ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর ২০২৬, ২১ কার্তিক ১৪৩৩

রিচ ফুড খেলে বেশি বেশি পিপাসা পায়, কারণ কী

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:২১ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

খিচুড়ি, পোলাও, তেহারি বা বিরিয়ানির মতো ঐতিহ্যবাহী খাবারের স্বাদ অনেকের কাছেই অপ্রতিরোধ্য। মসলাদার সুবাস, নরম চাল-ডাল বা মাংসের মিশ্রণ আর সঙ্গে আচার বা সালাদ— এসব মিলে একটি পূর্ণাঙ্গ ভোজনের আনন্দ দেয়। তবে খাওয়া শেষ হওয়ার পরপরই অনেকের মুখ শুকিয়ে যায়, গলা কাঠ হয়ে আসে এবং বারবার পানি খেতে ইচ্ছে করে।

চিকিৎসকদের মতে, এই অভিজ্ঞতা স্বাভাবিক এবং প্রধানত খাবারের উপাদান ও হজম প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত।

পিপাসার প্রধান কারণ: খাবারের লবণ

পোলাও, বিরিয়ানি বা খিচুড়ি- এ ধরনের খাবারে সাধারণত পরিমিত থেকে বেশি লবণ ব্যবহার করা হয়, যাতে স্বাদ বাড়ে এবং খাবার সংরক্ষণ হয়। সঙ্গে যোগ হয় সালাদ, আচার বা অন্যান্য ‘সাইড ডিশ’ যাতে থাকে অতিরিক্ত লবণ।

খাওয়ার পর এই লবণ রক্তে প্রবেশ করে এবং রক্তের সোডিয়াম ঘনত্ব বাড়িয়ে তোলে। শরীরের স্বাভাবিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য কোষ থেকে পানি রক্তে চলে আসে, ফলে কোষগুলো আপেক্ষিক পানিশূন্যতায় ভোগে। মস্তিষ্ক এই অবস্থা সনাক্ত করে পিপাসার সংকেত পাঠায়, ফলে মুখ শুকিয়ে যায় এবং বারবার পানি খাওয়ার ইচ্ছা হয়।

মসলা ও হজম প্রক্রিয়ার ভূমিকা

খিচুড়িতে ব্যবহৃত নানান মসলা, যেমন- জিরা, দারুচিনি, এলাচ, লবঙ্গ, গরম মসলা যা মুখের ভেতরের শ্লেষ্মা ঝিল্লিকে উদ্দীপিত করে। এতে মুখের স্বাভাবিক ভেজা ভাব কমে যায় এবং অস্বস্তির অনুভূতি হয়, যা পিপাসার মতো লাগতে পারে। এছাড়া এসব খাবার গুরুপাক বা সহজপাচ্য নয়। হজম ও বিপাক প্রক্রিয়া দীর্ঘস্থায়ী হয়, যে জন্য শরীরে অতিরিক্ত পানির চাহিদা তৈরি হয়।

পাকস্থলী ও অন্ত্রে খাবার ভাঙতে পানি ব্যবহার হয়, ফলে সামগ্রিক পানির ভারসাম্য ব্যাহত হয় এবং পিপাসা বাড়ে।

সমাধান

• ঝোল-তরকারি, টক দইয়ের রায়তা বা লবণ কম দেওয়া সালাদ (শসা, টমেটো, লেটুস) খিচুড়ির সঙ্গে পরিবেশন করতে হবে। সালাদে লবণ একেবারে না দেওয়াই ভালো।

• ভুনা খিচুড়ির পরিবর্তে ল্যাটকা বা পাতলা খিচুড়ি রান্না করা যেতে পারে, যাতে পানির পরিমাণ বেশি থাকে এবং হজম সহজ হয়।

• মসলা ও তেলের পরিমাণ কম রাখলে মুখের শুষ্কতা কমবে।

• খাওয়ার ১৫ থেকে ২০ মিনিট আগে এক গ্লাস পানি পান করা ভালো, যাতে শরীর প্রস্তুত থাকে। খাওয়ার পরও ১৫ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করে পানি বা ডাবের পানি গ্রহণ করা যেতে পারে।

• খাওয়ার সময় বা ঠিক পরে পানি পান করা উচিত না, এতে হজম প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং গ্যাস বা অম্বল হতে পারে।

• চিনিযুক্ত কোমল পানীয় বা অতিরিক্ত লবণযুক্ত পানীয় এড়িয়ে চলতে হবে। আর গরম আবহাওয়াতে এ ধরনের গুরুপাক খাবার কম খাওয়াই ভালো।

আরও পড়ুন

সচেতন খাদ্যাভ্যাসে স্বস্তি

খিচুড়ি খাওয়ার পর পিপাসা পাওয়া স্বাভাবিক শারীরিক প্রতিক্রিয়া, যা লবণ, মসলা ও হজম প্রক্রিয়ার ফল। সঠিক সময়ে পানি পানের অভ্যাস গড়ে তুললে খাবারের আনন্দ অক্ষুণ্ণ থাকে এবং শরীর হয় সতেজ।

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
প্রতিদিনের ৫ অভ্যাসেই ক্ষতি হচ্ছে মেরুদণ্ডের!
দীর্ঘক্ষণ কম্পিউটারের সামনে বসে কাজ করা, অবসর সময়ে সোফায় গা এলিয়ে মুঠোফোন দেখা কিংবা শারীরিক পরিশ্রম না করা—আধুনিক জীবনে এমন অভ্যাস অনেকেরই।
প্রতিদিনের ৫ অভ্যাসেই ক্ষতি হচ্ছে মেরুদণ্ডের!
আজ ক্যান্ডি দিবস
ক্যান্ডি মানেই মিষ্টি স্বাদ আর শৈশবের রঙিন স্মৃতি।
আজ ক্যান্ডি দিবস
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
বর্তমান সময়ে আমাদের জীবনযাপনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে মোবাইল ফোন। ফোন ছাড়া একটি দিন কাটানোও এখন অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ফোন ছাড়া কিছু সময় থাকলেই কী যেন নেই, কী যেন নেই মনে হতে থাকে। অভ্যাসবশত অনেকে টয়লেটেও ফোন নিয়ে যান।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টয়লেটে ফোন নিয়ে যাওয়া বা টয়লেটে গিয়ে ফোন ব্যবহার করা মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস নয়। এই অভ্যাস আপনার অজান্তেই ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ। বিশেষ করে টয়লেটের কমোডে বসে মোবাইল ব্যবহার করা একদমই ঠিক নয়। এছাড়া ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি নিন্দনীয় ও অপছন্দনীয়। ওয়াশরুমে বসে মোবাইলে, অন্য কোনো মাধ্যমে বা সরাসরি কথাবার্তা বলা ইসলামী শিষ্টাচারের পরিপন্থী এবং মাকরূহ বা অপছন্দনীয় কাজ। ওয়াশরুম হলো অপবিত্রতা ত্যাগের স্থান, এখানে কথা বলা অনুচিত। তবে ওয়াশরুমে বসে থাকা অবস্থায় যদি বিশেষ কোনো প্রয়োজন দেখা দেয়, যেমন, ওয়াশরুমের পানি শেষ হয়ে গেল বা টিস্যু নেই এমন অবস্থায় সাহায্য নেওয়ার জন্য কাউকে ডেকে বলা যাবে। মূলত ওয়াশরুমে কথা বলা হারাম নয়, তবে বিষয়টিকে মাকরূহ বলা হয় এবং এ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু ওয়াশরুমে কথা বলার সময় খেয়াল রাখতে হবে, যেন আল্লাহ তায়ালার কোনো জাতি (সত্তা) বা সিফাতি (গুণবাচক) নাম, জিকিরের কোনো কালিমা কিংবা দোয়া, কোরআন, হাদিস বা এমন কোনো কাগজ যাতে আল্লাহর নাম, নবী বা ফেরেশতাদের নামের শব্দ উচ্চারণ করা যাবে না। আরটিভি/এসআর
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
হাড়ের গঠন ও শক্তি বজায় রাখতে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও পর্যাপ্ত প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব পুষ্টির ঘাটতি হলে হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে। বাড়তে পারে অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি।
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
সারাদিন মুঠোফোনের বার্তা, কাজের চাপ, বন্ধুদের সঙ্গে কথাবার্তা আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের জীবন দেখতে দেখতে ক্লান্ত? তাহলে আজ একটু বিরতি নিতেই পারেন।
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন