কর্মক্ষেত্রে জেনারেশন জেড বা জেন-জি কর্মীদের আচরণ ও দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে বিশ্বজুড়ে চলছে নানা আলোচনা। এবার এক নতুন গবেষণায় উঠে এসেছে যে, এই প্রজন্মের কর্মীরা চাকরিকে কোনো দীর্ঘমেয়াদি অঙ্গীকার হিসেবে দেখছেন না। বরং তারা একে দেখছেন একটি স্বল্পমেয়াদি ‘সিচুয়েশনশিপ’ বা অস্থায়ী সম্পর্ক হিসেবে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার আর্থিক প্রতিষ্ঠান গেটওয়ে কমার্শিয়াল ফাইন্যান্সের এক সাম্প্রতিক জরিপে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
গবেষণাটি করা হয়েছে ১ হাজার ৮ জন কর্মীর ওপর, যাদের অর্ধেকই জেন-জি এবং বাকি অর্ধেক নিয়োগকর্তা বা ব্যবস্থাপক।
জরিপের ফলাফল অনুযায়ী, প্রায় ৫৮ শতাংশ জেন-জি উত্তরদাতা তাদের বর্তমান চাকরিকে একটি ‘সিচুয়েশনশিপ’ হিসেবে বিবেচনা করেন, যা মূলত প্রতিশ্রুতিহীন ও স্বল্পস্থায়ী একটি সম্পর্ক।
এছাড়া ৪৭ শতাংশ অংশগ্রহণকারী জানিয়েছেন, চাকরিতে যোগ দেওয়ার এক বছরের মধ্যেই সেটি ছেড়ে দেওয়ার পরিকল্পনা তাদের মাথায় ঘুরপাক খাচ্ছে। এমনকি জরিপে অংশ নেওয়া অর্ধেক মানুষই জানিয়েছেন যে, তারা যেকোনো সময় বর্তমান কর্মস্থল ত্যাগ করতে প্রস্তুত।
জেন-জিদের এই মানসিকতার পেছনে বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে পেশাগত সুবিধার অভাব। মাত্র ৪৬ শতাংশ মনে করেন, একই প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন কাজ করলে কোনো বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায়। বাকিদের কাছে বর্তমান পদটি কেবল আয়ের একটি উৎস।
চাকরি ছাড়ার কারণ হিসেবে ৫৫ শতাংশ কর্মী জানিয়েছেন যে, অন্য কোথাও বেশি বেতন পেলে তারা চলে যাবেন। এছাড়া ৩৪ শতাংশ কর্মী কর্মক্ষেত্রে মানসিক স্বাস্থ্যের অবনতি বা ‘বার্নআউট’-এর কথা উল্লেখ করেছেন।
২২ শতাংশ মনে করেন, তাদের কাজের যথাযথ মূল্যায়ন বা স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে না।
তবে জেন-জিদের এই আনুগত্যহীনতা নিয়ে নিয়োগদাতাদের মধ্যে তীব্র অসন্তুষ্টি লক্ষ্য করা গেছে। জরিপে অংশ নেওয়া প্রতি চারজন নিয়োগকর্তার মধ্যে একজন মনে করেন, জীবনবৃত্তান্তে এক বছরের কম সময়ের চাকরির অভিজ্ঞতা থাকা একটি নেতিবাচক লক্ষণ বা ‘রেড ফ্ল্যাগ’। এমনকি ঘন ঘন চাকরি পরিবর্তনের প্রবণতার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান জেন-জিদের নিয়োগ না দেওয়ার সিদ্ধান্তও নিয়েছে।
অন্যদিকে, জেন-জিদের আর্থিক স্বাবলম্বী হওয়ার চেষ্টাও এই গবেষণায় ফুটে উঠেছে।
ব্যাংক অব আমেরিকার এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৭২ শতাংশ জেন-জি তাদের আর্থিক অবস্থা সংস্কারে গত এক বছরে কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছে। উচ্চ জীবনযাত্রার ব্যয় ও অর্থনৈতিক প্রতিবন্ধকতার মধ্যেও তারা নিজেদের অর্থের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে কঠোর পরিশ্রম করছে।
গবেষকদের মতে, প্রথাগত চাকরির ধারণা চ্যালেঞ্জ করে জেন-জিরা এখন কর্মক্ষেত্রে নিজেদের স্বাধীনতা ও মানসিক প্রশান্তিকেই বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে। সূত্র: ইন্ডিপেন্ডেন্ট।
আরটিভি/এএইচ





