ঢাকা বুধবার, ০৪ নভেম্বর ২০২৬, ২০ কার্তিক ১৪৩৩

পান্তা-ইলিশ যেভাবে হয়ে উঠলো নববর্ষের আইকনিক খাবার

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৮ এপ্রিল ২০২৬, ১২:৩৭ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে পহেলা বৈশাখ মানেই লাল পাড়ের সাদা শাড়ি, ছেলেদের পাঞ্জাবি আর মেলার রঙিন আনন্দ। তবে সকালটা সত্যিই জমে ওঠে, যখন টেবিলে থাকে পান্তা ভাত আর সঙ্গে ভাজা ইলিশ। যেন পান্তা-ইলিশ ছাড়া পহেলা বৈশাখের কথা ভাবাই যায় না। মজার বিষয় হলো, এই পান্তা-ইলিশ খাওয়ার রীতি কোনো হাজার বছরের পুরনো ঐতিহ্য বা সংস্কৃতি নয়। এটি মূলত শহরের একটি নতুন উদ্ভাবন, যা ধীরে ধীরে সারা দেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

গ্রামীণ বাংলার পান্তার ইতিহাস

গ্রামে যদিও পান্তা ভাত খাওয়া হয়ে থাকে, তবে ইলিশের সঙ্গে নববর্ষের খাবার হিসেবে আগে কখনো এটি প্রচলিত ছিল না। মূলত গ্রামীণ মানুষের পান্তা ভাত খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের পুরোনো। এটি ছিল কৃষক ও সাধারণ মানুষের গরিবের খাবার। রাতে বেঁচে যাওয়া ভাতে পানি দিয়ে ভিজিয়ে রেখে, পরের দিন সকালে নুন, পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচ দিয়ে খাওয়া এই প্রথাটিই ছিল বেঁচে থাকার অবলম্বন। যেখানে ভাত জুটতেই কষ্ট, সেখানে ইলিশ মাছ খাওয়া তো ছিল কল্পনারও বাইরে। মূলত ক্ষুধা এবং সঙ্গে তীব্র গরম ও কায়িক পরিশ্রমের ক্লান্তি দূর করতেই তারা পান্তা ভাত খেত।

আরও পড়ুন

শহরের উদ্ভাবন, আইকনিক খাবার

একসময় শুধু গ্রামীণ বা গরিবদের খাবার হলেও, এখন তা প্রাত্যহিক খাদ্য থেকে পান্তা-ইলিশ হয়ে উঠেছে ঢাকা শহরের পহেলা বৈশাখ উদযাপনের অন্যতম প্রধান আইকনিক খাবার। ধারণা করা হয়, এরপর থেকেই এক ধরনের প্রচারণার মাধ্যমে এটি বাংলাদেশের ঐতিহ্য হিসেবে প্রচলিত করা হয়েছে। যা আজকাল এটি সহজেই প্রথার অংশে পরিণত হয়েছে। এর বিরোধিতা করাও এখন অনেকের কাছে বিতর্কের বিষয়।

প্রথম পান্তা-ইলিশের আয়োজন

বাংলা নববর্ষের সঙ্গে পান্তা-ইলিশের সম্পর্ক খুব বেশিদিনের না। ১৯৮০-এর দশকে ঢাকার রমনা পার্ককে কেন্দ্র করে শুরু হয় শহুরে বৈশাখ উৎসব। সাংস্কৃতিক কর্মীরা ও দর্শকরা সেখানে অংশ নিতেন। ১৯৮৩ সালে কয়েকজন সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক কর্মী আড্ডা দিতে দিতে সিদ্ধান্ত নেন, বৈশাখের সকালে পান্তা ভাতের সঙ্গে ইলিশ মাছ ভাজা পরিবেশন করা হোক। তারা মিলে ৫ টাকা করে চাঁদা তুলে খাবার প্রস্তুত করেন। পান্তা রান্না, ইলিশ ভাজা ও মাটির সানকি আয়োজনের অংশ ছিল। পরের সকালেই সবাই রমনার বটমূলের সামনে হাজির হয়ে প্রথমবারের মতো পান্তা-ইলিশ উপভোগ করেন। মুহূর্তের মধ্যেই তা শেষ হয়ে যায়।

বিতর্কও আছে

তবে এই রীতি এখনও বিতর্কের মুখে। সমালোচকরা মনে করেন, শহরের মানুষ যখন পান্তা-ইলিশ ঘটা করে খায়, তখন তা প্রকৃত গ্রামীণ সংস্কৃতির সঙ্গে মিলছে না। তাদের মতে, এটি মূলত নগরী কেন্দ্রিক, ব্যবসায়িক উদ্দেশ্য ও প্রচারণার অংশ হিসেবে প্রচলিত হয়ে উঠেছে।

গ্রামীণ রীতি না হলেও, ঢাকা শহর থেকে মফস্বল শহর পর্যন্ত বাঙালিরা এখন নববর্ষের সকালের আনন্দ নিতে পান্তা-ইলিশ খায়। তাই এটি বৈশাখের টেবিলের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশে পরিণত হয়েছে। যদিও ইতিহাস নতুন, তবুও শহুরে সংস্কৃতিতে পান্তা-ইলিশ এক আলাদা পরিচয় তৈরি করেছে।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আজ ক্যান্ডি দিবস
ক্যান্ডি মানেই মিষ্টি স্বাদ আর শৈশবের রঙিন স্মৃতি।
আজ ক্যান্ডি দিবস
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
বর্তমান সময়ে আমাদের জীবনযাপনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে মোবাইল ফোন। ফোন ছাড়া একটি দিন কাটানোও এখন অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ফোন ছাড়া কিছু সময় থাকলেই কী যেন নেই, কী যেন নেই মনে হতে থাকে। অভ্যাসবশত অনেকে টয়লেটেও ফোন নিয়ে যান।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টয়লেটে ফোন নিয়ে যাওয়া বা টয়লেটে গিয়ে ফোন ব্যবহার করা মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস নয়। এই অভ্যাস আপনার অজান্তেই ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ। বিশেষ করে টয়লেটের কমোডে বসে মোবাইল ব্যবহার করা একদমই ঠিক নয়। এছাড়া ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি নিন্দনীয় ও অপছন্দনীয়। ওয়াশরুমে বসে মোবাইলে, অন্য কোনো মাধ্যমে বা সরাসরি কথাবার্তা বলা ইসলামী শিষ্টাচারের পরিপন্থী এবং মাকরূহ বা অপছন্দনীয় কাজ। ওয়াশরুম হলো অপবিত্রতা ত্যাগের স্থান, এখানে কথা বলা অনুচিত। তবে ওয়াশরুমে বসে থাকা অবস্থায় যদি বিশেষ কোনো প্রয়োজন দেখা দেয়, যেমন, ওয়াশরুমের পানি শেষ হয়ে গেল বা টিস্যু নেই এমন অবস্থায় সাহায্য নেওয়ার জন্য কাউকে ডেকে বলা যাবে। মূলত ওয়াশরুমে কথা বলা হারাম নয়, তবে বিষয়টিকে মাকরূহ বলা হয় এবং এ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু ওয়াশরুমে কথা বলার সময় খেয়াল রাখতে হবে, যেন আল্লাহ তায়ালার কোনো জাতি (সত্তা) বা সিফাতি (গুণবাচক) নাম, জিকিরের কোনো কালিমা কিংবা দোয়া, কোরআন, হাদিস বা এমন কোনো কাগজ যাতে আল্লাহর নাম, নবী বা ফেরেশতাদের নামের শব্দ উচ্চারণ করা যাবে না। আরটিভি/এসআর
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
হাড়ের গঠন ও শক্তি বজায় রাখতে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও পর্যাপ্ত প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব পুষ্টির ঘাটতি হলে হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে। বাড়তে পারে অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি।
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
সারাদিন মুঠোফোনের বার্তা, কাজের চাপ, বন্ধুদের সঙ্গে কথাবার্তা আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের জীবন দেখতে দেখতে ক্লান্ত? তাহলে আজ একটু বিরতি নিতেই পারেন।
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন? নাশতায় মাখানা নাকি পপকর্ন কোনটি বেছে নেবেন, তা নিয়ে দ্বিধায় পড়েন অনেকেই। দুটিই হতে পারে স্বাস্থ্যকর নাশতার বিকল্প।
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
আরও পড়ুন
নদী থেকে ৪৫ জেলেকে আটক করল কোস্ট গার্ড
ছুটির দিনে বাজার থেকে হঠাৎ করেই ‘উধাও’ ইলিশ
কাঠমান্ডুতে উৎসবমুখর পরিবেশে পহেলা বৈশাখ উদযাপন
রোদে পোড়া দাগ দূর করুন ঘরোয়া উপায়ে