জামদানি শুধু একটি শাড়ি নয়, এটি অনেক নারীর আবেগ, ভালোবাসা আর ঐতিহ্যের অংশ। মিহি সুতা আর হাতে বোনা সূক্ষ্ম নকশার কারণে এই শাড়ির কদর আলাদা। তবে একটু অসাবধানতাতেই নষ্ট হতে পারে শখের প্রিয় জামদানি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ কাপড়ের মতো জামদানি ধোয়া ঠিক নয়। কারণ এই শাড়ির সুতা তৈরির সময় বিশেষ ধরনের মাড় ব্যবহার করা হয়। পানি লাগলে বুনন আলগা হয়ে যেতে পারে, এমনকি শাড়ির সৌন্দর্যও নষ্ট হতে পারে। তাই বাসায় না ধুয়ে অভিজ্ঞ লন্ড্রিতে ‘কাটা ধোয়া’ করানোই সবচেয়ে নিরাপদ।
অনেকেই জামদানি ভাঁজ করে আলমারিতে তুলে রাখেন। কিন্তু এতে সুতার অংশ দুর্বল হয়ে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, জামদানি ভাঁজ না করে গোল করে পেঁচিয়ে রাখা ভালো। এজন্য মোটা পাইপ বা লম্বা কাঠি ব্যবহার করা যেতে পারে।
বর্ষাকালে জামদানিতে ছত্রাক পড়ার ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই মাঝে মাঝে হালকা রোদ বা বাতাসে শাড়ি মেলে দেওয়া উচিত। তবে কড়া রোদে বেশি সময় রাখা যাবে না।
দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে জামদানির সুতা নরম হয়ে যায়। তাই দুই থেকে তিন বছর পরপর কাটাই করিয়ে নিলে শাড়ির বুনন ও শক্তি দীর্ঘদিন ভালো থাকে।
খাবারের ঝোল বা দাগ লাগলে সঙ্গে সঙ্গে পানি ব্যবহার না করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। বরং দাগের ওপর হালকা পাউডার ছিটিয়ে দ্রুত লন্ড্রিতে দিতে হবে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, শুধু আলমারিতে তুলে রাখলে জামদানি দ্রুত নষ্ট হতে পারে। তাই বিশেষ অনুষ্ঠান ছাড়াও ছোটখাটো দাওয়াত বা ঘরোয়া আয়োজনে নিয়মিত ব্যবহার করলে কাপড় ভালো থাকে।
নতুন জামদানির পাড়ে ফলস আর আঁচলে নেট লাগিয়ে নিলে শাড়ি আরও সুরক্ষিত থাকে। এতে সহজে ভাঁজ পড়ে না, ঘষা লেগেও নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি কমে যায়।
আরটিভি/জেএমএ




