ওজন কমানোর জন্য ব্যবহৃত নতুন ধরনের ওষুধ নিয়ে এখন বিশ্বজুড়ে চলছে ব্যাপক আলোচনা। বিশেষ করে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ ও ওজন কমানোর জন্য ব্যবহৃত একটি ইনজেকশনভিত্তিক ওষুধকে ঘিরে সামনে এসেছে নতুন উদ্বেগ। গবেষকদের মতে, এই ওষুধ পুরুষদের যৌন স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে কিছু ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
চিকিৎসাবিজ্ঞানে যাকে বলা হচ্ছে গ্লুকাগন-লাইক পেপটাইড-১ ভিত্তিক ওষুধ। তা শরীরে ইনসুলিন নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করার পাশাপাশি ওজন কমাতেও কার্যকর। ফলে বিশ্বজুড়ে এর ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। তবে এর সঙ্গে কিছু পার্শ্বপ্রতিক্রিয়াও দেখা যাচ্ছে। যেমন বমি, ডায়রিয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য ইত্যাদি।
সম্প্রতি প্রকাশিত একটি গবেষণায় বলা হয়েছে, এই ওষুধ টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত পুরুষদের মধ্যে ইরেক্টাইল ডিসফাংশনের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। প্রায় দশ হাজারের বেশি রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, যারা এই ধরনের ওষুধ ব্যবহার করেছেন। তাদের মধ্যে তিন বছরের মধ্যে যৌন সমস্যার ঝুঁকি প্রায় ২৬ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।
গবেষকদের মতে, ডায়াবেটিসের কারণে এমনিতেই পুরুষদের যৌন সমস্যার ঝুঁকি বেশি থাকে। দীর্ঘদিন উচ্চ রক্তে শর্করার কারণে রক্তনালি ও স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যার ফলে যৌন কার্যক্ষমতায় প্রভাব পড়ে। এই অবস্থার সঙ্গে ওষুধের প্রভাব যুক্ত হলে ঝুঁকি আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, এই ওষুধ শরীরে হরমোন, রক্তপ্রবাহ এবং মস্তিষ্কের কিছু সংকেতেও পরিবর্তন আনতে পারে। যা যৌন ইচ্ছা ও ক্ষমতার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে এখনো নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না শুধুমাত্র এই ওষুধই সমস্যার মূল কারণ।
চিকিৎসকদের মতে, ওজন কমানোর ওষুধ কার্যকর হলেও তা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ব্যবহার করা উচিত নয়। কারণ শরীরের বিভিন্ন দিক বিবেচনায় না নিয়ে এসব ওষুধ গ্রহণ করলে ভবিষ্যতে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
সব মিলিয়ে, ওজন কমানোর এই ওষুধ যেমন উপকার দিচ্ছে। তেমনি এর সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়েও আরও গভীর গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
আরটিভি/জেএমএ



