে বিশাল অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। কতোভস্কের গুদামটিতে রাতের শিফটে কর্মরত সাতজন শ্রমিক নিহত হন এবং আরও ২৫ জন আহত হন। হামলার পর কতোভস্কের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও ইলেকট্রোস্তালের গুদামে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ছড়িয়ে পড়ে।
মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিওভ জানান, ইলেকট্রোস্তালের উত্তরে নোগিনস্ক শহরের একটি তেল ডিপোতেও ইউক্রেনীয় ড্রোন আঘাত হেনেছে। সেখানে দাউ দাউ করে আগুন জ্বলে উঠলে নিরাপত্তার স্বার্থে কাছের একটি মাতৃসদন হাসপাতাল এবং আবাসিক ভবন থেকে বাসিন্দাদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হয়। এ ছাড়া ড্রোনের উড়ন্ত ধ্বংসাবশেষ একটি কিন্ডারগার্টেন ভবনে আছড়ে পড়ে আগুন লাগলেও পরে তা নিয়ন্ত্রণে আনেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা।
গভর্নর আরও জানান, শুধু মস্কো অঞ্চলেই মোট ৬১ জন আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৪০ জনকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহতদের আরও একজন পরে মারা যান। অন্যদিকে শনিবার বিকেলে বেলগোরোদ অঞ্চলেও পৃথক এক ড্রোন হামলায় আরও একজন নিহত ও একজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোতিমির জেলেনস্কি এই হামলার সত্যতা স্বীকার করে দাবি করেছেন, মস্কো ও তামবভ অঞ্চলের দুটি গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক ও সরবরাহ ব্যবস্থা এবং একটি বড় তেল স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
তার ভাষ্য, এই স্থাপনাগুলো রাশিয়ার সামরিক ড্রোন ও নেভিগেশন সরঞ্জাম তৈরির জন্য আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত যন্ত্রাংশ সরবরাহের কাজে ব্যবহৃত হতো। এ ছাড়া ইউক্রেনের সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, নোগিনস্কের জ্বালানি ডিপো ছাড়াও কৃষ্ণসাগর ও আজভ সাগরে চলাচলকারী কয়েকটি রুশ তেলবাহী জাহাজ এবং রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণাধীন লুহানস্ক অঞ্চলের একটি রেলসেতুতেও একযোগে হামলা চালানো হয়েছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় অবশ্য দাবি করেছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শুক্রবার রাত থেকে শনিবার সকাল পর্যন্ত ১৯টি অঞ্চলসহ ক্রিমিয়া, আজভ সাগর ও কৃষ্ণসাগরের আকাশে মোট ৩৭৯টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে। ইউক্রেন যুদ্ধের পঞ্চম বছরে এসে কিয়েভ প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাশিয়ার ভেতরের জ্বালানি অবকাঠামো এবং সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থাকে লক্ষ্য করে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা এখন ব্যাপক জোরদার করা হয়েছে।
ইউক্রেনের দাবি, এই ধরনের ধারাবাহিক হামলার মূল উদ্দেশ্য হলো রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার সামরিক সক্ষমতা ভেতর থেকে দুর্বল করা এবং যুদ্ধের ভয়াবহ প্রভাব সরাসরি রুশ নাগরিকদের ভেতরেও অনুভব করানো।
আরটিভি/এআর




