সিনেমা ও কল্পকাহিনীতে আমরা প্রায়ই দেখি বিশাল কোনো প্রাণী মুহূর্তেই মানুষকে গিলে ফেলে। কিন্তু বাস্তব জগৎেও এমন কিছু প্রাণী আছে যারা শারীরিক সক্ষমতা ও আকারের কারণে একজন পূর্ণবয়স্ক মানুষকে গিলে ফেলার ক্ষমতা রাখে। যদিও মানুষের ওপর আক্রমণ খুবই বিরল, ইতিহাস ও বিভিন্ন দেশে নথিভুক্ত ঘটনার মাধ্যমে এটি জানা যায়।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, বন্যপ্রাণীর সঙ্গে সরাসরি সংস্পর্শ এড়ানো এবং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
চলুন জেনে নিই সেই ছয়টি প্রাণী সম্পর্কে:
১. স্পার্ম হোয়েল
গভীর সাগরের এই বিশাল প্রাণী মূলত বড় স্কুইড শিকার করে। এদের গলা এত বড় যে একজন মানুষ সহজেই এর ভেতর ঢুকে যেতে পারে। যদিও মানুষের কোনো ঘটনার নথি নেই, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দুর্ঘটনা অসম্ভব নয়।

২. হাম্পব্যাক হোয়েল
‘ফিল্টার ফিডার’ হিশেবে পরিচিত এই তিমি বড় মুখ খুলে পানি নিয়ে ছোট প্রাণী খায়। সাধারণত বড় প্রাণী খায় না, তবে অসাবধানতাবশত মানুষও তাদের মুখের ভেতরে ঢুকে পড়তে পারে। ২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কেপ কডে একজন ডুবুরি হাম্পব্যাক তিমির মুখে ঢুকে পড়লেও তিমিটি ভুল বুঝে তাকে ছেড়ে দেয়।

৩. রেটিকুলেটেড পাইথন
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই পাইথন লম্বায় ২৫ ফুট পর্যন্ত হতে পারে। নমনীয় চোয়াল ও প্রসারিত শরীরের কারণে বড় শিকারও গিলে ফেলতে পারে। ২০১৭ সালে ইন্দোনেশিয়ার পাম তেলের বাগানে একজন ব্যক্তিকে ২৩ ফুট লম্বা পাইথনের পেটের ভেতর পাওয়া যায়।
![]()
৪. গ্রিন অ্যানাকোন্ডা
পৃথিবীর সবচেয়ে ভারী সাপ, দক্ষিণ আমেরিকার গ্রিন অ্যানাকোন্ডা। ক্যাপিবারা, কাইম্যান ও জাগুয়ারসহ বড় শিকারও এরা ধরতে সক্ষম। যদিও মানুষের খাওয়ার নিশ্চিত ঘটনা নেই, আকার ও শক্তি অনুযায়ী একজন মানুষকে গিলে ফেলার জন্য যথেষ্ট।

৫. লবণাক্ত পানির কুমির
পৃথিবীর বৃহত্তম সরীসৃপ লবণাক্ত পানির কুমির। শক্তিশালী চোয়াল ও বড় দাঁতের কারণে মানুষের ওপর আক্রমণ করতে পারে। সাধারণত শিকারকে টুকরো করে বা ডুবিয়ে মারে, তবে ছোট আকারের মানুষ হলে পুরোটা গিলে ফেলার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

৬. জলহস্তী
আফ্রিকার অন্যতম মারাত্মক প্রাণী জলহস্তী। যদিও এরা মাংস খায় না, প্রচণ্ড আক্রমণাত্মক। বিশাল মুখের ভেতর মানুষের শরীরের ওপরের অংশ ঢুকতে পারে। ১৯৯৬ সালে জিম্বাবুয়েতে একজন গাইডকে জলহস্তী মুখে পুরে নিয়েছিল, তবে তিনি বেঁচে ফিরেছিলেন।

বিশেষজ্ঞরা মনে করান, এই প্রাণীদের সঙ্গে সংস্পর্শের সময় সর্বদা সতর্ক থাকা এবং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র : ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
আরটিভি/এসকে




