শুধুই দেরি হয়ে যায়? এ বিষয়ে বিজ্ঞান যা বলছে

আরটিভি নিউজ ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারি ২০২৬ , ০৭:২৬ পিএম


শুধুই দেরি হয়ে যায়? এ বিষয়ে বিজ্ঞান যা বলছে
প্রতীকী ছবি

বন্ধুমহলে বা কর্মক্ষেত্রে এমন অনেকের দেখা মেলে, যারা সব সময় দেরি করে পৌঁছান। এই ‘লেট লতিফ’দের নিয়ে যেমন আড্ডায় হাসাহাসি হয়, তেমনি কর্মক্ষেত্রে অনেক সময় বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

বিজ্ঞাপন

তবে সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, দীর্ঘস্থায়ীভাবে দেরি করার এই অভ্যাস কেবল দায়িত্বহীনতা বা অবহেলার কারণে নয়; বরং এর পেছনে রয়েছে মস্তিষ্কের গঠন, ব্যক্তিত্বের বৈশিষ্ট্য এবং এমনকি জৈবিক ঘড়ির মতো বৈজ্ঞানিক কারণ।

মনোবিজ্ঞান এবং ক্রোনোবায়োলজির মতে, দেরি হওয়াটা মানুষের মনস্তাত্ত্বিক ও জৈবিক গঠনের একটি জটিল প্রতিফলন।

বিজ্ঞাপন

দেরি করার অন্যতম প্রধান বৈজ্ঞানিক কারণ হলো ‘প্ল্যানিং ফ্যালাসি’ বা পরিকল্পনার ভুল। একে এক ধরণের জ্ঞানীয় পক্ষপাত বা কগনিটিভ বায়াস বলা যেতে পারে। অনেক সময় আশাবাদী মানুষেরা কোনো কাজ সম্পন্ন করতে আসলে কত সময় লাগবে, তা সঠিকভাবে আন্দাজ করতে পারেন না।

তারা যাতায়াতের পথে যানজট বা অন্য কোনো অপ্রত্যাশিত বিঘ্নের কথা বিবেচনায় রাখেন না বলে হাতে অতিরিক্ত সময় থাকে না।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া অনেকের মধ্যে ‘পার্সোনাল স্পিড ইলিউশন’ কাজ করে, যার ফলে তারা মনে করেন শেষ মুহূর্তে তাড়াহুড়ো করে সব কাজ সেরে ফেলতে পারবেন। এই অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসই শেষ পর্যন্ত তাদের সময়সূচিকে এলোমেলো করে দেয়।

ব্যক্তিত্বের বৈচিত্র্য এবং সাংস্কৃতিক প্রভাবও সময়ানুবর্তিতার ওপর বড় প্রভাব ফেলে।

বিজ্ঞাপন

গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের মধ্যে সচেতনতাবোধ বেশি, তারা প্রাকৃতিকভাবেই আগে থেকে পরিকল্পনা করেন।

অন্যদিকে, যারা প্রাকৃতিকভাবে কিছুটা অগোছালো, তাদের পক্ষে সময়ের হিসাব রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। আবার লাতিন আমেরিকা বা মধ্যপ্রাচ্যের মতো সংস্কৃতিতে সম্পর্কের গুরুত্ব সময়ের চেয়ে বেশি হওয়ায় সেখানে সামাজিক যোগাযোগে সময় হারিয়ে ফেলার প্রবণতা থাকে।

আরও পড়ুন

এছাড়া ‘নাইট আউল’ বা রাতজাগা পাখিদের জৈবিক ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম সকালে দেরিতে সক্রিয় হয় বলে তাদের প্রতিটি কাজে দেরি হতে থাকে। এমনকি এডিএইচডি-র মতো নিউরোডাইভারজেন্ট বৈশিষ্ট্যের অধিকারীদের মধ্যে ‘টাইম ব্লাইন্ডনেস’ বা সময়ের অন্ধত্ব দেখা যায়, যেখানে তারা সময়ের সঠিক হিসাব রাখতে হিমশিম খান।

বিজ্ঞান শুধু সমস্যার কথাই বলে না, উত্তরণের পথও দেখায়। এই অভ্যাস থেকে মুক্তি পেতে হলে কোনো কাজ বা যাতায়াতে যতটুকু সময় লাগবে বলে মনে হয়, হিসাবে তার দ্বিগুণ সময় হাতে রাখার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। 

এছাড়া তৈরি হওয়া বা বের হওয়ার মতো প্রতিটি ছোট পদক্ষেপের জন্য আলাদা সময় বরাদ্দ করা এবং কেবল ইচ্ছাশক্তির ওপর নির্ভর না করে অ্যালার্ম বা ডিজিটাল টুলের সাহায্য নেওয়া যেতে পারে। 

সময়নিষ্ঠ ব্যক্তি এবং নিয়মিত দেরি করা মানুষদের মধ্যে একে অপরের প্রতি সহমর্মিতা থাকলে সম্পর্কের টানাপোড়েন কমে এবং প্রয়োজনীয় কাঠামোগত পরিবর্তনের মাধ্যমে এই লেট লতিফ তকমা ঘোচানো সম্ভব হয়। সূত্র: লাইফ সায়েন্স, ন্যাশনাল জিওগ্রাফিক

আরটিভি/এএইচ

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps
বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission