ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

যুদ্ধের মধ্যেই ভূমিকম্পে কাঁপছে ইরান, এক সপ্তাহে ৮৩ বার কম্পন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৯ জুলাই ২০২৬, ০১:৫৯ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

চলমান তীব্র সামরিক উত্তেজনার মধ্যেই গত এক সপ্তাহে অন্তত ৮৩টি ছোট-বড় ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে ইরান। দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে এসব ভূকম্পন রেকর্ড করা হয়েছে। তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূ-পদার্থবিদ্যা ইনস্টিটিউটের ভূকম্পন পর্যবেক্ষণ নেটওয়ার্কের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, অধিকাংশ ভূমিকম্পের তীব্রতা কম হলেও এই সময়ের মধ্যে ৪ থেকে ৫ মাত্রার দুটি মাঝারি ধরনের ভূমিকম্পও আঘাত হেনেছে।

রোববার (১৯ জুলাই) ইরানের প্রভাবশালী গণমাধ্যম তেহরান টাইমসের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

ইরানিয়ান সিসমোলজিক্যাল সেন্টারের (আইআরএসসি) পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ৩ থেকে ১০ জুলাইয়ের মধ্যে দেশের বিভিন্ন এলাকায় এই ভূমিকম্পগুলো হয়। এর মধ্যে ৭১টি ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৩–এর নিচে, ১০টির মাত্রা ছিল ৩ থেকে ৪–এর মধ্যে এবং দুটি ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪ থেকে ৫–এর মধ্যে।

এ সপ্তাহের সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পটি ছিল ৪ দশমিক ১ মাত্রার, যা গত ১০ জুলাই কেরমান প্রদেশে আঘাত হানে। প্রদেশভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি ১০টি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে খোরাসান রাযাভি প্রদেশে। এ ছাড়া সেমনান, কেরমান ও ফার্স প্রদেশে আটটি করে এবং মাজানদারানে সাতটি কম্পন অনুভূত হয়েছে। একই সময়ে রাজধানী তেহরানে তিনটি মৃদু ভূমিকম্প রেকর্ড করা হলেও আলবোরজ, খুজেস্তান, জানজানসহ বেশ কয়েকটি প্রদেশে কোনো কম্পন জানা যায়নি।

এদিকে দেশটির মেহর নিউজ এজেন্সির আরেকটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ইরানি বর্ষপঞ্জির বছরে (মার্চ ২০২৫ থেকে মার্চ ২০২৬) দেশজুড়ে রিখটার স্কেলে ২ দশমিক ৫ বা তার বেশি মাত্রার মোট ২ হাজার ৩৮০টি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছিল। এর মধ্যে ৯১০টির মাত্রা ছিল ৩–এর বেশি, ১৩০টির মাত্রা ৪–এর বেশি এবং ১৫টি ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৫–এর চেয়েও বেশি। বিশ্বের অন্যতম প্রধান ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চল ইরানি মালভূমিতে অবস্থিত হওয়ায় দেশটিতে প্রায়ই এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দেয়। মূলত আরবীয় ও ইউরেশীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থানের কারণে এখানে নিয়মিত ভূত্বকের নড়াচড়া ঘটে, যা ঘন ঘন ভূমিকম্পের প্রধান কারণ।

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অধিকাংশ কম্পনের মাত্রা কম হলেও অগভীর উৎপত্তিস্থলে সংঘটিত কম্পনগুলো তুলনামূলক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ, এই ধরনের ভূমিকম্প ভূপৃষ্ঠে অত্যন্ত তীব্রভাবে অনুভূত হয় এবং জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এর ফলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।

ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে সংঘটিত মোট ভূমিকম্পের প্রায় ২ শতাংশ ইরানে হয়ে থাকলেও বিংশ শতাব্দীতে বৈশ্বিক ভূমিকম্পে মোট প্রাণহানির ৬ শতাংশেরও বেশি ঘটেছে এই একটি দেশে। এই বিপুল প্রাণহানি ও ভৌগোলিক কাঠামোর কারণে ভূমিকম্পের ঝুঁকির দিক থেকে ইরানকে বিশ্বের অন্যতম স্পর্শকাতর দেশ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

আরটিভি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ক্ষুধা-দারিদ্র্যে বিপর্যস্ত পাকিস্তান, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ স্কোর
অর্থনৈতিক অস্থিরতা, জলবায়ু বিপর্যয় এবং বৈশ্বিক সংঘাতের কারণে তীব্র খাদ্য নিরাপত্তা সংকটে থাকা পাকিস্তান ‘গ্লোবাল হাঙ্গার ইনডেক্স (জিএইচআই) ২০২৬’-এ দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ স্কোর রেকর্ড করেছে।  বুধবার (১৪ অক্টোবর) ‘নো সিকিউরিটি উইদাউট ফুড সিকিউরিটি’ (খাদ্য নিরাপত্তা ছাড়া নিরাপত্তা নেই) শীর্ষক প্রতিপাদ্য নিয়ে ক্ষুধা সূচকের এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়।  এটি যৌথভাবে প্রকাশ করেছে ‘ওয়েল্টহাঙ্গারহিলফ’, রুহর ইউনিভার্সিটি বোখুমের ‘ইনস্টিটিউট ফর ইন্টারন্যাশনাল ল অব পিস অ্যান্ড আর্মড কনফ্লিক্ট’ এবং সুইজারল্যান্ডের সংস্থা ‘হেলভেটাস’। খবর দ্য ডনের। প্রতিবেদনে বলা হয়, দক্ষিণ এশিয়ায় ক্ষুধা পরিস্থিতির অগ্রগতি ব্যাপকভাবে স্থবির হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে ২০১৮ সালের পর থেকে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে গেছে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পাকিস্তানে অর্থনৈতিক অস্থিরতা এবং খাদ্যপণ্যের তীব্র মূল্যস্ফীতির কারণে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমেছে এবং খাদ্যের সুযোগ সীমিত হয়ে পড়েছে। দেশটিতে অপুষ্টির হার ২০১৮ সালের ‘নিম্ন’ স্তর থেকে বেড়ে ‘মাঝারি’ স্তরে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে শিশুদের তীব্র অপুষ্টির হার উচ্চ পর্যায়ের দিকে এগিয়েছে। পুরো দক্ষিণ এশিয়া জুড়েই খাদ্য সংকট এখনও গুরুতর পর্যায়ে রয়েছে, যার আঞ্চলিক স্কোর ২৩ দশমিক ৫। যদিও ২০০০ সালের অতি আশঙ্কাজনক ৩৭ দশমিক ৫ স্কোর থেকে পরিস্থিতি অনেকটা উন্নত হয়েছিল, তবে তার অধিকাংশ অগ্রগতিই ঘটেছে ২০১৮ সালের আগে।  ২০০০ সালের পর পাকিস্তান ও আফগানিস্তান অতি আশঙ্কাজনক স্তর থেকে নেমে কিছুটা উন্নতি দেখালেও এসব দেশে শিশুদের খর্বকায়তা এখনো অনেক বেশি। পাকিস্তানে শিশুদের খর্বকায়তার হার ধীরে ধীরে কমলেও ২০১৮ সালের পর থেকে আফগানিস্তানে এটি কিছুটা বেড়েছে। তবে দুটি দেশেই ২০০০ সালের অতি উচ্চ শিশু মৃত্যুর হার বর্তমানে মাঝারি স্তরে নেমে এসেছে। প্রতিবেদনে সতর্ক করে বলা হয়েছে, দক্ষিণ এশিয়ায় চরম খাদ্য নিরাপত্তার উচ্চ ঝুঁকি বজায় থাকবে। ভারি বৃষ্টিপাত ও বন্যার কারণে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের কিছু কিছু জায়গায় স্থানীয়ভাবে ফসলের ক্ষতি হয়েছে। অন্যদিকে গড় বৃষ্টির চেয়ে কম বৃষ্টিপাত এবং বাড়তি তাপমাত্রার কারণে আফগানিস্তানের ২০২৬ সালের শস্য উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) হিসাব অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে ইরানসহ দক্ষিণ এশিয়ার ২১ কোটি ৮০ লাখ মানুষ অপুষ্টির শিকার হয়েছেন, যা বৈশ্বিক মোট সংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে, প্রায় দুই দশকের অগ্রগতির পর আবারও বিশ্বজুড়ে ক্ষুধা বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২৬ সালের বৈশ্বিক ক্ষুধা সূচকের স্কোর দাঁড়িয়েছে ১৮ দশমিক ১, যা ২০১৮ সালের ১৭ দশমিক ৬ স্কোরের চেয়ে খারাপ। ২০১৮ সালের পর থেকে বিশ্বের ৩২টি দেশে ক্ষুধা বেড়েছে এবং ৫৭টি দেশ ২০৩০ সালের মধ্যে ক্ষুদ্রতম স্তরের ক্ষুধা কমানোর লক্ষ্যমাত্রাও অর্জন করতে পারবে না। সূচকের চারটি মানদণ্ডের মধ্যে তিনটি- অপুষ্টি, শিশুদের খর্বাকৃতি ও শিশুদের তীব্র অপুষ্টির অবনতি ঘটেছে। কেবল শিশু মৃত্যুর হার কিছুটা কমেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর রাষ্ট্রীয় সশস্ত্র সংঘাত সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানো এবং ঘন ঘন চরম আবহাওয়া সম্পর্কিত ঘটনা বৈশ্বিক এই অবনতির মূল কারণ। ইরানের যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মানদাব প্রণালিতে নৌ-পরিবহণ ব্যাহত হওয়ার কারণে জ্বালানি, পরিবহণ এবং সারের দাম ব্যাপকভাবে বাড়ছে। পাশাপাশি ইউক্রেনে রাশিয়ার যুদ্ধ এবং কৃষ্ণসাগর দিয়ে রফতানি বিধিনিষেধের কারণে গমের দাম বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে, যা স্বল্পোন্নত ও উন্নয়নশীল বিশ্বের দরিদ্র মানুষের কাছে মৌলিক খাদ্যপণ্যকে নাগালের বাইরে নিয়ে যাচ্ছে। এই সংকট আরও ঘনীভূত করেছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তার অভাব। খাদ্য নিরাপত্তায় বৈশ্বিক ব্যয় ২০১৬-২০১৭ সালের স্তরে নেমে এসেছে, যার ফলে মানবিক সহায়তা কর্মসূচি ও জরুরি ত্রাণ বরাদ্দে কাটছাঁট করতে বাধ্য হচ্ছে বিভিন্ন সংস্থা।  ভবিষ্যতেও বিশ্বজুড়ে এই ধরনের চরম সংকট প্রতিরোধ ও মোকাবিলায় মানবিক সহায়তা এবং উপাত্ত সংগ্রহের বাজেটে দেওয়া কাটছাঁটের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করতে বিশ্বের সরকারগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে প্রতিবেদনটি। আরটিভি/এসআর
ক্ষুধা-দারিদ্র্যে বিপর্যস্ত পাকিস্তান, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে খারাপ স্কোর
সৌদি আরবের নাজরান ও জিজানে জরুরি সতর্কতা
সৌদি আরবের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নাজরান ও জিজানে জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সম্ভাব্য বিপদের বিষয়ে বাসিন্দাদের সতর্ক করার পরপরই দুই শহরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার খবর জানিয়েছে দেশটির সিভিল ডিফেন্স।
সৌদি আরবের নাজরান ও জিজানে জরুরি সতর্কতা
আমেরিকানদের দ্বিতীয় পাসপোর্ট কেনার নতুন সুযোগ দিচ্ছে আর্জেন্টিনা
বড় অঙ্কের অর্থ জমা বা সরকারি বন্ডে বিনিয়োগের বিনিময়ে বিদেশিদের নাগরিকত্ব দেওয়ার নতুন কর্মসূচি চালুর উদ্যোগ নিয়েছে আর্জেন্টিনা।
আমেরিকানদের দ্বিতীয় পাসপোর্ট কেনার নতুন সুযোগ দিচ্ছে আর্জেন্টিনা
রাশিয়ার তেল শোধনাগারে আবারও ইউক্রেনের হামলা, জেলেনস্কির হুঁশিয়ারি
রাশিয়ার তেল শোধনাগারে আবারও হামলা শুরু করেছে ইউক্রেন।
রাশিয়ার তেল শোধনাগারে আবারও ইউক্রেনের হামলা, জেলেনস্কির হুঁশিয়ারি
পাকিস্তানে স্কুলের ছাদ ধসে ২৮ জনের মৃত্যু, নিহতদের বেশির ভাগই শিশু
পাকিস্তানের পেশোয়ার শহরে একটি বেসরকারি বিদ্যালয়ের ছাদ ধসে অন্তত ২৭ শিক্ষার্থী ও এক শিক্ষক নিহত হয়েছেন। 
পাকিস্তানে স্কুলের ছাদ ধসে ২৮ জনের মৃত্যু, নিহতদের বেশির ভাগই শিশু
আরও পড়ুন
‘খুব শিগগিরই শেষ হবে ইরান যুদ্ধ’, তেলের দাম কমার পূর্বাভাস ট্রাম্পের
হরমুজ প্রণালিতে ২৪ ঘণ্টায় ডুবল দুই জাহাজ, বাড়ছে তেলের দাম
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিতে সামরিক শক্তি বাড়িয়েছে ইরান: পার্লামেন্ট স্পিকার
স্টারলিংককে ‘যুদ্ধের হাতিয়ার’ বলছে ইরান, বন্ধে মরিয়া সরকার