ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

রিচ ফুড খেলে বেশি বেশি পিপাসা পায়, কারণ কী

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

খিচুড়ি, পোলাও, তেহারি বা বিরিয়ানির মতো ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ অনেকের কাছেই অপ্রতিরোধ্য। মসলাদার সুবাস, নরম চাল-ডাল বা মাংসের মিশ্রণ আর সঙ্গে আচার বা সালাদ— এসব মিলে একটি পূর্ণাঙ্গ ভোজনের আনন্দ দেয়। তবে খাওয়া শেষ হওয়ার পরপরই অনেকের মুখ শুকিয়ে যায়, গলা কাঠ হয়ে আসে এবং বারবার পানি খেতে ইচ্ছে করে।

চিকিৎসকদের মতে, এই অভিজ্ঞতা স্বাভাবিক এবং প্রধানত খাবারের উপাদান ও হজম প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত।

পিপাসার প্রধান কারণ: খাবারের লবণ

পোলাও, বিরিয়ানি বা খিচুড়ি- এ ধরনের খাবারে সাধারণত পরিমিত থেকে বেশি লবণ ব্যবহার করা হয়, যাতে স্বাদ বাড়ে এবং খাবার সংরক্ষণ হয়। সঙ্গে যোগ হয় সালাদ, আচার বা অন্যান্য ‘সাইড ডিশ’ যাতে থাকে অতিরিক্ত লবণ।

খাওয়ার পর এই লবণ রক্তে প্রবেশ করে এবং রক্তের সোডিয়াম ঘনত্ব বাড়িয়ে তোলে। শরীরের স্বাভাবিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য কোষ থেকে পানি রক্তে চলে আসে, ফলে কোষগুলো আপেক্ষিক পানিশূন্যতায় ভোগে। মস্তিষ্ক এই অবস্থা সনাক্ত করে পিপাসার সংকেত পাঠায়, ফলে মুখ শুকিয়ে যায় এবং বারবার পানি খাওয়ার ইচ্ছা হয়।

মসলা ও হজম প্রক্রিয়ার ভূমিকা

খিচুড়িতে ব্যবহৃত নানান মসলা, যেমন- জিরা, দারুচিনি, এলাচ, লবঙ্গ, গরম মসলা যা মুখের ভেতরের শ্লেষ্মা ঝিল্লিকে উদ্দীপিত করে। এতে মুখের স্বাভাবিক ভেজা ভাব কমে যায় এবং অস্বস্তির অনুভূতি হয়, যা পিপাসার মতো লাগতে পারে। এছাড়া এসব খাবার গুরুপাক বা সহজপাচ্য নয়। হজম ও বিপাক প্রক্রিয়া দীর্ঘস্থায়ী হয়, যে জন্য শরীরে অতিরিক্ত পানির চাহিদা তৈরি হয়।

পাকস্থলী ও অন্ত্রে খাবার ভাঙতে পানি ব্যবহার হয়, ফলে সামগ্রিক পানির ভারসাম্য ব্যাহত হয় এবং পিপাসা বাড়ে।

সমাধান

• ঝোল-তরকারি, টক দইয়ের রায়তা বা লবণ কম দেওয়া সালাদ (শসা, টমেটো, লেটুস) খিচুড়ির সঙ্গে পরিবেশন করতে হবে। সালাদে লবণ একেবারে না দেওয়াই ভালো।

• ভুনা খিচুড়ির পরিবর্তে ল্যাটকা বা পাতলা খিচুড়ি রান্না করা যেতে পারে, যাতে পানির পরিমাণ বেশি থাকে এবং হজম সহজ হয়।

• মসলা ও তেলের পরিমাণ কম রাখলে মুখের শুষ্কতা কমবে।

• খাওয়ার ১৫ থেকে ২০ মিনিট আগে এক গ্লাস পানি পান করা ভালো, যাতে শরীর প্রস্তুত থাকে। খাওয়ার পরও ১৫ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করে পানি বা ডাবের পানি গ্রহণ করা যেতে পারে।

• খাওয়ার সময় বা ঠিক পরে পানি পান করা উচিত না, এতে হজম প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং গ্যাস বা অম্বল হতে পারে।

• চিনিযুক্ত কোমল পানীয় বা অতিরিক্ত লবণযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলতে হবে। আর গরম আবহাওয়াতে এ ধরনের গুরুপাক খাবার কম খাওয়াই ভালো।

আরও পড়ুন

সচেতন খাদ্যাভ্যাসে স্বস্তি

খিচুড়ি খাওয়ার পর পিপাসা পাওয়া স্বাভাবিক শারীরিক প্রতিক্রিয়া, যা লবণ, মসলা ও হজম প্রক্রিয়ার ফল। সঠিক সময়ে পানি পানের অভ্যাস গড়ে তুললে খাবারের আনন্দ অক্ষুণ্ণ থাকে এবং শরীর হয় সতেজ।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
গর্ভাবস্থায় ‘ভুলে যাওয়া সমস্যার’ রহস্য খুঁজে পেলেন বিজ্ঞানীরা 
গর্ভাবস্থায় অনেক নারী হঠাৎ কিছু বিষয় ভুলে যাওয়ার সমস্যায় পড়েন।
গর্ভাবস্থায় ‘ভুলে যাওয়া সমস্যার’ রহস্য খুঁজে পেলেন বিজ্ঞানীরা 
জেনে নিন ইসবগুল খাওয়ার উপকারিতা
কোষ্ঠকাঠিন্য হলেই অনেকের মনে পড়ে ইসবগুলের ভুসির কথা। পানিতে মিশিয়ে খাওয়া পরিচিত এই খাবারটি দীর্ঘদিন ধরে পেট পরিষ্কার রাখতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে ইসবগুলের উপকারিতা শুধু কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
জেনে নিন ইসবগুল খাওয়ার উপকারিতা
বোটক্স নেওয়ার আগে জানুন স্নায়ুর এই ঝুঁকিগুলো
বয়সের ছাপ কমানো থেকে শুরু করে মাইগ্রেনের সমস্যা নিয়ন্ত্রণ—বিভিন্ন কারণে বোটক্স ব্যবহার করা হয়।
বোটক্স নেওয়ার আগে জানুন স্নায়ুর এই ঝুঁকিগুলো
শুয়ে থাকলেই পা নাড়ানোর ইচ্ছা? আজ সচেতন হওয়ার দিন
রাতে বিছানায় শুয়ে আছেন, কিন্তু পায়ে কেমন যেন অস্বস্তি হচ্ছে।
শুয়ে থাকলেই পা নাড়ানোর ইচ্ছা? আজ সচেতন হওয়ার দিন
শিয়ালের মাংস, তক্ষক ও জোঁকের তেল, রোগ সারানোর সত্যতা কতটা?
শিয়ালের মাংস খেলে বাতের ব্যথা সারে, তক্ষক খেলে হাঁপানি থেকে যৌনক্ষমতা নানা রোগের চিকিৎসা হয়, আবার জোঁকের তেল নাকি সারিয়ে দেয় বাত-ব্যথা ও বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা। বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত রয়েছে এমন নানা লোকবিশ্বাস। তবে এসব দাবির পেছনে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি কতটা?
শিয়ালের মাংস, তক্ষক ও জোঁকের তেল, রোগ সারানোর সত্যতা কতটা?