খিচুড়ি, পোলাও, তেহারি বা বিরিয়ানির মতো ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ অনেকের কাছেই অপ্রতিরোধ্য। মসলাদার সুবাস, নরম চাল-ডাল বা মাংসের মিশ্রণ আর সঙ্গে আচার বা সালাদ— এসব মিলে একটি পূর্ণাঙ্গ ভোজনের আনন্দ দেয়। তবে খাওয়া শেষ হওয়ার পরপরই অনেকের মুখ শুকিয়ে যায়, গলা কাঠ হয়ে আসে এবং বারবার পানি খেতে ইচ্ছে করে।
চিকিৎসকদের মতে, এই অভিজ্ঞতা স্বাভাবিক এবং প্রধানত খাবারের উপাদান ও হজম প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত।
পিপাসার প্রধান কারণ: খাবারের লবণ
পোলাও, বিরিয়ানি বা খিচুড়ি- এ ধরনের খাবারে সাধারণত পরিমিত থেকে বেশি লবণ ব্যবহার করা হয়, যাতে স্বাদ বাড়ে এবং খাবার সংরক্ষণ হয়। সঙ্গে যোগ হয় সালাদ, আচার বা অন্যান্য ‘সাইড ডিশ’ যাতে থাকে অতিরিক্ত লবণ।
খাওয়ার পর এই লবণ রক্তে প্রবেশ করে এবং রক্তের সোডিয়াম ঘনত্ব বাড়িয়ে তোলে। শরীরের স্বাভাবিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য কোষ থেকে পানি রক্তে চলে আসে, ফলে কোষগুলো আপেক্ষিক পানিশূন্যতায় ভোগে। মস্তিষ্ক এই অবস্থা সনাক্ত করে পিপাসার সংকেত পাঠায়, ফলে মুখ শুকিয়ে যায় এবং বারবার পানি খাওয়ার ইচ্ছা হয়।
মসলা ও হজম প্রক্রিয়ার ভূমিকা
খিচুড়িতে ব্যবহৃত নানান মসলা, যেমন- জিরা, দারুচিনি, এলাচ, লবঙ্গ, গরম মসলা যা মুখের ভেতরের শ্লেষ্মা ঝিল্লিকে উদ্দীপিত করে। এতে মুখের স্বাভাবিক ভেজা ভাব কমে যায় এবং অস্বস্তির অনুভূতি হয়, যা পিপাসার মতো লাগতে পারে। এছাড়া এসব খাবার গুরুপাক বা সহজপাচ্য নয়। হজম ও বিপাক প্রক্রিয়া দীর্ঘস্থায়ী হয়, যে জন্য শরীরে অতিরিক্ত পানির চাহিদা তৈরি হয়।
পাকস্থলী ও অন্ত্রে খাবার ভাঙতে পানি ব্যবহার হয়, ফলে সামগ্রিক পানির ভারসাম্য ব্যাহত হয় এবং পিপাসা বাড়ে।
সমাধান
• ঝোল-তরকারি, টক দইয়ের রায়তা বা লবণ কম দেওয়া সালাদ (শসা, টমেটো, লেটুস) খিচুড়ির সঙ্গে পরিবেশন করতে হবে। সালাদে লবণ একেবারে না দেওয়াই ভালো।
• ভুনা খিচুড়ির পরিবর্তে ল্যাটকা বা পাতলা খিচুড়ি রান্না করা যেতে পারে, যাতে পানির পরিমাণ বেশি থাকে এবং হজম সহজ হয়।
• মসলা ও তেলের পরিমাণ কম রাখলে মুখের শুষ্কতা কমবে।
• খাওয়ার ১৫ থেকে ২০ মিনিট আগে এক গ্লাস পানি পান করা ভালো, যাতে শরীর প্রস্তুত থাকে। খাওয়ার পরও ১৫ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করে পানি বা ডাবের পানি গ্রহণ করা যেতে পারে।
• খাওয়ার সময় বা ঠিক পরে পানি পান করা উচিত না, এতে হজম প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং গ্যাস বা অম্বল হতে পারে।
• চিনিযুক্ত কোমল পানীয় বা অতিরিক্ত লবণযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলতে হবে। আর গরম আবহাওয়াতে এ ধরনের গুরুপাক খাবার কম খাওয়াই ভালো।
সচেতন খাদ্যাভ্যাসে স্বস্তি
খিচুড়ি খাওয়ার পর পিপাসা পাওয়া স্বাভাবিক শারীরিক প্রতিক্রিয়া, যা লবণ, মসলা ও হজম প্রক্রিয়ার ফল। সঠিক সময়ে পানি পানের অভ্যাস গড়ে তুললে খাবারের আনন্দ অক্ষুণ্ণ থাকে এবং শরীর হয় সতেজ।
আরটিভি/এসএস



